আমাদের বিষাক্ত করা বন্ধ করুন!

10299956_10154153684590486_2920468191209233368_n.jpg

 ঢাকা, ২১ মে;  সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘এফএও’ এবং দেশীয় সম্মিলত গবেষণা প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, বাংলাদেশের ৪০ ভাগ খাদ্যই রাসায়নিক উপাদান যুক্ত।  নিরাপদ খাদ্য নিয়ে তাই এখন সর্বকালের সবচে বেশি উদ্বেগ বিরাজ করছে ভোক্তা মহলে। ‘স্টপ পয়জনিং আস’ বা ‘আমাদের বিষাক্ত করা বন্ধ করুন’, এই স্লোগানে এবার মাঠে নামতে যাচ্ছে সাধারণ কিছু তরুন। পরিবারের সকলের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ থেকেই আয়োজন করতে যাচ্ছেন এক প্রতিবাদের উদ্দেশ্য, এ নিয়ে সকল মহল সোচ্চার হোক, বিষমুক্ত খাদ্য সরবারহে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

এ  লক্ষে, আগামী ২৩ মে বিকাল ৩ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খাবারে ভেজালের বিরুদ্ধে এবং এ বিষয়ে যথাযথ আইন প্রণয়নে একটি মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করতে যাচ্ছে সাধারন ভোক্তারা। এটি বাংলাদেশের কিছু সচেতন নাগরিকদের একটি সম্মিলিত উদ্যোগ। এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে যেই আশঙ্কাজনক হারে খাদ্যে ভেজাল ও দুষিত খাবারের প্রকোপ বাড়ছে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার। এই সমস্যা তৃণমূল থেকে শুরু করে দেশের সকল ছোট-বড় শহরগুলোতেও বিদ্যমান, তাই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য সকল ধরণের ভেজাল ফল, সবজি, মাছ-মাংশ, পোলট্রি, মশলা, যেন বাজারে বিক্রি না হয় তা ধীরে ধীরে নিশ্চিত করা। বর্তমানে এই সংগঠনের উদ্দেশ্য ভোক্তা এবং আমদানিকারকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

 10313364_10154119079920697_684418922342011964_nআমরা চাই সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে স্বচ্ছতা এবং সামাজিক মূল্যবোধ বজায় থাকুক। ইদানিং খাদ্যে ভেজালযুক্ত কেমিক্যাল বা ফরমালিনের ফলে মৃত্যুহার ও অসুখ ক্রমেই বাড়ছে। এর বিরুদ্ধে যদি আমরা এখনই সোচ্চার না হই তাহলে এর সঙ্গে যারা সম্পৃত্ত তারা শাস্তির উর্ধে রয়ে যাবে এবং খাবারে বিষ মেশানো থেকে নিজেদের বিরত রাখবেনা কখনোই।

 আমাদের এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটি পিটিশন দিচ্ছি যেখানে খাদ্য সুরক্ষা আইনে আর দৃঢ় এবং ভেজাল খাবারের চাহিদা এবং সরবরাহে কৃষক, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণের আহবান জানাব।

আপনাদের সকলকে অনুরোধ করছি খাবারে ভেজালের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করার জন্য এবং পিটিশনে স্বাক্ষর করে এবং সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের এই আন্দোলনের গতিকে বেগবান করার জন্য। সারা দেশে এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দিতে এটি আমাদের কর্মসূচির প্রথম ধাপ মাত্র। আসুন আমরা আর নীরবে এই অনাচার সহ্য না করে আন্দোলনে যোগ দেই। আমাদের সন্তান ও প্রিয়জনের সুস্বাস্থ্যের লক্ষ্যে আমাদের নিজ নিজ জায়গা থেকেই খাবারে ভেজালের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমরা ভবিষ্যতে একটি সুস্থ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অঙ্গীকারবদ্ধ।

আয়োজকদের পক্ষে

আজরা সেলিম, সচেতন অভিভাবক

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top