শহরের বহুতল গুলো পরিবেশ সম্মত আর টেকসই হলেই সবুজ বাঁচবে -প্রফেসর নজরুল

প্রফেসর নজরুল ইসলামের জন্ম ১৯৪১ সালে শরীয়তপুর জেলায়। তিনি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান (২০০৭-২০১১)। অধ্যাপক ইসলাম একজন খ্যাতিমান ।ভূগোল ও পরিবেশবিদ, নগর বিশেষজ্ঞ, গবেষণা সংগঠক, শিক্ষাবিদ ও শিল্প সমালোচক। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের সাম্মানিক সদস্য। ভূগোল, পরিবেশ, নগরায়ণ ও শিল্পকলা বিষয়ে ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় তার গ্রন্থিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ সংখ্যা ২৩টি ও গবেষণা প্রবন্ধ সংখ্যা শতাধিক।

 

প্রশ্ন : পরিকল্পিত নগরায়ণ ও সবুজ নগরী গড়তে আমাদের বাধা কোথায়?

উত্তর: প্রথম বাধা হলো সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে। নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ঢাকার বেলায় রাজউক, চট্টগ্রামের বেলায় সিডিএ এবং খুলনার বেলায় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ।  মূলত এই শহরগুলো পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার মূল দায়িত্ব হলো এই প্রতিষ্ঠানগুলোর। এদের উপর আছে সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তার উপর আছে মন্ত্রিসভা ও তার উপর আছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব। একটি নগরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার জন্য এ ধরনের নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব এবং মেধা সঠিকভাবে পালন করবে কিনা তার উপর নির্ভর করে এর উন্নয়ন। খেয়াল রাখতে হবে সঠিকভাবে প্রত্যেকে দায়িত্ব পালন করছেন কিনা। যারা কাজ করছেন তারা নগর উন্নয়নের সমস্যাটাকে সমস্যা হিসেবে অনুধাবন করেন কিনা? এটা খেয়াল রাখতে হবে। তার আগে আসে পরিকল্পিতভাবে নগর উন্নয়নের ইচ্ছা তাদের আছে কিনা?

যদি ইচ্ছা থাকলেই একটি নগরী পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠতে পারবে। পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে উঠতে পারবে। শহর উন্নয়নের কতকগুলো মৌলিক উদ্দেশ্য থাকে, সেটা হলো জনকল্যাণে সমতাভিত্তিক উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন। যা তারা চিন্তা করেছেন কিনা এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন কিনা। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট, পরিকল্পিত নগরায়ণে বাধাটা মূলত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। মন্ত্রণালয় থেকে নগর কর্তৃপক্ষ । চারটি শহর বাদে রয়েছে পৌরসভা। পৌরসভার মেয়র তার এলাকার উন্নয়ন কতটুকু চান? মেয়রের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে কতটুকু উন্নয়ন হবে তার পৌরসভায়।

অতএব আমরা বুঝতে পারি, সঠিক উপলব্ধি, নেতৃত্ব, অঙ্গীকার, ইচ্ছা ও বাস্তবায়ন নগরায়ণের জন্য গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা। শহরে যারা বসবাস করেন তাদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তবেই একটি শহরের উন্নয়ন সম্ভব। কারো একার পক্ষে এর উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।

প্রশ্ন : তার মানে আপনি বলছেন শহরের উন্নয়নে নাগরিকের অনেক দায়িত্ব ও কাজ রয়েছে?

উত্তর: হ্যাঁ। উন্নয়নের স্বপ্ন যখন আপনি দেখবেন তখন তা অন্যকে বলতে হবে এবং বাস্তবায়নে অন্যকে সাহায্য করতে হবে। স্বপ্নটা তারা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য পর্যায়ক্রমে অগ্রসর হতে না পারলে যেভাবে সমাধান করা যায় তা বলতে হবে। আর একটা হলো, সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও কী ধরনের শহর চাই, পরিকল্পিত শহর কেমন হতে পারে তার একটা মডেল দেওয়া যেতে পারে।

 

আমার ক্ষমতা আছে, আমার বাড়ির একটা প্লান করতে পারার। আমাদের পাড়ার ২০০ পরিবার একসাথে হলে আমরা পাড়ার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারি। এভাবে সারাদেশে উন্নয়নের জন্য একত্র হয়ে আমাদের চাহিদার কথা সরকারকে বলতে পারি। আমরা সরকারকে কাজ বাস্তবায়নের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে পারি।

প্রশ্ন : সবুজ নগরী করতে কী করা যেতে পারে?

উত্তর: যেখানেই শহর হোক না কেন তা হতে হবে পরিবেশবান্ধব। হতে হবে সামাজিক ন্যয়বিচারভিত্তিক। সবার জন্য সমান না হোক হতে হবে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য। অন্যটি হলো, সবুজ নগরী মানে পরিবেশবান্ধব নগরী। কোনো দেশে সবুজ নগরী করা সহজ নয়, বিশেষ করে তারা যদি গরিব হয়। কিন্তু সৌদি আরবের মতো তারা যদি ধনী হয়, তা হলে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে তারা গাছপালা লাগাতে পারে। আমাদের বেলায় সবুজ নগরী করা খুবই সহজ। আমাদের দেশ সবুজ। শহরের কিছু অংশ ছাড়া আমাদের পুরো গ্রামটাই সবুজ। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই আমরা পেয়েছি এই সবুজ দেশ। এখনো শহর পুরোপুরি সবুজ হতে পারে। বাংলাদেশের বড় বড় শহর এখনো সবুজ। রাজশাহী ও কুষ্টিয়া দুটি সবুজের উদাহরণ। এ দেশে সবুজ নগরী করা সহজ। আমাদের দেশে গাছপালা অযত্নেও বাড়তে পারে, না লাগালেও হয়ে যায়।

প্রশ্ন : তা হলে সবুজ নগরী করতে বাধাটা কোথায়?

উত্তর: ঐ যে বললাম। ইচ্ছাটা হলো আমাদের বাধা। সবুজ নগরী করার পরিকল্পনাটা যদি না থাকে তা হলেই বাধা। আমাদের যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে সে পরিকল্পনায় একটি বিভাগ থাকবে সবুজায়ন নিয়ে। সেখানে একটি মডেল থাকবে। মডেল যেভাবে থাকবে, সেভাবে কাজ চলবে। এটা থাকলে বাকি থাকে বাস্তবায়ন। কাজ শুরু হলে কোনো কিছু থেমে থাকে না। নিয়ম করে বাড়িতে, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে আমরা সবুজায়নের জন্য কাজ করতে পারি।

প্রশ্ন : সবুজ নগরীর পাশে জলাধার কি জরুরী না?

উত্তর: হ্যাঁ। সবুজ হলে আর একটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে; সেটি হলো পানি। এটা পরিবেশের বেলায় নীল। এখন স্লোগান চলে এসেছে সবুজ বাংলাদেশ-নীল বাংলাদেশ। এখন আমরা সবুজ ও নীল বাংলাদেশ। শহরে থাকতে হলে নীল দরকার। অর্থাৎ প্রয়োজন পানি, জলাশয়ের পরিকল্পনা এবং জলাশয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা। সেখানে অনেক কাজ করা বাকি রয়েছে আমাদের।

 

প্রশ্ন : আমাদের দেশের জন্য কত ভাগ সবুজ প্রয়োজন?

উত্তর: অনেকেই বলে ২৫ ভাগ বনায়ন থাকতে হবে। সৌদি আরবের আছে কত ভাগ? পাকিস্তানের আছে কত ভাগ? তা হলে ২৫ ভাগ কাদের জন্য প্রযোজ্য? ২৫ ভাগ আমাদের মতো দেশের জন্য প্রযোজ্য। বৃষ্টিবহুল দেশ। এটাকে বলে আর্দ্র ক্রান্তীয় এলাকা। আমরাও কর্কট ক্রান্তীয় এলাকার। সৌদি আরব ওরা হলো মরুভূমি এলাকার। গ্রামে ২৫ ভাগ জনপদ বাকি সব সবুজ। আমাকে শুধু সবুজ শ্যামল ভাবলে চলবে না। অধিক সবুজ করতে পরিকল্পনা নিতে হবে। এই অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রয়োজনে আইন বাস্ত্মবায়নের জন্য কাজ করতে হবে।

প্রশ্ন : নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন, এর প্রভাব সম্পর্কে বলবেন? এটিকে আরো পরিকল্পিত করতে কী করা যায়?

উত্তর: এক থেকে পাঁচ তলা পর্যর্ন্ত হেটে ওঠা যায়। পাঁচ থেকে নয় তলা পর্যন্ত ভবনে উঠতে গেলে প্রয়োজন হয় লিফটের। লিফট ব্যবহার হলেও এটাকে বহুতল ভবনের আওতায় আনা যায় না। বহুতল ভবন বলতে নয় তলার উপরে সর্বোচ্চ যত করা যায়। বাংলাদেশে যেমন সিটি সেন্টার রয়েছে, এটা ৩৪ তলা। এটাকে বহুতল ভবন বলতে পারেন। পৃথিবীর বহু দেশে বহুতল ভবন রয়েছে। উন্নত অনেক দেশ রয়েছে, যাদের অনেক জায়গা আছে। তার পরও তারা এটা করছে। বহুতল ভবন না করে পারা গেলে ভালো হতো। আমাদের প্রয়োজনে করতে হচ্ছে। কারণ আমরা মনে করছি অল্প জায়গায় বেশি লোকের থাকার সুযোগ করে দেওয়া। আর এর জন্য সবচেয়ে উত্তম উপায় হচ্ছে বহুতল ভবন। এগুলো নির্মাণের চেয়ে ভালো কোনো পন্থা আমাদের কাছে নেই। বিশাল জনবসতিকে আবাসনের নিশ্চয়তা দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয় করতে দেওয়া, শিল্প কলকারখানা ও ব্যবসায়ের পরিবেশ দেওয়ার জন্য আমাদের বহুতল ভবন নির্মাণের দিকে যেতে হচ্ছে। প্রয়োজন বাধ্য করছে। তবে এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। তা না হলে আমাদের বহুতল ভবন করলে তা ভালো হবে না। বাড়বে বিড়ম্বনা। বহুতল ভবণ নির্মাণের ‌এক্ষেত্রে পরিবেশের দিকটি সবচেয়ে বেশি গুরম্নত্ব দিতে হবে। সবুজ বেশি রেখে বহুতল ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে।

 

20130526-Rajib-161_0

প্রশ্ন : উন্নত দেশের মতো পরিকল্পিত নগরায়ণ করার সুযোগ কী আমাদের হাতে আছে?

উত্তর: উন্নত দেশ আর উন্নত পরিকল্পনা সব দেশের জন্য এক। প্রয়োজন আমাদের ইচ্ছার। ইচ্ছা প্রকাশ করতে হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনা রাশিয়াতে যা, আমাদের দেশেও তা-ই। আমাদের সুচিন্ত্মিতভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। আর্থ-সামাজিক দিক বিবেচনা করে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে শহরকে। পরিকল্পিত শহর করতে হলে মিশ্র পরিকল্পনা গ্রহণ করা ভালো। ঢাকার প্রথম দিককার পরিকল্পনা এমন ছিল। পরবর্তীতে বদলে গেছে। এখন বড় লোকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট এলাকা আর গরিবদের জন্য আলাদা এলাকা। এটা ভালো টেকসই পরিকল্পনা হতে পারে না। গ্রামে দেখবেন আপনাআপনি মিশ্র পরিকল্পনায় গড়ে উঠেছে। একজন ধনী, তার পাশে পাঁচটি গরিব পরিবার বসবাস করছে। ধনীরা নানা কাজে এই লোকগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে। তাদেরও কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এটা হওয়া উচিত। এটি একটি টেকসই পরিকল্পনা বলতে পারি। ভেদাভেদ ভুলে কাজ করতে হবে।

 

প্রশ্ন : সড়ক পরিকল্পনাটা কেমন হবে?

উত্তর: বলা হচ্ছে, শহরের ২৫ ভাগ রাস্তা প্রয়োজন। কেন? আমাদের এই জনবহুল শহরের যেখানে সামান্য কয়েকভাগ লোক গাড়ি চড়ে তাদের এই কম সংখ্যক লোকের জন্য কেন ২৫ ভাগ স্থান ছাড়তে হবে। এটা আমেরিকার জন্য ঠিক আছে। সেখানে সবাই গাড়িতে চড়ে। আর আমাদের দেশের সবাই হেঁটে আর বাসে চড়ে। এটা মাথায় রাখতে হবে। আমাদের দেশে গাড়ি নেই। আমরা কেন এত জায়গা রাখব? আমাদের প্রয়োজনের মতো করে আইন তৈরি করব। হাঁটার জন্য প্রচুর স্থান থাকবে। মনে রাখতে হবে সবার জন্য সড়ক। সবার জন্য শহর। অগ্রাধিকার পাবে নিম্নবিত্ত। নিম্নবিত্তের জন্য সুযোগ দিতে হবে। কাজ করতে হবে আগে। আমাদের দেশে কোটি কোটি টাকা খরচ করে ফ্লাইওভার নির্মাণ না করে নিয়ম পালনের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান খোঁজা উচিত ছিল। রাস্তার বাস নিয়ম মতো পরিচালনা করা বেশি জরুরী ছিল। ঢাকা শহরের কত ভাগ লোকের গাড়ি আছে? যাদের জন্য আমাদের টাকা খরচ করতে হবে।

 

[su_quote] রাজউক গরিবের চিন্তা করে না। সে বলে আমাকে তো গরিবের জন্য কাজ করতে বলা হয়নি।[/su_quote]

প্রশ্ন : শহরের পরিকল্পনাটা সাধারণত ধনীদের জন্য হয়ে থাকে…

উত্তর: তা হয়ে থাকে। তবে দরিদ্রদেরও তো অধিকার রয়েছে এ শহরে থাকার। ধনীর যে অধিকার একজন গরিবেরও সেই অধিকার রয়েছে। আমরা তার অধিকারটাকে খর্ব করেছি। তাকে বঞ্চিত করেছি। বঞ্চিত নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য অগ্রাধিকার দেবে শহর, সবার জন্য শহর, সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য শহর। পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে একটি উন্নয়ন পরিকল্পনায় আনা প্রয়োজন। এর নাম শহর উন্নয়ন। রাজউক গরিবের চিন্তা করে না। সে বলে আমাকে তো গরিবের জন্য কাজ করতে বলা হয়নি। আমি কেন গরিবের জন্য কাজ করব। গরিবের  করবে অন্যরা। আমার কথায় কেন তা করবে। যে শহরের কর্তৃপক্ষ সে সবার কথা চিন্তা করবে। রাজউকের চিন্তা চেতনা সব কিছু একটি ছোট্ট গোষ্ঠীর জন্য। ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীর স্বার্থে হলে শহর চলবে না। দেশ চলবে না। একটি নিম্ন শ্রেণীর কর্মচারী কেন রাজউকের বরাদ্দকৃত জমি বা প্লট পাবে না। এটা তো হতে পারে না। দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করতে হবে। গণতান্ত্রিক হতে হবে। ক্ষদ্র জনগোষ্ঠীর স্বার্থ অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবেই আমাদের মাঝখান থেকে বৈষম্য দূর হবে।

প্রশ্ন : পরিকল্পিত শহরের জন্য পরিকল্পনার গুরত্ব সম্পর্কে বলুন?

উত্তর: যে কোনো দেশের নগর উন্নয়নের জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাটাকে বিভিন্ন ফেজে ভাগ করা হয় এবং সে মোতাবেক বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। ১৯৫৯ সালে প্রথম মাস্টার প্লান করা হয় বাংলাদেশে। ১৯৭১ সালে এসে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নতুন সরকার নতুনভাবে কাজ শুরম্ন করে। আগের প্রকল্প বাতিল হয়ে যায়। এর পর বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এটি আলোর মুখ আজো দেখতে পারেনি।

প্রশ্ন : সরকার কেন এটি বাস্তবায়ন করতে পারছে না?

উত্তর: দুর্বল সরকার এবং শক্তিশালী প্রাইভেট সেক্টর, এই বিষয়টার জন্য হচ্ছে না। এটির মূল কারণ আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনার বাধা। এই দুই কারণে প্রতিদিন অচল হয়ে যাচ্ছে রাজধানী। আমাদের দেশের ধনীরা নিয়ম ভঙ্গ করে। গরিবরাও করে। গরিবরা রাস্তার পাশে ঘর করছে, দোকান করছে। আস্তে আস্তে বেশি সংখ্যক গরিব একসাথে হয়ে দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে সেই জায়গার। আর ধনীরা নদী ভরাট করছে। বিক্রি করছে সরকারি জমি। যার যা ইচ্ছা তা-ই করছে। ছোট ছোট গরিব একসাথে বড় শক্তি হয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে সরকার কিছু বলতে গেলে সিভিল সোসাইটি যোগ হয়। নিয়ম মানার প্রবণতা আমাদের নেই। শহরের যানজট নিরসনে মেট্রোরেল প্রকল্প হয়েছিল। দুই পক্ষের বাধার কারণে হলো না। বাস্তবে কারো শক্ত কোনো যুক্তি ছিল না। সরকার কাকে সন্তুষ্ট করবে আর কাকে কষ্ট দেবে। এর চেয়ে বন্ধ থাক প্রকল্প। শহর জাহান্নামে যাক। আমাদের পরিকল্পনায় কোনো দুর্বলতা নেই। যা আছে তা পরিবর্তন করা যায়। অনেক ভালো পস্নান রয়েছে। প্রতি পাঁচ বছর পর পর রিভিউ করতে হবে। বিশ বছরের পুরনোটার বাস্ত্মবায়ন শুরম্ন করতে পারিনি আজো। দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। একটি নগর উন্নয়ন কমিটি আছে, সেটাকে শক্তিশালী করতে হবে। ড্যাপ কার্যকর করতে হবে। প্লানের মৌলিক দুর্বলতা থাকলে তা উত্তরণও করা যায়।

 

প্রশ্ন : এ মুহূর্তে ঢাকাকে বসবাস উপযোগী করতে কী কী করা যেতে পারে?

উত্তর: সাধারণ মানুয়কে আইন মেনে চলা শিখতে হবে। সিটি কর্পোরেশন, রাজউক, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও ট্রাফিক বিভাগ প্রত্যেককে চাপ প্রয়োগ করে আইন মানতে শেখাবে। পরিবেশ অধিদফতর পরিবেশের জন্য হুমকি এমন কিছু হলে তা সাথে সাথে প্রতিহত করবে। এই কাজ করতে সিভিল সোসাইটির সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। সেটা থাকতে হবে। আমরা যেমন পরিবেশ আন্দোলন করছি। অনবরত চাপে রাখছি সরকারকে। একটা চাপ, পরিবেশ নিয়ে কোনো ঝামেলা হলে বেলা তার কাজ সাথে সাথে শুরম্ন করে দিচ্ছে। সোজা গিয়ে প্রয়োজনে মামলা ঠুকে দিচ্ছে। ব্যক্তির দায়িত্ব হলো আইন মেনে চলা। সরকারের দায়িত্ব হলো আইন প্রয়োগ করা। এটি হলে এখন একটি বসবাস উপযোগী শহরের দিকে আমরা অগ্রসর হতে পারি। কিন্তু তা কি হচ্ছে?

প্রশ্ন : পরিবেশের উপর হুমকি স্বরূপ কিছু হলে সাধারণ মানুষ কী করবে?

উত্তর: প্রতিবাদ করবে, প্রয়োজন হলে বাপার কাছে যাবে, বেলার কাছে যাবে। আপনাকে ওখানে যেতেই হবে। পুরনো কথা আছে, অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করো, প্রতিবাদ না করতে পারলে তাকে মনে মনে ঘৃণা করো। একটি প্রত্যক্ষে প্রতিবাদ আর একটি পরোক্ষ প্রতিবাদ। কিছু একটা আমাদের করতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি আওয়াজ তুলতে হবে। যে কোনোভাবে এই কাজটি শুরু হলে আমরা অন্যায় থেকে মুক্তি পেতে পারি।

Anis

সাক্ষাৎকার: আনিস রহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top