ব্রহ্মপুত্র নদে চার মাস ধরে হাঁটু পানি !

160309130050_bangla_old_brahmaputra5.jpg

সবুজপাতা ডেস্কঃ ময়মনসিংহ শহরের কোল ঘেঁষে বয়ে চলেছে পুরনো ব্রহ্মপুত্র। শহরটিকে নদের উল্টো পাশের ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করেছে প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেতু।

কিন্তু ফাল্গুনের এক বিকেলে দেখা গেল, সেতুটিকে পাশ কাটিয়ে শত শত মানুষ নেমে পড়ছে নদের জলে। লুঙ্গিটা একটু উঁচিয়ে কিংবা পাজামাটা একটু গুটিয়ে তারা পেরিয়ে যাচ্ছে নদের জল। সেতুর থোড়াই কেয়ার করছে তারা।

নদ পার হবার পর দেখা যাচ্ছে জল তাদের হাঁটু অব্দি পৌঁছেছে কি পৌঁছায়নি।

আবুল কাওসার একজন ব্যবসায়ী, নদের উল্টো পাশের চর ঈশ্বরদিয়া গ্রাম থেকে প্রতিদিন তিনি শহরে যান কাজের জন্য। তিনি হেঁটে নদ পার হচ্ছিলেন।

“আডু হোমান পানি তো, হাইট্টা গ্যালে তাড়াতাড়ি অয়। এই জন্যি হাইট্টা হাইট্টা যাই”। বলছিলেন কাওসার।

বহুবার দিক বদলের পর এখনকার পুরনো ব্রহ্মপুত্র জামালপুরের বাহাদুরাবাদ থেকে ময়মনসিংহ, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জ হয়ে মেঘনা নদীতে পড়েছে। জানা যাচ্ছে, বাহাদুরাবাদে নদের মুখে বিরাট চর পড়ায় সেখান থেকে পানি প্রবাহ অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। আর এই সুযোগে পলি জমে নাব্যতা হারিয়ে বছরের অন্তত চার মাসই শুকিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে থাকছে নদটি ।

ময়মনসিংহ শহরের একপ্রান্তে কাচারীঘাটে ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে শৈশবের স্মৃতিচারণ করছিলেন প্রবীণ বাসিন্দা শামসুদ্দিন ফকির। “এহানো বাঁশ ফেলাইলে তলাই গ্যাছে ছোডুবেলা। কি কইন! এইতা রোড-মোডতো আছিল না এট্টাও”।
এখন নদের এই অবস্থা কেন জানতে চাইলে ষাটোর্ধ্ব ফকির বলছেন, “চলতি পানি আইয়ে না এই লাইগ্গা”।

ফকিরের ভাষায়, এখন বর্ষা মৌসুমে নদের পূর্ণ যৌবন থাকলেও তাতেও খুব বেশি পানি হতে দেখা যায়না। মূল নদের একেবারে মধ্যেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন ফকির। পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে জলের ক্ষীণ একটি ধারা। জায়গাটার নাম কাচারীঘাট। এটি একটি খেয়াঘাট। এখানে পানির গভীরতা সামান্য বেশি বলে লোকজন নদ পার হচ্ছে ইঞ্জিন নৌকোয় চড়ে।

অপরপ্রান্তে একটি বিস্তীর্ণ চর। এলাকাবাসীর কাছে মাঝের চর বলে পরিচিত।

খেয়ানৌকা থেকে নেমে বেশ কিছুক্ষণ শুকনো নদীবক্ষ ধরে হাঁটার পর দেখা মেলে একটি সড়কের। এটি মূলত একটি বেড়িবাঁধ।

স্থানীয়রা বলছিলেন, এখন যেখানে এই সড়কটি এক সময় সেখান দিয়ে নৌকো চালাতেন তারা। এই বেড়িবাঁধের পাশে ব্রহ্মপুত্রের যে বিস্তীর্ণ চর জেগে উঠেছে সেখানে এখন নানা ফসল ফলাচ্ছেন স্থানীয় ভূমিহীনেরা। এদের একজন মোহাম্মদ ফারুক বলছেন, ব্রহ্মপুত্রের এই রুগ্ন দশায় তাদের বরঞ্চ উপকার হয়েছে।

ময়মনসিংহ শহর থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে ডিগ্রিপাড়া নামে একটি গ্রামে গিয়ে দেখা গেল সেখানে ব্রহ্মপুত্র আরও সরু। এই গ্রামের বাসিন্দারা দেখা গেল নদের উপর দারুণ নাখোশ। বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্রের যখন ভরা যৌবন থাকে তখন ভাঙনে এদের বাড়িঘর জমিজমা চলে যায় নদের পেটে।–বিবিসি

scroll to top