বান্দরবানে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের মহোৎসব

1020140217113125.jpg

banসবুজপাতা ডেস্ক: বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিভিন্নস্থানে অবৈধভাবে প্রাকৃতিক পাথর উত্তোলন চলছেই। ব্যাপকহারে প্রাকৃতিক পাথর উত্তোলনের ফলে ঝিড়িতে পানি শূন্যতার পাশাপাশি আগামী বর্ষায় পাহাড় ধসসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করছে স্থানীয়রা।

বিদুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জারিকৃত খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালা-২০১২ এর ৯৫ বিধি অনুসারে খাল, ঝিড়ি ও নদীতে ভাসমান পাথর ব্যতিত মাটি খুঁড়ে ও পাহাড় কর্তন করে পাথর উত্তোলন করা যাবে না শর্ত আরোপ করে পাথর আহরণের অনুমতি দেওয়া হলেও তা মানছে না স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার আলীকদম উপজেলার তৈন খাল, চৈক্ষং ইউনিয়নের বাঘের ঝিড়ি, বড় ঘরি ও ছোট ঘরি এলাকা থেকে অনেক প্রভাবশালী আইন অমান্য করে পাথর উত্তোলন করছে। পাথর উত্তোলনের ফলে ঝিড়ি, ঝরণার পানি শুকিয়ে যাওয়া ও পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাঘের ঝিড়ি পাড়া প্রধান প্রবীন চন্দ্র ত্রিপুরা।

এই ব্যাপারে স্থানীয় মনিন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, পাথর উত্তোলন ফলে গ্রীষ্মে ঝিড়ি, ঝরণা থেকে পানি পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে বর্ষায় পাহাড় ধস হতে পারে।

শুধু আলীকদম উপজেলা নয়, জেলার রুমা, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি, রোয়াংছড়ির বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রকাশ্যে আইন অমান্য করে পাথর উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা।

রোয়াংছড়ি উপজেলার ঘেরাউ মৌজাপ্রধান শৈসাঅং হেডম্যানের নামে ৩৪৯ নম্বর ঘেরাউ মৌজায় বলগা পাশের ঝিড়ি, ছোট বৈক্ষ্যং ঝিড়ি এবং ঘেরাউ প্রাংসা ঝিড়ি থেকে ২০ হাজার ঘনফুট পাথর উত্তোলনের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু শর্ত ভঙ্গ করে ক্রিংদাইং ঝিড়িসহ বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক ঝিড়ি থেকে অবাধে পাথর উত্তোলন করছেন তিনি।

আরো জানা গেছে, অনুমতিপত্রের নির্ধারিত ঝিড়ি থেকে পাথর উত্তোলন করা হয়নি। ক্রিংদাইং ঝিড়ির পানি প্রবাহের বিভিন্নস্থানে বাঁধ দিয়ে ঝিড়ির গতিরোধ করা হয়েছে। ঝিড়ির প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ করে মাটি খুঁড়ে পাথর উত্তোলন করা হয়েছে।

ক্রিংদাইং ঝিড়ি এলাকার থুই নু মারমা জানান, পাথর যা ছিল সব উত্তোলন করা হয়েছে। পাথর না থাকায় ঝিড়িতে পানি নেই, ফলে ঝিড়ির মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, শামুক বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

পাথর উত্তোলনের জন্য কোনো বিস্ফোরক ও যান্ত্রিক মেশিন ব্যবহার করার নিয়ম না থাকলে পাথর উত্তোলনকারীরা উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরক ব্যবহার করে পাহাড় থেকে পাথর উত্তোলন করছে। জেলার সরকারি কাজের জন্য এসব পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে বলে উত্তোলনকারীরা জানালেও ওই পাথর পাচার হচ্ছে জেলার বাইরে।

পাথর উত্তোলনকারী মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন বলেন, সরকারি নির্মাণ কাজেই জন্য আইন অনুসারে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, প্রতি ফুট পাথর ১২৫ টাকা করে বিক্রি করা হয়, প্রতিটি টিএইছ ট্রাকে করে ১৬০ ফুট পাথর পরিবহন করা যায়, যা ট্রাক প্রতি বিক্রি হয় ২০ হাজার টাকায়।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোকাকাব্বীর আহম্মেদ বলেন, কেউ আইন অমান্য করে পাথর উত্তোলন করছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top