বাড়ি নির্মাণ; পরিবেশ সম্মত রঙ নিয়ে ভাবি

রঙ তো রঙ –ই সেটা আবার পরিবেশ বান্ধব হয় নাকি? অনেকেই প্রশ্ন করবেন  হয়তো। তাদের জন্য বলতে চাই রঙ বা পেইন্টও পরিবেশ বান্ধব হতে পারে। আসুন জেনে নিই তা কিভাবে। paint colors

আমরা সবাই জানি, রঙ একটি তরল পদার্থ।যা সাধারণত তরল অবস্থায় পাওয়া যায়। আর এই রঙ ব্যবহার করা হয় কোন নির্মাণ সমগ্রীকে সাজাতে কিংবা খারাপ আবহাওয়া থেকে সুরক্ষিত রাখতে। কিন্তু এই রঙ সাধারণত ক্ষার ধর্মী হয়। যা তৈরি করতে প্রয়োজন হয় লেড, ক্রমিয়াম, নিকেল, জিংক, আয়রন, ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থ।

তবে এগুলো ছাড়াও বেশির ভাগ রঙ এর মধ্যে মেশানো থাকে VOC(volatile organic compound) বা উদ্বায়ী জৈব যৌগ, যা সাধারণত VOCs নামে পরিচিত। এটা এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ যা বাষ্পভূত হয় কক্ষ তাপমাত্রায় ।এবং এই পদার্থ থেকে তৈরি গ্যাস স্থায়ী হয় কমপক্ষে এক সপ্তাহ। এই ধরনের বিষাক্ত গ্যাসের কারনে আমাদে্র শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়, যেমন- চোখ জ্বালা পোড়া, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা, ত্বকের এলার্জির মতো রোগ হতে পারে। এছাড়াও হার্ট বা কিডনিতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এইসব রঙ শুধু যে আমদের ঘরের পরিবেশ খারাপ করছে তা নয়, এরা আমাদের জীবন যাপনের পরিবেশও খারাপ করছে।এখুন প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে কোন ধরনের রঙ আমরা ব্যবহার করব?

যদি বাড়ির বাহিরে রঙ করতে চান তাহলেঃ

বাড়ির বাহিরে রঙ করবার জন্য আপনি এই ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন কম পরিমানের VOC রয়েছে সেই সব রঙ। সেক্ষেত্রে আপনি দেখবেন কোন রঙটা ওয়াটার বেসড পেইন্ট বা পানি ভিত্তিক রঙ। কারন সেখানে VOC এর পরিমান কম থাকে।কিন্ত ওয়েল বেসড পেইন্টএ VOC এর পরিমান বেশি থাকে। তাই এটা ব্যাবহার না করাই ভাল। তবে যদি ওয়েল বেসড পেইন্ট-ই ব্যাবহার করতে চান, তাহলে দেখতে হবে সেখানে VOC এর পরিমান ৩৮০গ্রাম/লিঃ কি না? এছাড়াও আপনি লেটেক্স পেইন্ট অথবা রিসাইকেল ওয়াটার বেসড পেইন্ট ব্যবহার করতে পারেন।কারন সেখানে VOC এর পরিমান কম থাকে।

বাড়ির ভিতরের রঙঃ

এই ক্ষেত্রে আপনি ব্যবহার করবেন মিল্ক বেসড পেইন্ট বা ন্যচারাল পেইন্ট। কারন মিল্ক বেসড পেইন্ট তৈরি হয় মিল্ক প্রোটিন এবং লেবুর উপাদান দিয়ে। আর ন্যচারাল পেইন্ট তৈরি হয় প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে। এছাড়াও আপনি ব্যবহার করতে পারেন লেটক্স পেইন্ট বা এক্রাইলিক পেইন্ট বা রিসাইকেল লেটক্স পেইন্ট। কারন এই সব রঙ এর মধ্যে সীসা বা পারদ থাকে না। কিন্ত কখনো ওয়েল বেসড পেইন্ট ব্যাবহার করবেন না। আর অনেক সময় দেখা যায় শুকনো রঙের টুকরা ছোট বাচ্চারা কিংবা আপনার পোষা প্রাণী খেয়ে ফেলতে পারে। তাই আপনার ঘরের রঙ মধ্যে যদি সীসা বা পারদ মুক্ত না হয়, তাহলে তা এক্ষুনি তুলে ফেলুন এবং পরিবেশ বান্ধব রঙ ব্যবহার করুন।

আর এখন বাজারে পরিবেশ বান্ধব রঙ পাওয়া যায়। যেমনঃ বার্জার কম্পানি পরিবেশ বান্ধব রঙ বাজারে এনেছে ২০১১ সালের ২৪অক্টোবর। এছড়াও আপনি বিভিন্ন কম্পানির সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে জেনে নিতে পারেন আপনার রঙটা পরিবেশ বান্ধব কি না এখন সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার, আপনি কি পরিবেশ বান্ধব রঙ ব্যাবহার করবেন নাকি অন্যকিছু।

 

মেহেদি হাসান সাগর

ডেফোডিল ইন্টারন্যাশানাল ইউনিভার্সিটি

[email protected]

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top