লবণাক্ত মাটি দিয়ে ইট তৈরি, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

air-pollution-2009-5-14-7-50-35

সীতাকুণ্ডের ছলিমপুর ইউনিয়নের লতিফপুর সাগরপাড়ে গড়ে ওঠা চারটি ভাটায় ইট তৈরি হচ্ছে লবণাক্ত মাটি দিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবণাক্ত ইট দিয়ে নির্মিত ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ভাটাগুলো চট্টগ্রাম নগর ও উপকূলীয় বনের খুব কাছে হওয়ায় পরিবেশের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। স্থানীয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছলিমপুর ইউনিয়নের লতিফপুর সাগরপাড়ে কেএমএলের দুটিসহ এআরসি ও জেএবি নামের মোট চারটি ইটভাটা গড়ে উঠেছে।

কেএমএলের মালিক শাহেদ কামাল, জেএবির মালিক শহিদ রহিম ও এআরসির মালিক জাহাঙ্গীর আলম। উপজেলা প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম খান বলেন, ইটে যদি লবণাক্ততার পরিমাণ নির্দিষ্ট সীমার বেশি হয় তাহলে ইট দিয়ে তৈরি বিল্ডিংয়ের স্থায়িত্ব কমে অল্প সময়ের মধ্যে খসে পড়তে পারে।

ইটভাটাগুলোর ১০০ গজের মধ্যে রয়েছে সংরক্ষিত উপকূলীয় বন। বনের এত কাছে ইটভাটা নির্মাণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের (চট্টগ্রাম) পরিচালক মো. জাফর আলম। তিনি বলেন, যে স্থানে ইটভাটাগুলো গড়ে উঠেছে সেখানে কোনোমতেই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান হতেই পারে না। তিনি আরও বলেন, ওই ইটভাটাগুলো ২০১১ সালের শেষের দিকে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তখন জরিমানাও করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসায় এখন আইনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ শাহীন ইমরান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি যতটুকু জানেন ইটভাটাগুলো বন্ধ ছিল। দু-এক দিনের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। ইটভাটাগুলো চালু পাওয়া গেলে তা বন্ধ করে দেওয়াসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেএমএল ও এআরসি কারখানা দুটির শ্রমিকদের মধ্যে কেউ কেউ মাটির মণ্ড থেকে কাঁচা ইট তৈরি করছেন। কেউ ইট পুড়ছেন। অন্যরা জমি থেকে মাটি কাটছেন। কেএমএল ইটভাটার সীমানার বাইরে অন্যের জমি থেকে অন্তত ছয় শ্রমিককে মাটি কাটতে দেখা গেছে।

সংখ্যালঘুদের জায়গায় ইটভাটা: এদিকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, ইটভাটাগুলো স্থানীয় সংখ্যালঘুদের জায়গা দখল করে ইটভাটা তৈরি করা হয়েছে। কেএমএল ইটভাটায় নিজের জমি আছে দাবি করে ওই এলাকার বাসিন্দা দেবাশীষ দত্ত প্রথম আলোকে বলেন, ওই ইটভাটায় তাদের দেড় একরেরও বেশি জায়গা রয়েছে। জায়গাগুলো প্রথমে খাজনায় ভাড়া নিলেও একবার ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পর ১০ বছরেও আর কোনো টাকা দেওয়া হয়নি।

একই অভিযোগ করেন সুজন দত্ত। তাঁর জমি রয়েছে চার একরেরও বেশি। কারখানাগুলোর বেশির ভাগ জমিই তাদের আত্মীয়স্বজনের বলে তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়া মুকুন্দ দাস বলেন, তাঁর সঙ্গে কারখানার মালিকের কোনো চুক্তি হয়নি। কয়েকবার তাঁরা নিজেদের জমি ঘেরাও করলেও রাতে ইটভাটার মালিকেরা ভেঙে ফেলেন।
কারখানাটি সংখ্যালঘুদের জায়গায় ও লবণাক্ত মাটি দিয়ে ইট তৈরির বিষয়টি স্বীকার করে কেএমএল ইটভাটার ব্যবস্থাপক মো. মুছা প্রথম আলোকে বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় ছাড়াও স্থানীয় অনেক মুসলমানের জায়গা রয়েছে। কারও থেকে জায়গা দখল করা হয়নি। জমির মালিকদের সঙ্গে বার্ষিক খাজনা দেওয়ার চুক্তিতে জায়গাগুলো ব্যবহার করা হয়। জমির মালিক হিসেবে যাঁরা কাগজপত্র দেখাতে পেরেছেন, তাঁদের খাজনার টাকা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মাটি লবণাক্ত হলেও কোনো সমস্যা নেই। কোম্পানি থেকে যারা ইট কেনে, তারা লবণ পরীক্ষা করে নেন। তা
ছাড়া আগুনে ইট দিলে লবণ এমনিতে গলে যায়। পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে বলে তিনি জানান।

– কৃষ্ণ চন্দ্র দাস, কৃতজ্ঞতা: চট্টগ্রাম অফিস, প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top