Homeসবুজ উদ্যোগ৩০ নভেম্বরের মধ্যে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বন্ধের দাবি

৩০ নভেম্বরের মধ্যে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বন্ধের দাবি

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর: ৩০ নভেম্বরের মধ্যে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সুন্দরবন বিধ্বংসী সকল প্রকল্প বন্ধের দাবি জানিয়েছে সিপিবি ও বাসদ। সুন্দরবন রক্ষা অভিযাত্রা শেষে রোববার সকালে ২নং মনি সিংহ সড়কের মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে এর সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ। অভিযাত্রায় অংশ নেয়া কেন্দ্রীয় টিমের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে সূচনা বক্তব্য রাখেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ও বক্তব্য রাখেন সুন্দরবন রক্ষা অভিযাত্রা’র কেন্দ্রীয় টিমের শীর্ষ নেতা সিপিবির উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আহসান খান ও বাসদ’র সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান। সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন সিপিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অভিযাত্রা টিমের সদস্য সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা লক্ষী চক্রবর্তী, রুহীন হোসেন প্রিন্স, আব্দুল্লাহ্ হেল কাফী রতন, জলি তালুকদার, বাসদ নেতা প্রকৌশলী শম্পা বসুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সিপিবি-বাসদ এর উদ্যোগে গত ১৩ অক্টোবর বিকেল ৩টায় ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সমাবেশ শেষে যাত্রা করে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী যাত্রা পথে সাভারের রানা প্লাজার সামনে, মানিকগঞ্জের প্রেসক্লাব চত্তরে, গোয়ালন্দ মোড়ে, ফরিদপুর জনতা ব্যাংকের সামনে, মধুখালিতে, মাগুরা পৌরসভার সামনে, ঝিনাইদহে পায়রা চত্বরে, যশোরে চিত্রা মোড়ে, ফুলতলা, দৌলতপুর, খুলনা হাদিস পার্কে, কাটাখালী মোড়ে এবং বাগের হাটে পুরাতন কোর্ট চত্বরে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে অভিযাত্রা শেষ হয়। এই অভিযাত্রায় পথে পথে মোট ১৪টি পথসভা, সমাবেশ ও জনসভা অনুষ্ঠিত হয় এবং লক্ষাধিক লিফলেট ও ৫ হাজার পুস্তিকা বিলি করা হয়।

মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, “আমরা বিদ্যুৎ চাই, তবে সুন্দরবন ধ্বংস করে নয়। বিদ্যুতের অনেক বিকল্প আছে সুন্দর বনের কোনো বিকল্প নেই। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সুন্দরবন বিধ্বংসী সকল প্রকল্প বাতিল কর,” ‘দেশী-বিদেশী লুটেরাদের মুনাফার কবল থেকে বাংলাদেশের ফুসফুস সুন্দরবন বাঁচাও’, ‘সুন্দরবন ধ্বংস করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চাইনা’-এই স্লোগান নিয়ে অনুষ্ঠিত সিপিবি-বাসদের ‘সুন্দরবন রক্ষা অভিযাত্রায়’ দুই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ছাড়াও পথে পথে বিপুল সংখ্যক জনগণ সভা-সমাবেশে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনের দাবির প্রতি সমর্থন জানায়। সরকারি দল ও পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ মঞ্চ ভেঙে, মাইক ব্যবহার করতে না দিয়ে, লিফলেট বিলিতে বাধা দিয়ে উস্কানি দেয়ার চেষ্টা করেছে। সিপিবি-বাসদ সরকারের চক্রান্তের ফাঁদে পা না দিয়ে জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করার এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করে ‘সুন্দরবন রক্ষা অভিযাত্রা’ সফল করেছে।”

খালেকুজ্জামান বলেন, “শুধু রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয় ইতিমধ্যে সুন্দরবনের কাছে জমি দখলের হিরিক পড়েছে। সরকারি দলের লোকজন ও ব্যবসায়ীরা নানা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। রামপাল প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন ও মাটি ভরাট বরাদ্দ নিয়েও দুর্নীতি চলছে। সরকার যুক্তিতে না এসে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলা করে জনমত স্তব্ধ করতে চাচ্ছে। তাতে কাজ হবেনা।” সিপিবি-বাসদের কর্মসূচিতে জনগণের ব্যাপক সমর্থন ও অংশগ্রহণের জন্য তিনি জনগণকে ধন্যবাদ জানান এবং সরকারি দল ও প্রশাসনের বাধা, হুমকীর তীব্র নিন্দা জানান । একই সাথে অভিন্ন দাবিতে বাম মোর্চার রোড মার্চে পুলিশী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সুন্দরবনসহ প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ তথা বাংলাদেশ যে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে তা উল্লেখ করে এ বিষয়ে উন্মুক্ত বিতর্কের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি পুনরায় চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেন। তিনি সুন্দরবনসহ প্রাকৃতিক ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় জাতীয় কমিটির আন্দোলনকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয় ইতিমধ্যে জনগণ সুন্দরবনের ১৪ কিলোমিটারের মধ্যে বিদ্যুকেন্দ্রসহ সকল স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। জনগণের এই সমর্থন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি জানানো হয়।

১. আগামী ৩০ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে ২১ এর আগেই রামপাল ও ওরিয়নের কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান বন্ধ করা হোক।

২. বিদ্যুৎ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদদের মতামতের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক।

৩. বিদ্যুতের মতো অত্যাবশ্যকীয় বিষয় মুনাফা শিকারী ব্যবসায়ীদের হাতে নয় বরং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় রাখা হোক।

৪. আন্দোলনকারীদের প্রতি বিদ্ধেষ না ছড়িয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার না করে প্রয়োজনে উন্মুক্ত বির্তক আয়োজন করা হোক, যাতে জনগণ জানতে পারে কারা প্রকৃত পক্ষে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করছে।

কর্মসূচি
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৬ নভেম্বর সিপিবি-বাসদ-এর উদ্যোগে সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ঘোষিত আগামী ২৯ অক্টোবর ঢাকায় সমাবেশ এবং ১৪ নভেম্বর সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কনভেনশনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তা সফল করার জন্য সিপিবি-বাসদের নেতা কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের ঘোষণা না দিলে ঢাকা অভিযানসহ বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.