নদী বাচাঁতে তরুনেরা নদীর পাড়ে!

10376429_799549670057946_1797012373_o.jpg

ঢাকা, ২২ মে:  নদী বাঁচাতে তরুনরা ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করেছে। ‘বুড়িগঙ্গা আমার নদী, আমার ভবিষ্যৎ রক্ষায় আমি বুড়িগঙ্গা রক্ষা করি’ , এই ভাবনায় প্রায় ৪০০ শতাধিক তরুন তরুনী আজ সদরঘাট টার্মিনাল, বুড়িগঙ্গা নদী পরিষ্কার ও জনগণকে নদী রক্ষায় সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিশ্ব জীব-বৈচিত্র্য দিবস ২০১৪ পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার, গ্রীন ভয়েস, আঁচল, সবুজপাতা , ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, এনভায়রনমেন্ট ক্লাব-আইইউবি এর উদ্যোগে পালন করা হয় এ সচেতনতা কর্মসুচির।

উপস্থিত দের মধ্যে, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন,  আজ বিশ্বের সর্বোচ্চ দূষিত, পূঁতিগন্ধময়, অপরিস্কার, ময়লা অধ্যুষিত, ক্রমাগত পানিশূন্যতার শিকার, হতশ্রী এক নদী। একযুগের বেশী সময় ধরে বুড়িগঙ্গা রায় বিশাল জনদাবী, উচ্চ আদালতের নির্দেশ, নদী টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্ত থাকা স্বত্তেও এই নদী এখন মৃত্যুমূখী। কিছুতেই এর দখলদারদের সরানো যাচ্ছেনা । এ অবস্থায় বুড়িগঙ্গা রক্ষায় তরুণদের এই উদ্যোগ আমাদের জন্য আশার আলো দেখায়।

আবদুল মতিন বলেন বুড়িগঙ্গার পানিতে জমা হচ্ছে প্রচুর এমোনিয়া, ক্যালসিয়াম কোরাইড, সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড, সালফিউরিক এসিড, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাংগানিজ, লোহা, তামা, দস্তা, আর্সেনিক, ব্রোমিন, সীসা, নিকেল, স্ট্রংশিয়াম, ক্যাডমিয়াম, রবিডিয়াম, থ্যালিয়াম, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম, সীসা, আর্সেনিক ও দস্তা।  এদের পানিতে দ্রবিভূত অক্সিজেনের পরিমান এতই কম যে এগুলোতে কোন জলজ প্রাণী বা মাছ নাই।

10363288_799549796724600_1805210487_o

স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, জন-আকাংখা হচ্ছে: নদীর পাড় থাকবে দখলমুক্ত, পরিস্কার ও জনসাধারণের বসা ও বেড়ানোর জন্য উন্মুক্ত, পাড়ে দেয়াল নির্মান চলবেনা, মার্কেট করা চলবেনা।  এতে ঘাস ও গাছ লাগাতে হবে, নদীর পাড় হবে মানুষের আনন্দ ও বিনোদনের স্থান।

এই কর্মসুচি থেকে দাবী তোলা হয় নদী বার্চাঁতে। উচ্চ আদালতের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী বুড়িগঙ্গার সীমানা নির্ধারণ, সরকারী-বেসরকারী সকল দখল অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে হবে; (০২). অবিলম্বে হাজারীবাগের সকল ট্যানারী কারখানা সাভারে তাদের জন্য নির্দ্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। (০৩) বুড়িগঙ্গার পাড়ে কোন দেয়াল নয়, নদীকে সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবেনা, নদীর পাড় ঘাষ লাগানো, গাছ রোপন, সীমিত মানুষের বসার স্থান নির্মান, ময়লা ফেলার প্রয়োজনীয় ‘বিন’ স্থাপন করতে হবে, নদীর জন্য নিদ্দিষ্ট পরিচ্ছন্ন কর্মী নির্ধারিত রাখতে হবে; (০৪) বুড়িগঙ্গানদীপাড় বা নিকটবর্তী অন্যান্য শিল্পকারখানাসমূহে বর্জ্য পরিশোধন প্যান্ট সংযুক্ত করতে হবে; (০৫) ঢাকা ওয়াসা সংগৃহিত বাসাবাড়ীর বর্জ্যযুক্ত পানি নিষ্কাশন প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে; (০৬) দখল-দূষণ মনিটরিং এর জন্য সরকারী উদ্যোগে ও নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করে পর্যবেক নিয়োগ করতে হবে; (০৭) নদী টাস্কফোর্সকে আরো কার্যকর করতে হবে; (০৮).  দূর্বল নয়, শক্তিশালী নদী কমিশন নিশ্চিত করতে হবে, একে আমলা অধ্যুষিত নয় জনসম্পৃক্ত করতে হবে, এতে নদী-কর্মীদের সঠিক প্রতিনিধি নিতে হবে।

 কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। সভায় বক্তব্য রাখেন আবদুল মতিন সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), স্থপতি ইকবাল হাবীব যুগ্ম সম্পাদক বাপা, মিহির বিশ্বাস বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন,  শিক্ষাবিদ রাজীব মীর, সদস্য সবুজপাতা ট্রাস্ট,  আবদুল বাতেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ আইইউবি

নিজস্ব প্রতিবেদন, সবুজপাতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top