চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা দুরকরনের প্রকল্প অনুমোদন

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা, ২৪ জুন: অবশেষে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) , “বহদ্দারহাট বারইপাড়া হতে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন” শীর্ষক প্রকল্পটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৪ হতে জুন ২০১৬ পর্যন্ত। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এপ্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম শহরে বর্ষাকালে দ্রুত বৃষ্টির পানি অপসারণের জন্য শহরের খালগুলো পুনর্বাসন এবং কিছু নতুন খাল খনন করা হবে। এছাড়া পানি ধরে রাখার জন্য কিছু পুকুর খনন করা হবে।

 পরিকল্পনা মন্ত্রী, আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেন,  ‘এ প্রকল্পের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম শহরে ২.৯কি. মি. দৈর্ঘ্য ও ৬৫ ফুট প্রস্থ খাল খনন করা হবে। এছাড়া খালের উভয় পাশে ২০ ফুট প্রস্থের রাস্তা নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। যাতে যান চলাচলসহ খালটি সহজে পরিষ্কার এবং আশেপাশের যানজট দূর করা যায়।’মঙ্গলবার সকালে পরিকল্পনামন্ত্রণালয়ে একনেকের নিয়মিত সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।

ভারী বর্ষনে ডুবে গেছে নগরীর অনেক এলাকা। ছবি- সংগ্রীহিত

ভারী বর্ষনে ডুবে গেছে নগরীর অনেক এলাকা। ছবি- সংগ্রীহিত

যদিও বর্ষায় চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা দুরীকরণে করনীয় অনেক কিছুই এখনো শুরু হয়নি। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, এখানে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বআরোপ করেন যা কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ বরাদ্দ ছাড়া কোন ভাবেই সম্ভব নয়। চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় ৬০ লাখ বাসিন্দার বড় একটি অংশকে প্রতিবছর বর্ষায় জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম মহানগরীর মাস্টার প্ল্যানের সাথে সাথে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান ও নেয়া হয়েছে।২০ বছর মেয়াদী ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হচ্ছে।এই মাস্টার প্ল্যানে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের পরিকল্পনা থাকলে ও কোন সংস্থাই তাবাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি। ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী কয়েকটি প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি খাল খননের কথা বলা হয়েছে। একই ভাবে নগরীতে পানি ধরে রাখার জন্য জলাধার তৈরি এবং ১৪৪ কিলোমিটার নালা- নর্দমা ও খালের কথা বলা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ২০১২ সালে বহদ্দারহাট বাড়ই পাড়া হতে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত ২৯৫ কোটি টাকার খাল খননের প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

 এর আগে,সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এম মনজুর আলম তার বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন চট্টগ্রামের প্রাণের দাবি। তিনি দলমত নির্বিশেষে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানবাস্তবায়নে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি সরকারের নিকট এখাতে বরাদ্দ প্রদানের দাবি জানান। তিনি বলেন,১০০মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে কর্পোরেশনের বর্তমান ড্রেনেজ সিস্টেমে কোন ভাবেই জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়।

 আজকের সভায়  এটি ছাড়া্ও আরো ২টি সহ মোট ৫০৩কোটি৮৬লাখটাকারতিন টি প্রকল্প আজ অনুমোদন পেয়েছে। মুস্তাফা কামাল জানান, মোট প্রকল্প বরাদ্দের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪শ ২৭ কোটি ১২ লক্ষ টাকা ও সংস্থার নিজস্ব তহবিলের পরিমাণ থাকবে ৭৬ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা। ৩টি প্রকল্পই নতুন প্রকল্প। প্রকল্প ৩টির মধ্যে একটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ও বাকি ২টি সরকারি ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। দ্বিতীয় প্রকল্পটি হলো, “কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি সংগ্রহ” শীর্ষক প্রকল্প। ৮৭ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৪ হতে জুন ২০১৬ পর্যন্ত। কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি ক্রয়ের মাধ্যমে বন্দর ব্যবহারকারীদের দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সেবা প্রদান ও মংলা বন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

 সর্বশেষ প্রকল্পটি হলো, “পাগলা-জগন্নাথপুর-রাণীগঞ্জ-আউশকান্দি মহাসড়কের রাণীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর উপর সেতু নির্মাণ” প্রকল্প। ১শ ২৬ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হবে এ প্রকল্পটিতে। সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে সড়ক বিভাগের আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জুলাই ২০১৪ হতে জুন ২০১৮ পর্যন্ত।

 বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ. মান্নানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদন

Comments