Homeবন ও বণ্যপ্রানীসুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা নামবে অর্ধেকে !

সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা নামবে অর্ধেকে !

বাগেরহাট, ১২ মার্চঃ সুন্দরবনে ‘ক্যামেরা ট্র্যাপ’ পদ্ধতিতে চলছে বাঘ গণনার কাজ ।জুনে প্রকাশ হবে বাংলাদেশ অংশের ফল। সম্প্রতি ভারতের সুন্দরবন অংশে ফল ঘোষণা করা হয়েছে। ২০০৪ সালে পায়ের ছাপ পদ্ধতি অনুসরণ করে ভারত অংশে পাওয়া যায় ২৭০টি বাঘ। এবার ক্যামেরা ট্র্যাপ পদ্ধতিতে ভারতে ৭৬টি বাঘের সন্ধান মিলেছে। বাংলাদেশ অংশেও এমনটি কমবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে সোয়া ৬ হাজার বর্গকিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ৩৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নমুনা অংশ ধরে তিনটি ব্লকে ভাগ করে ‘ক্যামেরা ট্র্যাপ’ পদ্ধতিতে বাঘের ছবি সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব ব্লকে ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ‘ক্যামেরা ট্র্যাপে’র মাধ্যমে গণনা করা হয়। একই পদ্ধতিতে দ্বিতীয় ধাপে দক্ষিণ ব্লকে ৬৪০ বর্গকিলোমিটারে ছবি তোলা চলছে।

মার্চের শেষে বন থেকে ক্যামেরাগুলো উঠিয়ে আনা হবে। জুন মাসে ঘোষণা করা হবে বাঘের সংখ্যা।পদ্ধতিগত ত্রুটি, বাঘ শিকার সহ নানা বিষয়ে বাঘ কমে যেতে পারে বলে ধারনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাঘশুমারি বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জাহিদুল কবির জানান, গণনায় ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ধরনের ক্যামেরা, যা বাঘের বিচরণ এলাকা শনাক্ত করে গোপনে গাছে লাগিয়ে রাখা হয়। ক্যামেরার সামনে যা কিছুই নড়াচড়া করবে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে তারই ছবি ধারণ করবে। ভারতে যে বিশেষজ্ঞরা গণনা করেছেন, বাংলাদেশের গণনায়ও তারা সহযোগিতা করছেন।141209200405_bangla_sundarbans_tiger_census_camera_640x360_bbcbangla

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রকল্প ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৩ সালে ক্যামেরা ট্র্যাপ পদ্ধতিতে বাঘ গণনা শুরু হয়। চলবে এ বছরের জুন পর্যন্ত। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

বাঘ গণনার প্রথম ধাপ শেষ হয় ২০১৪ সালের এপ্রিলে। এ সময় বাঘের ছবি ধারণের জন্য সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে ৮৯টি স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। প্রথম ধাপ শেষে ক্যামেরাগুলো উঠিয়ে আনা হয়।

দ্বিতীয় ধাপে বাঘ গণনার জন্য ২০১৪ সালের ১১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মাঠকর্মীরা ৩৫টি স্পটে দুটি করে মোট ৭০টি ক্যামেরা বসান।

বাঘশুমারির দায়িত্বে থাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণের খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. জাহিদুল কবির বলেন, “পায়ের ছাপ পদ্ধতিতে ২০০৪ সালে বাঘের সংখ্যা গণনা করা হয়। বৈজ্ঞানিক ভিত্তি না থাকায় ২০০৫-০৬ সালে বিশ্বব্যাপী পায়ের ছাপ পদ্ধতি অগ্রহণযোগ্য মনে করা হয়। পরবর্তী সময়ে ভারত ‘ক্যামেরা ট্র্যাপ’ পদ্ধতি শুরু করে। পরে বিভিন্ন দেশেও পর্যায়ক্রমে এ পদ্ধতি চালু হয়। ‘ক্যামেরা ট্র্যাপ’ পদ্ধতিতে গণনায় বাঘের সংখ্যা আগের তুলনায় কমে আসছে।”

জাহিদুল কবির আরো বলেন, “ভারতের সুন্দরবন অংশে ক্যামেরা ট্র্যাপ পদ্ধতিতে গণনা শেষ হয়েছে। ‘পায়ের ছাপ’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ অংশে যখন বাঘ ছিল ৪৪০টি, তখন ভারত অংশে ছিল ২৭০টি। এবার ‘ক্যামেরা ট্র্যাপ’ পদ্ধতিতে ভারতে মিলেছে ৭৬টি বাঘ। পদ্ধতিগত কারণেই এত কম। সে হিসাবে বাংলাদেশেও বাঘের সংখ্যা কমে আসা অস্বাভাবিক নয়।” তবে বাংলাদেশে বাঘ হত্যার বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়া যায় না বলে মনে করেন তিনি।

শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল খলিফা বলেন, ‘সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় আগে বাঘ দেখা যেত। এখন তেমন দেখা যায় না। বনদস্যুরা বাঘ হত্যা করছে।’24112012122250pmchinese_medicine_1

তিনি আরও বলেন, ‘যে সব বাঘের চামড়া পাচার হয়ে যাচ্ছে, সেগুলোর হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। উদ্ধার হওয়াগুলোরই হিসাব রাখা হচ্ছে। এভাবে বাঘ হত্যা উদ্বেগের বিষয়।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছয়টি শিকারী দল বাঘ হত্যায় তৎপর রয়েছে। তারা সুযোগ পেলেই বাঘ হত্যা করে, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিভিন্ন দেশে পাচার করছে। পশ্চিম বন বিভাগে শিকারীরা বেশী তৎপর। সম্প্রতি তিন মাসের ব্যবধানে র্যা ব তিনটি বাঘের চামড়াসহ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ উদ্ধার করেছে।

বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৮০ থেকে এ পর্যন্ত চোরা শিকারী ও বনদস্যুদের হামলা, গ্রামবাসীর পিটুনী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে সুন্দরবনের ৭০টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.