তিস্তায় তীব্র ভাঙন, নদীগর্ভে শতাধিক বাড়িঘর

Kurigram-Flood-photo-1-e1408685880793.jpg

লালমনিরহাট, ১৯ জুন : ফের তিস্তা নদীতে বন্যা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০) ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর পানি। ভারী বর্ষণ আর উজানের ঢলে ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জল-কপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বন্যায় তিস্তা অববাহিকার প্রায় ৬১টি চর ও গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।

এদিকে, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভাঙন। ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক বাড়ি ও দেড়শ মিটার বালির বাঁধ তিস্তা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে পানিবাহিত নানা রোগ।

পাউবো ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, ব্যারেজ পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টায় ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হলেও উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে শুক্রবার তিস্তা নদীর পানি ব্যারেজ পয়েন্টে দুপুর থেকে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, তিস্তায় পানি বেড়ে যাওয়ায় লালমনিরহাটের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের কুটিরপাড় বালুর বাঁধসহ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৯৫টি বাড়ি ও দেড়শ মিটার দীর্ঘ বালুর বাঁধ তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশের বহুল আলোচিত দহগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ২৬টি বাড়ি তিস্তায় বিলীন হয়েছে।

দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, তিস্তার ভাঙনে প্রতিনিয়ত ছোট হচ্ছে দহাগ্রাম-আঙ্গোরপোতার মানচিত্র। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এ ইউনিয়নের ২৬টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো অর্ধশত বসতভিটা।

মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় তার ইউনিয়নে ৯৫টি বাড়ি ও কুটিরপাড় বালুর বাঁধের প্রায় দেড়শ মিটার তিস্তায় বিলীন হয়েছে। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তত করে উপজেলা পরিষদের পাঠানো হয়েছে।

চেয়ারম্যানরা জানান, বানের পানিতে চর এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দি মানুষের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। বিশেষ করে গবাদিপশু নিয়ে বানভাসিরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে। কলার ভেলায় এখন বানভাসিদের একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া চরম খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটও দেখা দিয়েছে। অনেকের হাঁড়িতে চাল-আটা থাকলেও শুকনো জায়গার অভাবে উপোস থাকতে হচ্ছে তাদের। ছড়িয়ে পড়েছে চরাঞ্চলে নানা পানিবাহিত রোগ। এখন পর্যন্ত চরাঞ্চলে দেয়া হয়নি কোনো ত্রাণ।

শুক্রবার দুপুরে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, জরুরি ত্রাণ চাহিদা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে র্বাতা পাঠানো হয়েছে।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

scroll to top