ইটভাটা কেড়ে নিয়েছে স্বপ্ন !

2011-12-12-15-23-18-4ee61c6687b92-untitled-3.jpg

ঠাকুরগাঁও, ১২ এপ্রিলঃ ঠাকুরগাঁও জেলায় আবাদি জমিতে ইটভাটা স্থাপনের কুফল ভোগ করতে শুরু করেছে কৃষকরা। ইটভাটার গরম বাতাসে ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে কয়েকশ বিঘা জমির ধান। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শতাধিক দরিদ্র কৃষক ও ভেঙ্গেছে স্বপ্ন।

‘গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিয়া মুই পনে ২ বিঘা জমিত ধান লাগাইছিনু। কিন্তু ইটভাটার গরম বাতাসে হামার ধানগুলা নষ্ট হয়ে গেল। অ্যালা মুই লোন ক্যাংকরি শোধ করিম, আর সারাবছর খাইম কী?’কৃষক বজলুর রহমান এভাবেই তার স্বপ্ন ভাঙ্গার কথা বলছিলেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের ৬০ বিঘা জমির বোরো ক্ষেত পুরোটাই চিটায় পরিণত হয়েছে।

দেবীপুর এলাকায় ভাটার পাশের জমিতে বোরো ধান রোপন করেন ৫০ জন প্রান্তিক কৃষক। তাদের কেউ স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে, আবার কেউবা স্থানীয় মহাজনের কাছে সুদের ওপর ঋণ করে অন্যের জমি বর্গা নেন। ৩ মাস আগে ঋণের এসব টাকা নিয়ে জমিতে বোরো ধান লাগায় তারা।

শর্ত থাকে ধান উঠলে সুদসহ তা পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু ইটভাটার কারণে ধানগাছে শীষ এলেও তাতে ধান নেই, সবই চিটা, ক্ষেতের পাশে গড়ে ওঠা ইটভাটার নির্গত গরম বাতাস ও ধোঁয়া আকস্মিকভাবে প্রায় সব ধানের ক্ষেত ঝলসে দিয়েছে এবং ফলন পেতে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাদেকুল জানান, ‘মুই মহাজনের কাছোত জমি বর্গা নিয়া ধান লাগাইছু। ওইলা ধান তো ভাটার গরম বাতাসত নষ্ট হয়্যা গেইছে।’

গেল বছরের এই ভাটার গরম বাতাসে কয়েক একর জমির ধান পুড়ে যায়। প্রতি বছর যদি এ ধরনের ক্ষতির মুখে পরতে হচ্ছে। কৃষি জমির উপড় থেকে অবিলম্বে ইটভাটা সড়িয়ে নেয়া হোক। তা না হলে কৃষকরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলে জানায়। আন্দোলনের আগেই প্রশাসন ভাটা সড়িয়ে নেয়ার ব্যাপারে ব্যবস্থা নিবেন এমন প্রত্যাশা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের

সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম জানান, ভাটা মালিক কৃষকের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিঘা প্রতি ৩৫ মন ধান দিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করছি শিগগিরই কৃষক তাদের ক্ষতিপূরণ পাবে। তবে কৃষি জমির উপড় ইটভাটা নির্মাণে কৃষি বিভাগের অনুমতি লাগলেও ওই ইটভাটায় কৃষি বিভাগ থেকে কোনো অনুমতি না নিয়েই তা নির্মাণ করা হয়েছে। আর অপরিকল্পিতভাবে ইটভাটা নির্মাণের ফলে গরম বাতাসে প্রতি বছর কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

scroll to top