কাল বৈশাখী ঝরে নিহত ১১ !

file-22.jpeg

ঢাকা,০৫ এপ্রিলঃ শনিবার (০৪ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আঘাত  হানা কাল বৈশাখী ঝর কেড়ে নিয়েছে ১১টি  তাজা প্রান। পাশাপাশি ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে । রাজধানী ঢাকাও রাস্তায় উপরে পরেছে গাছ ও বিলবোর্ড ভেঙে কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ।

ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ফসলের। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। বিধ্বস্ত হয়েছে কয়েক হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি।

সদরঘাটে নদী পারাপারের সময় ঝড়ের কবলে পড়ে হানিফ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের সময় দু’নৌকার মাঝখানে চাপা পড়ে তিনি নিহত হন বলে জানিয়েছেন নিহতের চাচাতো ভাই।

এছাড়া রাজধানীর রমনা থানাধীন মৎস্য ভবন সংলগ্ন রাস্তায় ঝড়ে বিলবোর্ড ভেঙে দুই রিকশাচালকসহ এক প্রাইভেটকার আরোহী আহত হয়েছেন। আহত রিকশাচালদের মধ্যে একজন হলেন তারা মিয়া (৩৮)। অপরজনের পরিচয় পাওয়া না গেলেও বয়স আনুমানিক ৫০ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়ার সাজাহানপুর উপজেলায় আব্দুল মান্নান ফাননা (৩০) নামে এক ব্যক্তি ঝড়ের তোপে গাছচাপা পড়ে মারা গেছেন।একই উপজেলায় পায়েল ওরফে বুদা (১৬) নামে এক ব্যক্তি দেয়াল চাপা পড়ে মারা গেছেন।

এছাড়া সোনাতলায় উপজেলায় লোহাগাড়া গ্রামে ফিরোজা বেওয়া (৫৫) ঘরের নিচে চাপা পড়ে এবং গাবতলী উপজেলার তিলিহাটা গ্রামে আসমা বেগম (৪৫) গাছের নিচে চাপা পড়ে মারা যান।

এদিকে, ঝড়ের কবলে শহরের গাছপালা ভেঙে পড়ে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে অসংখ্য বিদ্যুতের খুঁটি। এছাড়া নষ্ট হয়েছে মাঠের ফসল ও অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি।

অন্যদিকে, আদমদীঘিতে রেললাইনের ওপর গাছপালা ভেঙে পড়ে সান্তাহর থেকে দিনাজপুর ও দিনাজপুর-ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।images

ঝড়ের কবলে পড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অজ্ঞাতপরিচয় এক বৃদ্ধা ভিক্ষুকের মুত্যু হয়েছে। সন্ধ্যায় পুরাতন ফোকলোর চত্বর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঝড়ে দেয়ালচাপা পড়ে বাঘা উপজেলার পাকুরিয়ায় জাহানারা বেগম (৬৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া একই উপজেলার কিশোরপুর গ্রামে নদীতে মাছ ধরে ফেরার পথে নৌকা বাঁধতে গিয়ে পাড় ধসে মারা গেছেন এমাজউদ্দিন  (৪৫) নামে এক জেলে।

ঝড়ে আম, লিচুসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।  এছাড়া মহানগরীর সাহেব বাজার, গোরহাঙ্গা রেলগেট, নওদাপাড়া, বায়া, বিমানবন্দর থানার মোড়, শালবাগান এবং লক্ষ্মীপুর এলাকার রাস্তার ধারের বিভিন্ন গাছপালা ভেঙে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় সাইনবোর্ড ভেঙে গেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তার পাশের অস্থায়ী দোকান।

মহানগরীর বাইরে রাজশাহীর তানোর, গোদাগাড়ী, পবা, পুঠিয়া, বাগমারা, বাঘা, চারঘাট ও মোহনপুর উপজেলায় ঝড়ে আম, লিচু বাগান ও পানের বরজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কিছু স্কুল-কলেজের টিন উড়ে গেছে। কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রাজশাহীর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শরীফুল ইসলাম জানান, ঝড়ের পর মহানগরীর ভদ্রা ও সাগরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ওপর গাছ ও গাছের ডালপালা পড়ে যাওয়ার খবর পেয়েছেন তারা। বর্তমানে গাছ ও ডালপালা সরিয়ে রাস্তা পরিস্কারের কাজ চলছে।

রাজশাহী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী শাহীনুল ইসলাম জানান, ঝড়ের পরে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিদ্যুতের খুঁটির ওপর গাছ পড়ে যাওয়ায় সংবাদ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে সেসব স্থানে লাইন মেরামতের জন্য গাড়ি ও লোক পাঠানো শুরু হয়েছে।article

ঝড়ের কবলে পড়ে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের মাঝপদ্মায় অন্তত ৫ শতাধিক যাত্রী  নিয়ে ৬টি ফেরি আটকা পড়ে নোঙর করে থাকে।

ঘণ্টাখানেক পরে রাত পৌনে ৯টায় নদীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ওই রুটে ফেরি চলাচল শুরু হয় ও আটকাপড়া ফেরিগুলো গন্তব্যে ছেড়ে যায়।

 জামালপুরের পাঁচ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে পাঁচ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও বকশিগঞ্জ এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিআইডব্লিউটিসির মাওয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক চন্দ্র শেখর বিষয়টি  নিশ্চিত করেন।

ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে নদীতে ঢেউ কমে রাত পৌনে ৮টায় চলাচল স্বাভাবিক হয়। কালবৈশাখী ঝড়ে মেহেরপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে, ঝড়ের কবলে পড়ে মাঠের সবজিসহ বিভিন্ন ফসল ও উঠতি ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গুড়ার ধুনট উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে দরজা খুলতে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে আফজাল হোসেন (৫০) নামে এক কৃষক নিহত হয়। ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ঝড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে উপজেলা সদরসহ পুরো এলাকা। ঝড়ে আম, লিচু ও নানা জাতের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই ঝড়ে বিভিন্ন গ্রামের রাস্তার ধারের বিভিন্ন গাছপালা ভেঙে গেছে।

কালবৈশাখীর  প্রভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্ডুবাক এলাকায় ও সদর উপজেলার ভাদুগর এলাকায় রেললাইনে গাছ উপড়ে পড়েছে। এতে রাত সোয়া ৮টা থেকে ঢাকার সঙ্গে পূর্বাঞ্চলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াসিন ফারুক মজুমদার বিষয়টিনিশ্চিত করেন।

মান্দা উপজেলার মহানগর গ্রামে ঝড়ের কারণে দেয়ালধসে শাহনাজ বেগম (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।এ সময় আরো অন্তত ১৫ জন আহত হন। তাদের মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে চাঁদমারী এলাকায় ঝড়ে গাছের নিচে চাপা পড়ে জামেল উদ্দিন (৮০) নামে এক বৃদ্ধ চা বিক্রেতার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত জামেল উদ্দিন পাবনা পৌর এলাকার চক গোবিন্দা মহল্লার বাসিন্দা।  তিনি ‍রাতে চাঁদমারী মোড়ের অভিযান ক্লাবের পাশে নিজস্ব চায়ের দোকানে ‌ দুর্ঘটনার শিকার হন।

গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে জেলার সদর, আত্রাই, রানীনগর, বদলগাছী, পোরশা, সাপাহার, নিয়মতপুর, মান্দাসহ আশেপাপশের এলাকার শত-শত বাড়িঘরের চাল উড়ে গেছে। এসব এলাকার হাজার হাজার গাছপালা ও ফসলের ব্যবপক ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক ঝড়ে এসব এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

সবুজপাতা ডেস্ক

scroll to top