সোনাদিয়া দ্বীপের প্রাকৃতিক স্কুল

10517688_10152608188249603_40197654873619365_n1.jpg

জাফর একজন স্বপ্নের কারিগর। বন্ধুরা মিলে সোনাদিয়া দ্বীপে বেড়াতে গিয়ে আবিষ্কার করেন,সবাই এখানকার সৌন্দয্য উপভোগ করতে আসে, কেউ দিতে আসে না কিছু। মৎসজীবি সোনাদিয়ার বাসিন্দাদের সন্তানদের জন্য কোন স্কুল নেই। নেই শিক্ষার সুযোগ। তারা কয়েক বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নেন, এলাকাবাসীদের সহায়তা পেলে এখানে একটি স্কুল করবেন তারা। এখন সেখানে পরিচালিত হচ্ছে একটি স্কুল। শহরের আরাম আয়েশ ছেড়ে জাফর বেশিরভাগ সময় থাকেন প্রকৃতির কাছে। এলাকার মাতুব্বরদের সহায়তায় স্কুল চালানোর একটি জায়গা পেয়েছেন,কিন্তু প্রাকৃতিক দূর্যোগের মুখের উপর যে এলাকার অবস্থান,সেখানে শক্ত স্থাপনার একটি স্কুল দরকার। বাশ আর ছন দিয়ে তৈরী করেছেন দারুন এক প্রাকৃতিক শিক্ষালয়ের মানচিত্র। এখন বাস্তবে রুপ দেবার পালা। সে বিষয়ে  সবুজপাতার জন্য লিখেছেন জাফর বেগ ।

একমাত্র শিক্ষাই পারে মজবুতভাবে আত্মনির্মান করে অনন্য মানুষ উপহার দিতে, সেইসাথে মিথ্যা অপনোদন আর সত্য আবিষ্কার করতে—অথচ সোনাদিয়া দ্বীপের শতাধিক শিশু বেড়ে উঠছে শিক্ষা ছাড়াই—আলোর পৃথিবীতে এসেও তারা রয়ে গেছে কৃষ্ণগহবরে—তারা জানে না স্বপ্ন কি? কিভাবে স্বপ্নের কাছাকাছি যেতে হয়? কিভাবে স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখতে হয়?

Sonadia-island

ছোট্ট একটি দ্বীপ—প্রকৃতি তার সমস্ত রূপ ঢেলে সাজিয়ে দিয়েছে সোনাদিয়াকে। সরকারের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মানের পরিকল্পনা এখানে। বিলিয়ন ডলারের বানিজ্যের আধার হয়তোবা একদিন হবে সোনাদিয়া দ্বীপ। বাংলাদেশের অর্থনীতি-ই বদলে দেবে এই দ্বীপ। কিন্তু এখন তো সেখানে এক বিশাল অন্ধকার!

তথ্যপ্রযুক্তির এযুগে সোনাদিয়া দ্বীপের মানুষেরা ন্যূনতম সাধারন সুযোগ সুবিধাগুলো থেকেও বঞ্চিত। সোনাদিয়া দুর্গম হবার কারনে কেউ তেমন সহযোগীতা করে না। বহু প্রতিকূলতার মাঝে বেঁচে আছে সোনাদিয়া দ্বীপের মানুষ প্রাকৃতিক দূর্যোগ তাদের নিত্যসংঙ্গী এই দ্বীপের মানুষেরা উত্তাল সমুদ্রে মাছ ধরে তাদের জীবিকা র্নিবাহ করে থাকে। সোনাদিয়ার শতাধিক শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত তারা জানে না শিক্ষা কি? জানে না বই, খাতা, কলম, ব্ল্যাকবোর্ড কি?

তাই আমরা একটা পরিবার বা একটা শিশুকে পরিবর্তন না করে আস্তে আস্তে সমাজটা পরিবর্তন এর জন্য শিশুগুলোকে স্বপ্নের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বপ্নের সিঁড়ি তৈরি করার কাজ করে যাচ্ছি কিছু স্বপ্নবাজ তরুন। আমরা তারা সোনাদিয়া দ্বীপে ২০১২ সালে ৫০ জন ছেলেমেয়ে নিয়ে গড়ে তুলেছি একটি স্কুল “সোনাদিয়া পশ্চিমপাড়া মৎসজীবি বিদ্যালয়”—আজ সে বিদ্যালয়ে ১২০জন ছাত্রছাত্রী আছে ভর্তির অপেক্ষায় আছে আরো ৯০জন কিন্তু হাঁটি হাঁটি পা করে এগিয়ে এসেছে আলো নিতে।

10445117_10152608188234603_7388935619021609275_n

এই স্কুলটিতে রয়েছে অনেক সমস্যা—যার মধ্যে প্রধান সমস্যা হলো ছাত্রসংখ্যার তুলনায় শ্রেণীকক্ষ খুবই ছোট (যার অবস্তা খুবই খারাপ)যার জন্য খুব কষ্ট করে শিক্ষন কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হয় আর তাইতো সোনাদিয়ার এই স্কুলটি নিয়ে সেই স্বপ্নবাজ তরুনদের স্বপ্নগুলোও ডালাপালা মেলতে শুরু করেছে।

এখন তাদের স্বপ্ন সোনাদিয়া পশ্চিমপাড়া মৎসজীবি বিদ্যালয়টিকে বাঁশ ও কাঠের সমন্বয়ে অধিকসংখ্যক ছাত্রছাত্রী ধারনক্ষমতা সম্পন্ন একটি বিদ্যালয়ে পরিণত করা । তারা চায় না কোন শিশু বাদ পড়ুক শিক্ষার আলো থেকে। দ্বীপে আজ তারা আলোর দীপ জ্বালিয়ে দিয়েছে—সোনাদিয়ার শিশুরা আজ স্বপ্ন দেখে—তারাও মেধা বিকশিত করে অনন্য মানুষ হয়ে উঠতে চায়—নিজ ভাগ্য রচনা করতে চায়—আলোকিত হতে চায়-যে আলোর সন্ধান তারা পেয়েছে সে আলোকে চারদিকে ছড়িয়ে দিয়ে সমস্ত অন্ধকার দূর করে জীবনটাকে স্বপ্নময় করে তুলতে চায়—আর তারা জানে শিক্ষাই হচ্ছে তাদের স্বপ্ন পূরণের একমাত্র চাবিকাঠি

এখন আপনার সহযোগীতার মুখপানে চেয়ে স্বপ্ণবাজের দল,সাথে সোনাদিয়া দ্বীপের আলোর মুখ দেখতে চা্ওয়া শিশুরা।

সাহায্য করতে চাইলে : https://www.facebook.com/events/1439806542938583/ 

10265635_671353619579287_7020676251930411314_o

মোহাম্মাদ জাফর বেগ

প্রতিষ্টাতা, সোনাদিয়া স্বুল

scroll to top