লক্ষ্মীপুরে নিরিকা মিউটেনট ধান উৎপাদনে সাফল্য

2015-08-22_4_904884.jpg

লক্ষ্মীপুর, ২৩ আগস্টঃ লক্ষ্মীপুরে প্রথমবারের মতো নিরিকা মিউটেনট ধান আবাদ করে সাফল্য পেয়েছেন চাষীরা। জেলার রামগতি উপজেলায় আবাদকৃত এ জাতের ধান প্রতি একরে প্রায় ৫০ মণ উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক।
এদিকে নিরিকা মিউটেনট ধান প্রতি একরে ৫০ মণ উৎপাদন হওয়ায় আউশ উৎপাদনে এটি অতীতের রেকর্ড অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর জেলায় ৭৯ হাজার ৮৯০ হেক্টরে রোপা ও বোনা আউশের আবাদ হয়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয় ৮৭ হাজার ৩৩৮ মেট্রিক টন। এর মধ্যে এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে জেলায় ২০০ বিঘা জমিতে ৫০ জন কৃষকের মাঝে নিরিকা মিউটেনট ধান আবাদের জন্য বীজ সরবরাহ করে জেলা কৃষি অধিদপ্তর। এতে ৫০ জন কৃষকের সবাই অধিক ফলনের আশায় পরীক্ষামূলকভাবে নিরিকা মিউটেন ধান আবাদ করেন। এ ধানটি ১০০ দিনে ঘরে তোলা যায়।
ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে আউশ ধান কাটা শুরু হয়েছে। প্রথমবার এ ধান আবাদ করে জেলার রামগতি উপজেলার কৃষক মিজানুর রহমান সাফল্য পেয়েছেন।
একইভাবে অন্যান্য কৃষকও ধানের আবাদ করে সফলতা অর্জন করে। অপরদিকে সদর উপজেলার সুতার গুপ্তা নামক এলাকায় বিরি-২৭ চাষ করে আরেক কৃষক বেলাল হোসেন সাফল্য পেয়েছেন । সাধারণত এ অঞ্চলে আউশ প্রতি একরে ২০ থেকে ৩০ মণ উৎপাদিত হয়ে থাকে।
কৃষক বেলাল হোসেন জানান, এ ধান আবাদ করে তিনি অত্যন্ত খুশি। তার প্রতি একর জমিতে প্রায় ৪০ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে।
রামগতি পৌর এলাকার চাষী মিজানুর রহমান জানান, নিরিকা মিউটেনট আবাদ করে তিনি শতভাগ সাফল্য পেয়েছেন। জেলা কৃষি অধিদপ্তরের কাছ থেকে এ ধানের বীজ নিয়ে তিনি চাষ করেন। তার প্রতি একর জমিতে প্রায় ৫০ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে। তবে ধানের নায্য দাম পেতে তিনি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, জেলার ৫০টি স্থানে নিরিকা মিউটেনট ধানের আবাদ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩টি স্থানের ধান ঘরে তোলা হয়েছে। অপর এলাকার ধানও অচিরেই কাটা হবে। সব জায়গায়ই এ ধানের সাফল্য লক্ষ্য করা গেছে। প্রতি একর জমিতে ৪৫ থেকে ৫০ একর ধান উৎপাদিত হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। উৎপাদন অর্জনও রেকর্ড পরিমাণ। সফলতা অর্জিত হওয়ায় কৃষকেরা আনন্দিত। আগামীতে এ ধানের আবাদ আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সবুজপাতা প্রতিবেদক

scroll to top