পরিবেশ বিপর্যয়ে যা ভারতে হচ্ছে না তা কেন বাংলাদেশে !

Bdtravelnews-সুন্দরবন.jpg

The Sundarbans, a UNESCO World Heritage Site and a wildlife sanctuary. The largest littoral mangrove forest in the world, it covers an area of 38,500 sq km, about a third of which is covered in water. Sundarbans, Khulna, Bangladesh. March 2011.

সবুজপাতা ডেস্ক ঢাকা: রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র হলে তা সুন্দরবনকে ধ্বংস করবে বলে দাবি করেছে ‘সুন্দরবন বাঁচাও আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠন।
রোববার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “সুন্দরবনের একেবারে সন্নিকটে রামপালে পরিবেশ বিধ্বংসী কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে চলতি মাসেই ভারতীয় কোম্পানির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি করতে যাচ্ছে। ভারতের আদালত পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে সে দেশে কোনো ধরনের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে। সেই ভারতীয় কোম্পানি এবার মাত্র এক হাজার ৩২০ মোগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশে কেন্দ্র স্থাপন করছে। এর ফলে সুন্দরবনের ধ্বংস প্রক্রিয়া আরো তরান্বিত হবে।”

বিবৃতিতে নেতারা অবিলম্বে সুন্দরবন বাঁচাতে সরকার ও সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, বনের অভ্যন্তরের নদীতে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা, বন থেকে অবিবেচকের মতো সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।

বিবৃতিদাতারা হলেন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোল্লা মাসুম রশিদ, অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম, অধ্যাপক ডা. সেখ মো. আখতার-উজ-জামান, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, পরিবেশবিদ মাহবুব আলম বাদশা, ড. নাজমুস সাদাত শুভ।

বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, “গত দুই বছরে পাঁচটি জাহাজ ডুবির ঘটনা সুন্দরবনকে ভয়ানকভাবে বিপর্যয়ের সম্মুখীন করেছে। প্রথমে ফার্নেস অয়েলবাহী ট্যাঙ্কার ডুবি, এরপর সার, ক্লিংকার ও সর্বশেষ কয়লাবাহী জাহাজ ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নদীর জলজ প্রাণী, বনের উদ্ভিদের ও প্রাণী। পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৪ বছরে অন্তত ২০টি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে সুন্দরবনে। পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে শত শত একর বনভূমি। প্রতিবার লোক দেখানো তদন্ত কমিটি হয়, কিন্তু সেই কমিটির রিপোর্ট আলোর মুখ দেখে না। শাস্তি পায় না জড়িত কোনো অপশক্তি।”

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “জানা গেছে, এই মুহূর্তে ২৫টি জাহাজ সুন্দরবনের অভ্যন্তরের গুরুত্বপূর্ণ শেলা নদীতে অবস্থান করছে। প্রতিনিয়ত এসব জাহাজের যাতায়াত বনের প্রাণীকূলের জীবনযাত্রায় চরম বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। হারিয়ে যাওয়ার পথে ইরাবতী ডলফিন। সুন্দরবনের রক্ষাকবচ নামে পরিচিত আমাদের গর্ব রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই তথ্য।”

scroll to top