Homeসবুজ সংবাদ‘সারা বছর গোসল করার বুড়িগঙ্গা চাই’

‘সারা বছর গোসল করার বুড়িগঙ্গা চাই’

ঢাকা, ৯ আগষ্ট: সারা বছর গোসল উপযোগী বুড়িগঙ্গা চাই, এই দাবী বুড়ীগঙ্গায় গোসল করা ছাড়া যাদের কোন গত্যন্তর নেই তাদের। রায়ের বাজার বধ্যভুমি পেরিয়ে বসিলা পুরাতন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘাটে এসে  বাসিন্দাদের সেই দাবীর সমর্থনে সুধী সমাজও একাত্বতা জানালেন আজ। উপভোগ করলেন বুড়ীগঙ্গার জলে স্থানীয়দের বাধ ভাঙা জলকেলি। কেননা, এখন ভরা বর্ষা মৌসুম। নদীর চিরায়িত ঘোলা পানি এখন ঢাকার প্রাণ এই নদীতে। সারা বছর যেখানে থাকে কুচ কুচে কালো দুর্গন্ধযুক্ত দূষিত পানি।

বুড়ীগঙ্গার মধ্যে স্থানীয়দের বাধ ভাঙা জলকেলি-নিজস্ব ছবি

বুড়ীগঙ্গার মধ্যে স্থানীয়দের বাধ ভাঙা জলকেলি-নিজস্ব ছবি

সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, পরিবেশ আইনজীবি সমিতি- বেলা’র নির্বাহী, ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বাপা’র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শাজাহান মৃধা বেণূ, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, অভিনেতা হাসান মাসুদ, বিআইডব্লিউটিএ’র  যুগ্ম পরিচালক সাইফুল ইসলাম আর নদী নিয়ে আন্দোলনরত বেশ কয়েক সংগঠনের প্রধানরা ছিলেন তাদের কর্মীদল নিয়ে।

বক্তাদের কথায় ক্ষোভ আর হতাশা থাকলেও এই নদীকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় না ফিরিয়ে আনা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার প্রত্যয় ছিল।তারা বলেন, নদী সুরক্ষায় আইন আছে, আদালতের নির্দেশনা আছে, রাষ্ট্রের সর্বচ্চ ব্যাক্তিটি ও নদীর সুরক্ষা চান। তবে আইনকে শ্রদ্ধা না করে গুটি কয়েক ব্যক্তি আর প্রতিষ্ঠান নদী দূষণ ও দখল করছে। তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সম্মিলিত ভাবে রুখে দাড়াতে হবে। ভয় ভীতির উর্দ্ধে বৃহৎ স্বার্থে রাষ্ট্রের এদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

সুলতানা কামাল বলেন, নদী পাড়ের সকল মানুষই নদীর রক্ষক তথা রিভার কিপার হিসেবে কাজ করবে। আমরা সবাই মিলে আমাদের নদী বাঁচাব। দুষণমুক্ত রাখব সরা বছর সাতার উপযোগী রাখব। কারণ নদী না বাঁচলে নগর, সভ্যতা জীবন কিছুই বাঁচবেনা।

Buriganga Campaign

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, আমাদের সন্তানেরা এখন কম্পিউটারে নদী দেখে। সুইমিংপুলে সাতার শেখে। যা ভীষণ কষ্ট দেয় মনে। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নদীর নাব্যতা রক্ষার যে নির্দেশ দিয়েছেন তার দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চান তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা।   বেলা’র সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন,  বুড়িগঙ্গার সীমানা পিলার দেখে মনে হল নদীর পাড় আর নেই। অনেক পিলারই স্থাপন করা হয়েছে নদীর মাঝে।  নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করার রাজনৈতিক সদিচ্ছারও ঘাটতি আছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে জনমুখি করতে নদীপাড়ের মানুষের জোরালো ভূমিকা রাখতে পারেন।

হাসান মাসুদ বলেন, নিউইয়র্কের হাডসন  নদীপাড়ের মানুষেরা যেভাবে একতাবদ্ধ হয়ে নদীকে দূষণমুক্ত করেছে আমাদেরকেও তাই করতে হবে। আগামী নির্বাচনের ইশতেহারে ঢাকার পাশের নদী দূষণ মুক্ত করার কথা যুক্ত করতে হবে।

নদী বিষয়ে সচেতনতায় বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার নামক একটি সংগঠনের উদ্যোগে এই আন্দোলনে অংশ নেয়, বাপা, বেলা ,সবুজ পাতা, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, হিমু পরিবহন, পরিবর্তন চাই, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, গ্রীণ ভয়েস, আঁচল ট্রাস্ট, এনডিএফ, ফ্রেন্ডস অব রিভার্স এবং গ্রীণ ম্যাগাজিন, বছিলা ইউনাইটেড ক্লাব সহ ১৩টি সংগঠন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আয়োজক রিভারকিপারের শরীফ জামিল।

 তারিকুল হাসান আশিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, সবুজপাতা।

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.