পরেছে আউশ রোপণের ধুম

Chandpur_Aush-Paddy-Pic.jpg

চাঁদপুর, ৯ জুলাই: বোরো ধান ঘরে তোলা শেষ করে বৃষ্টির প্রহর গুনছিল মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আউশ চাষীরা। বহু প্রতীক্ষার পর গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণের পর জমিতে পানি জমলে চাষীরা কোমর বেঁধে মাঠে আউশ ধান রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। পুরো এলাকাতেই আউশ ধান রোপণ শুরু করা হয়েছে।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মতে, কাঙ্ক্ষিত সময়েই আশানুরূপ বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। বৃষ্টিপাত স্থায়ী হলে এ বছর টিয়া আউশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মতলব উত্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ৩ হাজার ৪শ ৫০ হেক্টর জমিতে আউশ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ইতোমধ্যে সরকারি আউশ প্রণোদনা দেয়া শেষ হয়েছে।

সূত্র জানায়, উপজেলায় ৬শ ৭০ জন কৃষকের মাঝে আউশের প্রণোদনা দেয়া হয়। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে ৫ কেজি বীজ ও ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপি ও পটাশ সার প্রদান করেছে।

এদিকে, কৃষকরা সরকারিভাবে বিনা টাকায় সার ও বীজ পেয়ে উৎসাহী হয়ে পুরোদমে চাষাবাদ শুরু করে দিয়েছে। মূলত আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আউশ রোপণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ার এ অঞ্চলের কৃষক দেরিতে আউশ রোপণ শুরু করেছে।

তবে কৃষকরা বলছে, এবার খরচের তুলনায় বোরো ধানের দাম বাজারে ভালো না পেলেও আউশ ধান রোপণের ক্ষেত্রে কৃষকদের মধ্যে সাড়া পড়েছে। যথাসময়ে বৃষ্টি হওয়ায় খুব আনন্দে আউশ ধান রোপণ শুরু করেছে কৃষাণ-কৃষাণীরা।

উপজেলার নাউরী গ্রামের কৃষক ফয়েজ আহমদ দর্জি জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আউশ রোপণে ঝুঁকে পড়েছেন চাষীরা। বৃষ্টিতেই আউশের চাষাবাদ ভালো হতে পারে। ফলে এ মৌসুমে ধানের আশানুরূপ ফলন পাওয়া যেতে পারে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে মতলব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার জানান, বৃষ্টি হওয়ায় কৃষক আউশ ধান রোপণ শুরু করেছে। তবে আরো কিছুদিন আগে বৃষ্টি হলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেত। এরপরও আমরা আশাবাদী।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

scroll to top