চাটমোহরে রাতের আঁধারে গাছ নিধন

Print Friendly, PDF & Email

C---6020140201031550

সবুজপাতা ডেস্ক, ৩ ফেব্রুয়ারি : পাবনার চাটমোহর উপজেলার রেলবাজার-কুয়াবাসী সড়কের শাহাপুর ও খতবাড়ী এলাকার মাঝে প্রায় শতাধিক ছোট-বড় গাছ কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

কারা গাছ কেটেছে জেনেও ভয়ে মুখ খুলছে না এলাকাবাসী।

সরেজমিনে ওই এলাকায় কথা হয় স্থানীয়দের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, এলাকার একটি রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল রাতের আঁধারে গাছগুলো কেটে বিক্রি করেছে।

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) এর তত্বাবধানে এই গাছগুলি লাগানো হয়েছিলো।

তারা আরও জানান, প্রতি রাতেই চলছে এই বৃক্ষনিধন উৎসব। দুবৃর্ত্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকাবাসী ভয়ে কিছু বলতে পারছে না। তবে তারা জানান, স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নামধারী লোক তারা। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না।

রেলবাজার-কুয়াবাসী এই সড়কের শাহাপুর ও খতবাড়ী এ দুই গ্রামের মাঝে বড়বিল ও জনশুন্য এলাকা। আর এই সুযোগে চলছে অবাধে বৃক্ষ হত্যা। হত্যা করা গাছের মধ্যে রয়েছে- মেহগনী, শিশু, ইউকিপ্টার্সসহ বড় বড় ফলজ-বনজ গাছ।

এলাকবাসীরা জানান, কেটে নেওয়া গাছের আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকার বেশি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাহাপুর গ্রামের একজন জানান, আপনেরাও জানেন কারা গাছ কাটতিছে। আমি আর কি কবো, যদি তাগারে নাম কয়ে দেই তালি ওরা জানলি এখেন থ্যাকে আমার বাড়ি ঘর ভাঙ্গে লিয়ে চলে যাওয়া লাগবিনি। আর পুলিশ তো সব জানে, ওরা রাতে দেখেও কিছুই কয়না, আমরা কি কবো।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গাছ যেই কেটে নিক আমরা ব্যবস্থা নেবো। তদন্ত চলছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শামছুজ্জামান বলেন, ‘ইতোপূর্বে মথুরাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের গাছ কর্তনের বিষয়ে মামলা করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে মূলগ্রাম ইউনিয়নের সড়কের গাছ কর্তনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মূলগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে কিছু বলার সাহস আমার নেই। তবে এলাকার সচেতন মহল এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আমিও প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

কৃতজ্ঞতা: আবদুল মান্নান পলাশ, রাইজিংবিডি.কম

Comments