প্রজাপতি রং ছড়াল আকাশে

WandererButterfly-DanausplexippusIMG_3117.jpg

 

Red-EasternTiger1

[checklist]সবুজাপাতা ডেস্ক: [/checklist]‘প্রজাপতি রূপসী, তুমি কি খুব উপোসি? ফুল থেকে খাও মধু, আর ঝরনা থেকে জল, নানা রকম রেশমি রঙে শরীরটা ঝলমল।’ প্রজাপতিকে নিয়ে এ অসাধারণ কবিতাটি লিখেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও কবি খালিদ হোসেন।

প্রজাপতি রঙে মাখা এক অপূর্ব সৃষ্টি। নান্দনিকতার ক্ষেত্রে প্রজাপতির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। শুধু তাই নয় প্রজাপতির প্রধান কাজ হলো ফুলের পরাগায়নে সাহায্য করা। আর এর মাধ্যমে উদ্ভিদকুল বীজ উৎপাদন করে বংশবিস্তার করতে সক্ষম হয়। এছাড়া ব্যবহৃত হয় খাদ্য শৃঙ্খলেও।

কিন্তু প্রকৃতি ধ্বংস, বনভোজন, চলচ্চিত্রের চিত্র ধারণ কর্মকাণ্ড, দর্শনার্থীদের সৃষ্ট শব্দ দূষণ ইত্যাদি প্রতিনিয়ত প্রজাপতির জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে। অপরপক্ষে বনভূমি উজাড় করার চলমান প্রক্রিয়াতে প্রকৃতির অপরূপ অলংকার প্রজাপতিকুল আজ অস্তিত্ব সংকটে।

প্রজাপতি সংরক্ষণে গণসচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল শুক্রবার ৪র্থ বারের মতো অনুষ্ঠিত হয় ‘প্রজাপতি মেলা-২০১৩’। ‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’। ২০১০ সাল থেকে জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন ধারাবাহিকভাবে ‘প্রজাপতি মেলা’ আয়োজন করে প্রজাপতির প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় প্রজাপতি মেলার উদ্বোধন ও প্রজাপতি বিষয়ক বইয়ের মোড়ক উšে§াচন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক এমএ মতিন। প্রতিবারের মতো এবারো মেলায় সার্বিক সহযোগিতা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কীটতত্ত্ব শাখা এবং ‘প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন’।

মেলায় জাল দিয়ে ঘিরে প্রদর্শনী স্টল তৈরি করা হয়। ফুলের ওপর খেলা করে সাত রঙের প্রজাপতি। লাল, নীল, হলুদ, বেগুনিসহ নানা রঙের প্রজাপতি রঙিন পাখা মেলে ওড়াউড়ি করে রং ছড়ায় আকাশে। রঙের জাদুতে মোহিত হয় দর্শনার্থীরা। শিশুদের মনেও আছে প্রজাপতির মতো রঙিন ডানা। তারা প্রজাপতির মতো ডানা মেলে ঘুরে বেড়ায় কল্পনার রঙিন ভুবনে।

মেলা উপলক্ষে শিশুদের প্রকৃতি ও প্রজাপতি সংরক্ষণে মনোযোগী করে তুলতে মেলায় আয়োজন করা হয় শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি বিষয়ক ডকুমেন্টরি প্রদর্শনী, প্রজাপতির আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রজাপতির আদলে তৈরি রং-বেরঙের ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা।

মেলা আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৩০০ প্রজাতির প্রজাপতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শনাক্ত করা হয়েছে ১০৪টি। সর্বশেষ এ বছর আরো ২টি নতুন প্রজাতির প্রজাপতি শনাক্ত করেন ড. মনোয়ার হোসেন। এ দুটি নতুন প্রজাতি হলো প্লেইনস ব্লু রয়েল ও ডাস্কি পার্টউয়িং। সন্ধান পাওয়া বাকি প্রজাতির মধ্যে রয়েছে লিম্ফালিড পরিবারের ‘কমন সার্জেন্ট’ ও ‘কমান্ডার’। পাইরিডি পরিবারের ‘ওয়ান্ডারার’ ও ‘ইন্ডিয়ান ক্যাবেজ’। ‘গাউডি ব্যারণ’ ও ‘কমন ভেলবেট বব’সহ আরো কয়েকটি প্রজাতির প্রজাপতি বাংলাদেশের শুধুমাত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top