তলিয়ে গেল কার্গো , উদ্ধার অনিশ্চিত

image_151293_0.jpg

মংলা: সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ১২৩৫ মেট্রিক টন কয়লা বোঝাই লাইটার জাহাজ এমভি সি হর্স অন্তত ৩০ মিটার পানির নিচে তলিয়ে  গেছে।নৌযান এমভি সি-হর্সকে কখন উত্তোলন করা হবে এ বিষয়ে  লাইটারটির  মালিক পক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।

তবে ডুবন্ত জাহাজটির অবস্থান নির্ণয় করে সেখানে মার্কিংয়ের ব্যবস্থা করছে বিআইডব্লিউটিএ ও বন বিভাগ।এদিকে দুর্ঘটনা কবলিত স্থান পরিদর্শন করেছে বনবিভাগ, কোস্ট গার্ড, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বন বিভাগ চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সি হর্স-১ কোস্টারের মাস্টার মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা  জানান, হরিণটানা  এলাকায় তলা ফেটে যাওয়ার পরপরই কোস্টারটিতে পানি উঠতে শুরু করে।

এসময় পেছন থাকা আসা ওটি নূর জাহান-১ নামে একটি ট্যাঙ্কার কোস্টারটির ১২ জন নাবিক ও ক্রুকে উদ্ধার করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কোস্টারটি সম্পূর্ণ পানিতে ডুবে যায়।

তিনি বলেন, ১৬ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এক হাজার ২শ ৩৫ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে যশোরের নওয়াপাড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এমভি সি হর্স-১ কোস্টারটি। এ কয়লা ইটভাটায় ব্যব‎হৃত হয়।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) সাইদুল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কার্যালয় থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে হরিণটানার কাছে শ্যালা নদীতে ডুবন্ত একটি জলযানের মাস্তুলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে কোস্টারটির তলা ফেটে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।

দুর্ঘটনার সময় কোস্টার জাহাজটিতে থাকা ১২ জন নাবিক ও ক্রুকে পাশের একটি নৌযান উদ্ধার করে ।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণ ও সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র্যের ওপর এর ক্ষতি পরিমাণ নিরূপণ করতে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) কামাল উদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অপর সদস্যরা হলেন-সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) গাজী মতিয়ার রহমান, ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) সুলতান মাহামুদ ও সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের জীব বৈচিত্র্য কর্মকর্তা মেহেদি হাসান।

কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে তদন্ত ও অনুসন্ধান শেষে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ডিএফও বরাবর প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ,২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ফার্নেস তেল নিয়ে ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ নামে এটি অয়েল ট্যাঙ্কার ডুবে যায়।সে ঘটনার পর সুন্দরবনের অভ্যন্তরের এ নৌপথটি বন্ধে জোর দাবি ওঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে।জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ দলও সুপারিশ করে বিশ্বের বিপন্ন প্রায় প্রজাতির ডলফিন ইরাবতীর অভয়ারণ্য শ্যালা নদীসহ সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল বন্ধের।

এর আগে ১০ মাসের মাথায় ২০১৫ সালের ২৭ অক্টোবর শ্যালা ও পশুর নদীর মোহনায় এমভি জিয়া রাজ নামে কয়লাবাহী একটি কার্গো জাহাজডুবি হয়। ডুবে যাওয়া কয়লাবাহী কার্গো জাহাজটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি ।

scroll to top