পানির নিচের অর্ধেক জীবন উধাও!

download1.jpg

সবুজপাতা ডেস্ক, ১৭ সেপ্টেম্বরঃ   ঠিক ৪৫ বছর আগে যতটা জীবন ছিল পানির নিচে, তার অর্ধেকটাই উধাও!

এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে জাতিসংঘের অধীনস্থ সংস্থার সাম্প্রতিক গবেষণায়। এর ফলে, মানবসভ্যতার অস্তিত্বও আশঙ্কার মুখে পড়েছে।

ওই গবেষণা বলছে, পানির তলার জীবন হারিয়ে যাচ্ছে খুব দ্রুত।

তড়িঘড়ি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে মাছ, পানিতে থাকা সাপ, পাখি আর স্তন্যপায়ী। হারিয়ে যাচ্ছে সামুদ্রিক উদ্ভিদও। গত ৪৫ বছরে কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ।
এর ফলে, পরিবেশের ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আরও চিন্তার, আমরা যে সব সামুদ্রিক খাদ্যের ওপর ভরসা করি, উত্তরোত্তর তা কমে যাচ্ছে। আরও দ্রুত। কমেছে ৭৪ শতাংশ, গত সাড়ে চার দশকে। অদূর ভবিষ্যতে যা মানবসভ্যতার পক্ষে হয়ে উঠতে পারে অস্বস্তিকর।

এই গ্রহে যত সাগর আর মহাসাগর রয়েছে, তার তলার জীবনের এই হাল-হকিকতের ছবিটাই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক একটি গবেষণার ফলাফলে। যে গবেষণাটি চালিয়েছে জাতিসংঘের আওতাধীন ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ড’ (ডব্লিউডব্লিউএফ) ও লন্ডনের জুলজিক্যাল সোসাইটি।

গবেষণা জানাচ্ছে, এর জন্য মূলত, আমরাই দায়ী। আমরাই বেহিসেবি মাছ ধরে আর অন্যান্য সামুদ্রিক পাখি, সাপ ও স্তন্যপায়ী প্রাণী নির্বিচারে বধ করে সাগর আর মহাসাগরের তলায় থাকা জীবনের এই হাল করেছি। এর সঙ্গে রয়েছে পৃথিবীর গায়ের ‘জ্বর’ বেড়ে যাওয়া, জলবায়ুর উত্তরোত্তর পরিবর্তন ও দূষণের মাত্রা-বৃদ্ধিজনিত কারণও।

ডব্লিউডব্লিউএফের প্রধান মার্কো লাম্বারতিনি বলেছেন, ‘‘আমরা যে হারে সামুদ্রিক মাছ ধরি, তার চেয়ে অনেক কম হারে বংশবৃদ্ধি হয় সামুদ্রিক মাছের। শুধু তা-ই নয়, ব্যবসার লোভে আমরা সামুদ্রিক মাছকে গায়ে-গতরে বেড়ে উঠতেও দিই না। খাবার হিসেবে সামুদ্রিক শশাও খুব সুস্বাদু। তাই এশিয়ায় তার দারুণ জনপ্রিয়তা। সেই সামুদ্রিক শশা বা ‘সি কিউকাম্বার’-এর সংখ্যাও গত ৪৫ বছরে কমে গিয়েছে অস্বাভাবিক হারে। গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জে কমেছে ৯৮ শতাংশ আর লোহিত সাগরে ৯৪ শতাংশ।’’

গবেষণা এ-ও জানিয়েছে, সামুদ্রিক ঘাস আর সাগরের পাশের ম্যানগ্রোভ অরণ্যেরও ক্ষয় হচ্ছে খুব দ্রুত।

আর কিছু দিন পরে, পানির তলার জীবনের ভবিষ্যত হয়তো অন্ধকারেই!- সংবাদসংস্থা

scroll to top