বাংলাদেশে পুরনো জাহাজ পাঠাবে না হাপাগ-লয়েড

Anis-Rahman-4.jpg

সবুজপাতা ডেস্ক, ০২ সেপ্টেম্বর: বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতমহাপাগ-লয়েড। কোম্পানির কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এখন থেকে তারা আরপুরোনো জাহাজ ভেঙ্গে ফেলার জন্য বাংলাদেশে পাঠাবে না। বিবিসির প্রতিবেদনেএমন তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পে যেরকম বিপদজনকপরিবেশে কাজ হয় তা বিবেচনায় নিয়ে হাপাগ-লয়েড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকেপুরোনো এবং বাতিল জাহাজ পাঠানো হবে চীনে। সেখানে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পে অনেকআধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। আর কায়িক শ্রম দিয়ে কাজটি করা হয় না।
হাপাগ-লয়েডের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা Anis Rahman (3)সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, সাগর তীরে তাদের জাহাজ ভাঙ্গা হোক এটা তারা চান না।
পুরোনোবা বাতিল জাহাজ বাংলাদেশে নাকি চীনে পাঠানো হবে এ নিয়ে জার্মানীতেহাপাগ-লয়েডের বোর্ড সভায় বিতর্ক হয়। বাংলাদেশের তুলনায় চীনে জাহাজ ভাঙ্গারখরচ বেশি, যদিও সেখানে অনেক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

কিন্তুশেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে কোম্পানির বোর্ড চীনকে এইকাজের জন্য বেছে নেয়। এখন থেকে হাপাগ-লয়েডের বাতিল জাহাজ যাবে চীনের ইয়াংজিনদীর মুখে একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে।

পুরোনো বা বাতিল জাহাজ কিভাবেভাঙ্গা হবে তা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই এই শিল্পে নানা বিতর্ক চলছে। জাহাজভাঙ্গা শিল্পের অন্যতম বড় কেন্দ্র বাংলাদেশের চট্টগ্রাম। সেখানে সাগর তীরেযেভাবে খালি হাতে বিপদজনক ভাবে জাহাজ ভাঙ্গা হয়, তা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।
Anis Rahman (2)

বাংলাদেশেরজাহাজ ভাঙ্গা শিল্পে নিরাপদ কর্মপরিবেশের জন্য আন্দোলন করছে এমন একটিসংগঠন ‘ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন’ বলছে, চট্রগ্রামে গড়ে প্রতি মাসেঅন্তত দুজন শ্রমিক জাহাজ ভাঙ্গার কাজ করতে গিয়ে মারা যায়।
হাপাগ-লয়েডের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামেহাজার হাজার মানুষ এই শিল্পে কাজ করে। বাংলাদেশের স্টিল রি রোলিং মিলগুলোজাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। ভাঙ্গা জাহাজের ইস্পাত এসব মিলেরিসাইক্লিং করে রড এবং অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী তৈরি করা হয়। সূত্র:বিবিসি

 

scroll to top