জরুরী পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশ হবে নেপাল – আব্দুল মতিন

IMG_4463-675x4501.jpg

ঢাকা, ১০ মেঃ ‘আমরা একটি বোকা ও মূর্খ জাতি । ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমদের ঘাড়ের উপর তাও আমরা সতর্ক হচ্ছিন্না। আমদের সরকারের উচ্চপদস্থ আমলারাও এসব বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন । তারা বৈধতা দিয়ে পাহাড় কাটাচ্ছে, আমরা নদী ভরাট করে গতিপথ বন্ধ করছে  বা গর্ত করে পাথর  তোলার অনুমতি দিচ্ছে  যা ঝুকি দিন দিন বাড়াচ্ছে। জরুরী পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশের পরিনতি হবে নেপালের চেয়ে ভয়াভহ।’ আর বাংলাদেশ যাতে নেপাল না হয় তাই  সকলকে  শক্ত ভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের ( বাপার) সম্পাদক  ডঃ আব্দুল মতিন ।

গতকাল ৯ মে শনিবার রাজধানীর পাথন্থপথে অবস্থিত এস ই এল সেন্টার মিলনায়তনে সবুজপাতা কতৃক আয়োজিত ‘নেপালের বাস্তবতা- আমদের শিক্ষা ’ শীর্ষক সেমিনারে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন নেপালের ভূমিকম্প কাভার করে আসা বাংলাদেশী সাংবাদিকবৃন্দ ও  সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা । সে সময় এ আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকাকে একটি সুইসাইট জোন আখ্যায়িত করে সএটিএন নিউজের বার্তা প্রধান মুন্নি সাহা বলেন, ‘ জেনে শুনে আমরা একটি জলন্ত অগ্নিকুণ্ডে বসবাস করছি এবং আমরা যে বেঁচে আছি সেটা হচ্ছে বোনাস । ঢাকায় ভূমিকম্পের মতো কোন দুর্যোগ হলে এর পরের অবস্থা চিন্তার বাইরে ।’IMG_4512-675x450

অধিক শোকে পাথর হয়ে যাওয়া নেপালীদের প্রসঙ্গে মুন্নি সাহা বলেন, ‘ভূমিকম্পের পরেও কয়েকশ বারের কম্পনে  ওদের কাঁদার মতো সময় নেই । নেপালে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও দরদী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

নেপাল ভূমিকম্প কাভার করে আসা এটিএন নিউজের আরেক সাংবাদিক মফিদুল তপু নেপালের বাস্তবতা অনুযায়ী আমাদের নিরাপত্তা, নির্দেশনা ও দুর্যোগ পরবর্তী পদক্ষেপ  সহ নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মাহফুজ মিশু বলেন , ‘ আমদের অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নেপালে জনসংখ্যার ঘনত্ব কম তাছাড়া তাদের শহরের মধ্যেও যথেষ্ট জায়গা রয়েছে বলে ভূমিকম্পের পর তারা সেসব খোলা জায়গায় আশ্রয় নিতে পেরেছে কিন্তু আমাদের ঢাকাতে যদি এমন কোন ভূমিকম্প হয় তাহলে আমদের দাড়ানোর মত কোন খোলা যায়গাও নেই ।IMG_4323-675x450

তাছাড়া নেপালস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও সেখানে ত্রান সরবরাহ ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেন তিনি।

চ্যানেল২৪-এর বিশেষ প্রতিনিধি সাহেদ আলম বলেন, ‘যে মাত্রায় ভূমিকম্প নেপালে হয়েছে সেটি ঢাকায় হলে কমপক্ষে দুই লক্ষ মানুষ মারা যাবে। কেননা, পুরো নেপালের মোট জনসংখ্যা যেখানে তিন কোটি সেখানে ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় পৌনে দুই কোটি। ভাবা যায়না, কম্পন আতঙ্কিত মানুষ নিরাপদ জায়গায় দাঁড়াবে কোথায়?’

নেপাল ভূমিকম্প কাভার করে আসা অনান্য সাংবাদিকদের মধ্যে সময় টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার ওমর ফারুক , বাংলানিউজের বিশেষ প্রতিনিধি সুইটি সাজেদা এবন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক অনুপম দেব ভুমিকম্পেরে পর  দেখে আসা বিধ্বস্ত নেপাল নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও আমদের করনীয় বিষয় নিয়ে মত বিনিময় করেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের ( বাপা) যুগ্ন সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, এতো ঝুকি বা এতো বাস্তবতার পরেও আমাদের কোন উপলব্ধি নেই । আমাদের নেই কোন প্রস্তুতি নেই যন্ত্রপাতি।  ২০০৮ সালে বুয়েটের এক পরীক্ষায় কাফরুল, সুত্রাপুর  সহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২ লাখ ভবন কে ঝুকির আওতায় আছে বলে চিহ্নিত করা হয়  যেগুলো ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ধ্বসে পরতে পারে আশঙ্কা করা হয় । তারপরেও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।IMG_4389-675x450

ড্যাপ এর বাস্তবায়ন না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে ইকবাল হাবিব বলেন, নেপালের এই ভূমিকম্প আমাদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত তাই এর জন্য একটি একশন প্ল্যান তৈরি করতে হবে এবং তার যথাযত  বাস্তবায়ন করতে হবে ।

এসব বিষয়ে সতর্কতা গ্রহন করতে একটি গন আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি ।

সিডিএমপির প্রকল্প পরিচালক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল কাইয়ুম নেপালে ভুমিকপম্পে নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করে বলেন, আমদের মেমরির অভাব তাই আমরা সতর্ক হচ্ছিনা। আমরা বড় কোন দুর্ঘটনা না ঘটলে সচেতন হইনা।

ভূমিকম্পে কোমলমতিদের বাঁচাতে নিরাপদ ও ভূমিকম্প সহনীয় স্কুলভবন নির্মাণের কথা বলেন তিনি । তাছাড়া স্কুল কলেজে এ বিষয়ে যথাযথ শিক্ষা দেয়ার পরামর্শও দেন তিনি ।

তারিকুল হাসান আশিক , সংবাদকর্মী

scroll to top