গাছ হবে তারকাটার বিজ্ঞাপনমুক্ত ?

10426744_10152340704914597_9013291487729268347_n.jpg

“গাছের ও আছে প্রান, ব্যথার অনুভুতি তার মানুষের-ই সমান। গাছে নয় বিজ্ঞাপন, এ হোক আমার-আপনার পণ। গাছ নিধন করে যে-সবুজের শত্রু সে। গাছেই হোক বন্ধত্ব, প্রকৃতি থাকুক সুরক্ষিত। হাতে বাধি হাত, সবুজ বেঁচে থাক। গাছের জন্য তথা নিজের জন্যেই কথা বলি। গাছ বাচাঁই-সবুজ বাচাঁই।” 

ঢাকা; ২০ জুন: আপনার বসতি, এই নগর ঢাকা ,যুদ্ধ বিদ্ধস্থ সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক’র পরেই বিশ্বের বসবাস অযোগ্য ১৪০ টি শহরের মধ্যে ১৩৯ তম! কার অবদানে ঢাকার এ অবস্থান?

বসবাসের সুবিধার নানা সুচকের সাথে ওতপ্রতভাবে সম্পর্কিত এই নগরের পরিবেশ আর দূষন। একটি শহরের বসবাস যোগ্যতা বিবেচ্য হয় তার মোট আয়তনের অন্তত ২৫ ভাগ সবুজায়নে। অথচ মূল ঢাকায় সবুজের দেখা মেলে ৬ থেকে ৮ ভাগ এলাকায়। উপরন্তু এ শহরে প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করে প্রায় ৪৫০০০ মানুষ, যা বিশ্বে প্রায় বিরল। এত বেশি সংখ্যায় যেখানে মানুষের বাস, তত বেশি সংখ্যায় সবুজের আধিক্য প্রয়োজন, পানি-বৃষ্টি- অক্সিজেনের সুষম সম্মিলনের জন্য।
নাগরিকদের অবসাদগ্রস্ততা ও অস্থিরতা এবং বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের যে উগ্রতা ও হিংস্রতা, তার অনেক কারণের মধ্যে রয়েছে প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্নতা। আবার প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গে গভীর সংযোগ রয়েছে সামাজিক শান্তির। অথচ নগরে কতখানি সবুজের দেখা পান আপনি?

একটুমিলিয়ে নিন তো ঢাকার মধ্যে ধানমন্ডি লেক, রমনা-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, শের-ইবাংলা নগর ছাড়া বড় সবুজের আধার কোথায়? বারিধারা আর উত্তরাতে বসতির ফাঁকে ফাঁকে সবুজায়নের জায়গা থাকার কারণে এগুলো মধ্য সারির গ্রীনজোন হিসেবে পরিচিত। বাদ বাকী নগরের চিত্র আর এসব এলাকার চিত্রের সাথে মিলিয়ে আপনার করনীয় ঠিক করুন।
এই যে অল্প পরিমানের সবুজ যতটুকু টিকে আছে তার প্রতি আমাদের মমত্ববোধ কতটা? দেড়কোটির বেশি জনসংখ্যার বেঁচে থাকার জন্যে অক্সিজেন সরবরাহ করছে যে গাছ, ক্লান্ত পথিককে ছায়া মিলাচ্ছে আর পাখ-পাখালির খাবার জোগাচ্ছে যেই গাছ তার প্রতি আপনার আমার প্রতিদান কি?

10447854_573447606101549_4048561521563161871_n

তাকিয়ে দেখুন আপনার চারপাশ।রাস্তার দু ধার, কিংবা পার্ক যেখানেই একটি গাছ মাথা উচু করে দাড়িয়ে থাকার চেষ্টা করছে সেখানেই তাকে নুইয়ে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। কোথায় তার মাজায় দড়ি বেঁধে, কোথাও নির্বিচারে বিজ্ঞাপন বেঁধে, কোথাওবা গাছের গায়ে বড় বড় লোহার পেরেক ঠুকে সাঁটানো হচ্ছে ছোট বড় বিলবোর্ড।
আমাদের দৃষ্টির দূষন বাদ দিলেও কথনও কি ভেবেছি গাছেরও প্রান আছে? আপনার আমার শরীরের ব্যাথার অনুভুতি যতটুকু, একট গাছের ব্যাথার পরিমানও সমান। কিন্তু ব্যবধান একটাই, আপনি আমি চিৎকার করতে জানি, গাছ চিৎকার করে না। নিরবে আমার অক্সিজেন দিয়ে যায় যে, সবুজের শত্রুদের তারকাটার আঘাত নিরবে সয়ে যায় সে। এই গাছের জন্য কথা বলবে কে? আপনি নয় তো কে?
সবুজের সেচ্ছাসেবক আমরা যারা, তারা গাছের জন্য কথা বলছি, আর আপনাকে কথা বলার জন্য অনুরোধ করছি। কথায় গাছ কেটে ফেলা, গাছে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন দেয়া বন্ধ করি। আমার আপনার ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্যেই গাছের সুষ্ঠভাবে বেঁচে থাকাটাও জরুরী। গাছ আর পরিবেশ রক্ষায় তারুণ্য জেগে উঠছে, সেই জাগন আশা জাগানিয়া অনেক। আসুন হাতে হাত মেলাই, কন্ঠে আ্ওয়াজ তুলি:
“গাছের ও আছে প্রান, ব্যথার অনুভুতি তার মানুষের-ই সমান। গাছে নয় বিজ্ঞাপন, এ হোক আমার-আপনার পণ। গাছ নিধন করে যে-সবুজের শত্রু সে। গাছেই হোক বন্ধত্ব, প্রকৃতি থাকুক সুরক্ষিত। হাতে বাধি হাত, সবুজ বেঁচে থাক। গাছের জন্য তথা নিজের জন্যেই কথা বলি। গাছ বাচাঁই-সবুজ বাচাঁই।” 

সাহেদ আলম

সংবাদকর্মী

scroll to top