Homeসবুজ বিতর্কহাতবদল হয়ে ব্যবহার হচ্ছে মেডিকেল বর্জ্য, মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা

হাতবদল হয়ে ব্যবহার হচ্ছে মেডিকেল বর্জ্য, মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা

তারিকুল হাসান আশিকঃ  রাজধানীতে সাধারণ বর্জ্যের সাথে ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেল বর্জ্য মিশিয়ে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দূষণ সৃষ্টির পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাধ্যমে সেসব হাতবদল হয়ে আবার ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠছে। এতে নানা মারণব্যাধির ঝুঁকি বাড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি ব্যয়বহুল হওয়ায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ক্ষতিকর বর্জ্য ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে জুলাই মাসের মধ্যেই মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কঠোর করতে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।

রাজধানীর শিশু হাসপাতাল এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের মাঝখানে রয়েছে বর্জ্যের স্তূপ। এসব কোন সাধারণ বর্জ্য নয়। এখানে রয়ছে হাসপাতালে ব্যবহার করা সূঁচ, সিরিঞ্জ, তুলাসহ নানা ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেল বর্জ্য। রাজধানী বড় বড় অনেক হাসপাতালের বর্জ্যও এখন ফেলা হচ্ছে ডাস্টবিনে। দূষণের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এসব বর্জ্য থেকে বিক্রয়যোগ্য পণ্য বেছে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, অল্প সময়ে ও সহজে যাতায়াত করতে এই পথটি ব্যবহার করেন তারা। কিন্তু এই রাস্তায় দূষিত ও ক্ষতিকর এসব বর্জ্য ফেলাতে নানা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।

অপর একজন অভিযোগ করে বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এসব পণ্য থেকে বিক্রয়যোগ্য পণ্য বেছে নিয়ে অন্যত্র বিক্রয় করছে। এছাড়া কিছুটা পরিস্কার করে সে বর্জ্য আবার বিক্রয় করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এর জন্য নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সচেতনতার অভাবকে দুষলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা শিশু হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ এইচ এস কে আলম জানান, এসব বর্জ্য ধ্বংস করার জন্য প্ল্যান্ট এবং জায়গার সীমাবদ্ধতা আছে তাদের।

এছাড়া পঙ্গু হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ আমিনুল ইসলাম পাঠান সবুজপাতাকে জানান, উৎপন্ন মেডিকেল বর্জ্যের মাত্র ৮ ভাগ প্রিজম নামের একটি বেসরকারি সংস্থা নিয়ে গেলেও বাকি ৯২ ভাগ মেডিকেল বর্জ্য সাধারণ বর্জ্যের সাথে মিশে যাচ্ছে।

এসব বর্জ্যের মাধ্যমে হেপাটাইটিস ‘বি’ যক্ষা বা এইডসসহ নানারকম ব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের।

এ বিষয়ে শহীদ সোহরোওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ উত্তম কুমার জানান, এ মেডিকেল বর্জ্যের এ ধরনের অপব্যবহারের ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।

খুব শীঘ্রই মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কঠোর করতে বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক কমডোর আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, মেডিকেল বর্জ্যের নির্ধারিত স্থানে ফেলতে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনে বাধ্য করবেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে রাজধানীতে নিবন্ধিত অনিবন্ধিত প্রায় দেড় হাজার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন পঞ্চাশ টন বর্জ্য সৃষ্টি হয়।

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.