সবুজ শিল্পায়নে কিছু প্রস্তাবনা

 

সবুজ শিল্পায়নের আওতায় যেকোনো শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে কাঁচামাল হিসেবে বৃক্ষ ও কাঠের ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করা হবে। প্রয়োজনে বৃক্ষ বা কাঠভিত্তিক প্রচলিত ধারার শিল্পের পরিবের্তে এসবের বিকল্প উপায় অনুসন্ধান করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ: কাগজ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে মন্ড- প্রস্তুতের জন্য যেহেতু বিভিন্ন বৃক্ষ বা গাছ ব্যবহার করতে হয়, সেহেতু বৃক্ষভিত্তিক কাগজ শিল্পের বিকল্প হিসেবে কাগজের পরিবর্তে অনলাইন পত্র যোগাযোগ ব্যবস্থাকে জোরদার করতে হবে। -আবু তাহের খান, পরিচালক, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন

 

পরিবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যে নিপতিত হয়ে আছে এবং এ ক্ষেত্রে বর্তমান অধঃগতির ধারা অব্যাহত থাকলে নিকট ভবিষ্যতে কত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি কোথায় যেয়ে দাঁড়াতে পারে, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গবেষণা জার্নাল ও পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন ধরনের মতামত ও পূর্বাভাস প্রকাশিত হয়েছে ও হচ্ছে। এসব মতামত ও পূর্বাভাসের সারকথা হচ্ছে যে, পরিবেশ বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বর্তমানে একটি খুবই বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায়, বাংলাদেশ যদি পরিবেশ রক্ষায় তার নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা ব্যাপকভাবে জোরদার করতে না পারে, তাহলে এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতির আরো দ্রুত অবনতি ঘটার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টিকে উপলদ্ধি করার পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে এটাও মনে রাখা দরকার যে, এ নিয়ন্ত্রণ আরোপের কাজটি করা প্রয়োজন সম্ভব দ্রুততম সময়ের মধ্যে। কারণ, এ ক্ষেত্রে   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেটিকে পুনরম্নদ্ধারের জন্য যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে, তা বিনিয়োগের সামর্থ বাংলাদেশের নেই। ফলে সে রকম বড় ধরনের কোনো পরিবেশ বিপর্যয় যাতে না ঘটে, তজ্জন্য সে রকমটি ঘটে যাওয়ার আগেই এ ক্ষেত্রে আরো ব্যাপকভিত্তিক সতর্কতামূলক ও নিয়ন্ত্রণধর্মী ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।

maxresdefault সামগ্রিক বিশ্বঅর্থনীতির গতিধারার তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও যথেষ্ট উচ্চ হারে বিকশিত হচ্ছে। এর সুনির্দিষ্ট বস্তুগত অর্থ হচ্ছে যে, এর অর্থনীতির বিভিন্ন বিকশমান খাতগুলোর মধ্যে ক্রমেই বড় হয়ে ওঠছে শিল্প তথা ম্যানুফ্যাকচারিং খাত, যার পদে পদে রয়েছে পরিবেশ ঝুঁকির আশঙ্কা। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারকে দ্রম্নত ও উচ্চতর করতে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতকে বিকশিত করার বিপরীতে দেশের পরিবেশের ক্ষেত্রে তে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি বা বিপর্যয় নেমে না আসে, সংশিস্নষ্ট সকলকে এখনই সে দিকটির প্রতি যথেষ্ট দৃষ্টি ও মনোযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কঠোর ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা ও উদ্যোগ নিয়ে এগুতে হবে। নইলে উচ্চতর প্রবৃদ্ধির ধারায় দেশের অর্থনীতি যতটুকু সমৃদ্ধি পাবে, পরিবেশের ক্ষতির মধ্য দিয়ে তারচেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে, যা লাভের সব অর্থ দিয়েও পরে আর পুনরম্নদ্ধার করা সম্ভব হবে না।

 বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক (বস্তুতঃ এর গভর্নর ড. আতিউর রহমান) সবুজ ব্যাংকিংয়ের আহ্বান জানিয়েছে এবং এ ব্যাপারে বেশকিছু কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সবুজ ব্যাংকিংয়ের সূত্র ধরেই দেশে এখন থেকে ব্যাপক পরিসরে সবুজ শিল্পায়ন কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তাব করছি, যার মূল লক্ষ হবে পরিবেশকে বাঁচিয়ে শিল্পায়নকে এগিয়ে নেওয়া। সবুজ শিল্পায়নের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে থাকবে :

এক. এটি কোনোভাবেই মৃত্তিকা, প্রাণী, বৃক্ষ, বায়ু, পানি ও সর্বোপরি কোনোরূপ ক্ষতি সাধন করবে না। আর সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও যদি একান্তই কোনো ক্ষতি হয়ে যায়, তাহলে শিল্প সংক্রান্ত কার্যক্রম চলার পাশাপাশি সংশিস্নষ্ট ক্ষতির জন্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাও একই কার্যক্রমের আওতায় অন্ত্মর্ভুক্ত থাকবে।

দুই : সবুজ শিল্পায়নের আওতায় যেকোনো শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে কাঁচামাল হিসেবে বৃক্ষ ও কাঠের ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করা হবে। প্রয়োজনে বৃক্ষ বা কাঠভিত্তিক প্রচলিত ধারার শিল্পের পরিবের্তে এসবের বিকল্প উপায় অনুসন্ধান করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ: কাগজ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে মন্ড- প্রস্তুতের জন্য যেহেতু বিভিন্ন বৃক্ষ বা গাছ ব্যবহার করতে হয়, সেহেতু বৃক্ষভিত্তিক কাগজ শিল্পের বিকল্প হিসেবে কাগজের পরিবর্তে অনলাইন পত্র যোগাযোগ ব্যবস্থাকে জোরদার করতে হবে। এতে করে একদিকে যেমন বৃক্ষ নিধন হ্রাস পাবে, অন্যদিকে তেমনি এ যোগাযোগ ব্যবস্থায় আর্থিক ব্যয়ও অনেকখানি কমে আসবে এবং এতে সময়েরও ব্যাপক সাশ্রয় হবে।

 কাঠভিত্তিক শিল্পকে নিরম্নৎসাহিত করার আরো একটি উদাহারণ দেয়া যেতে পারে। প্রচলিত ধাচের ইটাভাটা, ধানের চাতাল, আখ মাড়াই কল প্রভৃতি যেসব শিল্পে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার হয়ে থাকে, সেসব শিল্পকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং এসব শিল্পের উদ্যোক্তাদেরকে কাঠের পরিবর্তে বিকল্প জ্বালনি ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করতে হবে। বন বা গাছগাছালি রয়েছে এরূপ স্থান থেকে গাছ কেটে শিল্প স্থাপনের প্রস্ত্মাবকেও একইভাবে কঠোরতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, একটি দেশের মোট আয়তনের ন্যূনতম ২৫ শতাংশ যেখানে বনাঞ্চল থাকা উচিৎ, সেখানে বাংলাদেশের তা রয়েছে মাত্র ৭ শতাংশ।

 তিন : জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি সহায়তাদান কার্যক্রমেও সবুজ শিল্পায়নের গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। এটি খুবই জানা তথ্য যে, চালের গায়ে ‘কুড়া’ নামক যে লালচে আভরণ থাকে, বিদ্যুৎ চালিত চালকলে ধান মাড়াই করতে যেয়ে সেটি আর অÿত থাকে না। অথচ এই কুড়া শরীরের জন্য একটি খুবই প্রয়োজনীয় ও গুরম্নত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যার অভাবে বেরিবেরি ও অন্যান্য রোগব্যাধি সৃষ্টি হতে পারে। অতএব বুঝাই যাচ্ছে যে, বাজার থেকে আমরা কলভাঙ্গা যে ঝলমলে রংয়ের চাল কিনে খাই, প্রতিনিয়ত তার পরিবর্তে যদি ঢেঁকিছাটা চাল খাওয়ার সুযোগ থাকতো, তাহলে সেটি আমাদের মতো ব্যাপক পুষ্টি ঘাটতির এই দেশে সাধারণ মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে অনেকখানি সহায়ক হতে পারতো।

 ঢাকার রাস্তায় সিমেন্টের বিজ্ঞাপনএ অবস্থায়, পলস্নী অঞ্চলে ধান মাড়াইয়ের ক্ষেত্রে ঢেঁকিছাটা প্রচলন ফিরিয়ে আনা যায় কিনা, সেটি বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবতই প্রশ্ন ওঠতে পারে যে, ঢেঁকিতে ধান ভানতে যে কায়িক শ্রম প্রয়োজন, সেটি যথেষ্ট মানবিক কিনা। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে চিন্ত্মাভাবনা করে দেখা গেছে যে, প্রচলিত ধাচের ঢেঁকিকে কিছুটা উন্নত করে সেটির ওঠানামার জন্য কায়িক শ্রমের পরিবর্তে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। আর তা করা গেলে এ ক্ষেত্রে ঢেঁকির উৎপাদনশীলতা যেমনি বহুলাংশে বেড়ে যাবে, তেমনি এ ক্ষেত্রে থেকে কায়িক শ্রমের বিষয়টিও অনেকাংশ হ্রাস করা সম্ভব হবে।

চার : সবুজ শিল্পায়নের আওতায় উচ্চ দূষণযুক্ত শিল্প স্থাপনকে কঠোরভাবে নিরম্নৎসাহিত করতে হবে। সে ক্ষেত্রে  ঐসব দূষণযুক্ত শিল্পের পণ্যাদি নিজেরা উৎপাদন না করে বিদেশ থেকে আমদানির ব্যবস্থা করতে হবে। ব্রিটেন যেমন উচ্চতর শ্রমব্যয় সাশ্রয়ের জন্য সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নিজেরা পর্যাপ্ত চিনি উৎপাদন না করে বিশেষ সহযোগিতাদানের বিনিময়ে তা কেনিয়া ও ব্রাজিল থেকে আমদানি করে থাকে, নিজেদের পরিবেশের স্বার্থে বাংলাদেশকেও তেমনি শিল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনুরূপ কৌশলী হতে হবে।

 পাঁচ : পাট ও এ জাতীয় প্রাকৃতিক তন্তুভিত্তিক শিল্প স্থাপনকে উৎসাহদান হবে সবুজ শিল্পায়নের আরেকটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এটি যে শুধু পলিথিন ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিকের মাধ্যমে সৃষ্ট দূষণের হাত থেকে বাংলাদেশের মৃত্তিকা, পানি ও বায়ুকে রক্ষা করবে তাই নয়। একইসঙ্গে তা পাটের পুনরম্নজ্জীবন ও রফতানি সম্ভাবনাকেও বাড়িয়ে তুলবে। উলেস্নখ্য যে, সারা পৃথিবীতেই এখন পাটের ন্যায় প্রাকৃতিক আঁশজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে এখন সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তেমন উলেস্নখযোগ্য কোনো অগ্রগতি সাধন করতে পারছে না। বিষয়টি আরো গভীরভাবে ভেবে ও তলিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষতঃ পাটজাত পণ্যের আর কী কী ধরনের কার্যকর বহুমুখীকরণ হতে পারে, সংশিস্নষ্ট গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলো সে বিষয়ে আরো মনোযোগের সাথে তাদের চিন্ত্মাভাবনা প্রয়োগ করে দেখতে পারে।

 ছয় : নৌপথে কাঁচামাল ও পণ্য সরবরাহকরণ এবং পানি সংগ্রহ ব্যবস্থার সুবিধার্থে এক সময় নদনদী ও প্রবাহমান জলাধারের তীরবর্তী স্থানে শিল্প স্থাপনের ধারণাকে উৎসাহিত করা হতো। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি খাতের অধিকাংশ পাট ও বস্ত্রকল, সার কারখানা এবং অন্যান্য ভারী শিল্পই নদী তীরবর্তী স্থানে গড়ে ওঠেছে। আর নদী দূষণের জন্য এই শিল্প-কারখানাগুলোই এখন সবচেয়ে বেশি দায়ী। অতএব সবুজ শিল্পায়নের আওতায় নদী ও প্রবাহমান প্রাকৃতিক জলাধারের পাশে শিল্প স্থাপনকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিল্প-কারখানার অনুমোদন দানকারী রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে (যথা-বিনিয়োগ বোর্ড এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন-বিসিক) আরো যত্নবান ও সতর্ক হতে হবে। বেপজা কর্তৃক নতুন ইপিজেড স্থাপনের ক্ষেত্রে কিংবা বিসিক কর্তৃক নতুন শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে  এ নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলা প্রয়োজন।

 সাত : জীবজন্তু, পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল উচ্ছেদ করে বা তাদের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্থ হয় এরূপ কোনো শিল্পের ধারণাকে সবুজ শিল্পায়নের আওতায় সমর্থন করা যাবে না। এমনকি শিল্প স্থাপনের পর ঐসব প্রাণীর বসবাস ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকলে সেটিকেও নিরম্নৎসাহিত করতে হবে। সুন্দরবন, ভাওয়ালের গড়, মধুপুরের গড় প্রভৃতি বৃহৎ বনাঞ্চল আজ যেসব কারণে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়েছে, তন্মধ্যে ঐসব এলাকায় অপরিকল্পিত শিল্পায়ন অন্যতম।

এখন কথা হচ্ছে, সবুজ শিল্পায়নকে কিভাবে উৎসাহিত ও জোরদার করা যাবে? এ ক্ষেপ্রথম কথা হচ্ছে যে, এ ক্ষেত্রে বিষয়টিকে শুধু আহ্বানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলেই চলবে না। দ্বিতীয়ত: শিল্প-কারখানাটি স্থাপিত হয়ে যাবার পর পরিবেশ সংরক্ষণমূক পরিধারণ ও পরিদর্শনমূলক কার্যক্রম জোরদার করার প্রচলিত রেওয়াজ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পরিবেশকে দূষণযুক্ত শিল্পের হাত থেকে রক্ষা করতে চাইলে শিল্প স্থাপনের আগেই তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

কোন্‌ কোন্‌ শিল্প স্থাপন করলে তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হবেনা বা তা দূষণরোধে সহায়ক হবে, সে সংক্রান্ত্ম আনুষঙ্গিক তথ্যাদি ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে বিসিক, বিনিয়োগ বোডဃ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশিস্নষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মিলে পরিবেশবান্ধব শিল্পের একটি তালিকা প্রণয়ন করা যেতে পারে। অতঃপর সে তালিকার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ সহায়তাদানের জন্য তা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও অন্যান্য অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিকট পাঠানো যেতে পারে। অন্যদিকে, একই উদ্যোগের আওতায় পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা রয়েছে বা পরিবেশ দূষণ করছে– এরূপ শিল্প প্রতিষ্ঠানের উপর উচ্চহারে করারোপের জন্য অন্য একটি তালিকা তৈরি করে তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনআরবি)-এর নিকট প্রেরণ করা যেতে পারে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উদ্যোক্তার শিল্পঋণ সংক্রান্ত্ম প্রস্ত্মাব মূল্যায়নকালে (অঢ়ঢ়ৎধরংধষ) পরিবেশ রক্ষা পাওয়া বা না পাওয়ার বিষয়টিকে বিশেষ গুরম্নত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। এমনকি সম্ভব হলে ব্যাংকের সুদের হার ও অন্যান্য প্রযোজ্যতা নির্ধারণকালে পরিবেশ দূষণের বিষয়টি স্বতন্ত্র গুরম্নত্বের সাথে বিবেচনা করা যেতে পারে।

সবুজ শিল্পায়ন কার্যক্রমকে জোরদার করতঃ বাংলাদেশের এ উদ্যোগের কথা আন্ত্মর্জাতিক পরিম-লে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে যাতে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব ‘সবুজ শিল্প’ থেকে পণ্য আমদানির ব্যাপারে বিশেষ উৎসাহ ও আগ্রহ বোধ করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে দেশে একটি জাতীয় শিল্প উন্নয়ন পরিষদ (এনসিআইডি) এবং এর পক্ষে কাজ করার জন্য শিল্পমন্ত্রী মহোদয়ের সভাপতিত্বে এনসিআইডির একটি নির্বাহী কমিটি রয়েছে। উলিস্নখিত পরিষদ ও কমিটি এ বিষয়গুলো বিস্ত্মারিত পর্যালোচনা করে এ ব্যাপারে নীতি-নির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করতে পারেন। তবে এ পরিষদ ও কমিটির সভা-সংখ্যা যেহেতু কিছুটা কম, সেহেতু এ ব্যাপারে বাস্ত্মবায়নকারী সংস্থাসমূহের নির্বাহী পর্যায়েও এ বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা যেতে পারে, যেমনটি পূর্বে উলেস্নখ করা হয়েছে।’সবুজ শিল্পায়ন’ এখন আর শুধুমাত্র একটি স্লোগান বা আহ্বান নয়– এটি এখন আমাদের অস্তিত্বের সাথে নিয়ত জড়ানো একটি অনিবার্য্য অনুষঙ্গও। ফলে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন ভাবনার দৃষ্টিকোণ থেকে নয়– নিকট ভবিষ্যতের জীববৈচিত্র ও জলবায়ু সংকটের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলার প্রয়োজন থেকেও তা বিশেষভাবে গুরম্নত্বপূর্ণ। আর সে গুরম্নত্বের বিষয়টি আমাদের বর্তমান ও আগামী দিনের শিল্পোদ্যোক্তারা যতো দ্রম্নত ও সহজে অনুধাবন করবেন, বাংলাদেশের মানুষ, জীবন ও পরিবেশকে ততোটাই সহনীয় পর্যায়ে রাখা যাবে বলে আশা করা যায়।

 আবু তাহের খান

পরিচালক, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top