Homeসবুজ বিতর্কসাগরের পানি আর কত বাড়বে?

সাগরের পানি আর কত বাড়বে?

 সবুজপাতা ডেস্ক, ৪ মার্চঃ জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন, তা ধীরে ধীরে ভীতিজনক হয়ে উঠছে৷বিজ্ঞানীদের চোখ এখন সুমেরু-কুমেরুর বরফের আস্তরণের দিকে, যা পুরোপুরি গললে সাগরের জল বাড়তে পারে দু’শো ফুট!

‘ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ বা আইপিসিসি তিন বছর আগেই অনুমান করার চেষ্টা করেছিল, বিশ্বের উষ্ণায়নের ফলে সাগরের পানি কতটা বাড়তে পারে৷ শুধু একটি ভুল হয়ে গিয়েছিল: গ্রিনল্যান্ড আর অ্যান্টার্কটিকা অর্থাৎ কুমেরুর বরফের আস্তরণ গললে কি ঘটবে, সেটা তারা হিসেবের মধ্যে ধরেননি৷ ওদিকে এই দুটি অঞ্চলে বিশ্বের মিষ্টি পানির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ধরা রয়েছে৷ গ্রিনল্যান্ডের বরফের আস্তরণ গললে সাগরের পানি বাড়বে ছ’মিটার বা ২০ ফুট৷ কুমেরুর বরফ গললে সাগরের জল বাড়বে ৬০ মিটার বা ২০০ ফুট৷

বিপদ তো শুধু একদিক থেকেই নয়৷ বরফ গলে জল বাড়া এক কথা; আবার সাগরের জলের তাপমাত্রা বেড়ে সেই জলের সম্প্রসারণ আরেক কথা৷ জার্মানির বন বিশ্বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী রোলেয়ফ রিটব্রুক ডয়চে ভেলে-কে বলেছেন যে, সাগরের পানি বাড়ার ক্ষেত্রে সাগরের জলের তাপমাত্রা বাড়ার প্রভাব এর আগে যা ভাবা গিয়েছিল, তার অন্তত দ্বিগুণ৷ যেমন বর্তমানে সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ছে বছরে প্রায় ২ দশমিক সাত মিলিমিটার করে – তার প্রায় অর্ধেকই নাকি জলের তাপমাত্রা বাড়ার ফলে৷

ওদিকে মার্কিন বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, সাগরের পানির তাপমাত্রা বাড়ার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে – প্রাক-শিল্পায়ন আমল থেকে সাগরের পানির তাপমাত্রা যতটা বেড়েছে, তার অর্ধেকই নাকি এসেছে গত দুই দশকে৷ এই অতিরিক্ত তাপ বা উষ্ণতার ৩৫ শতাংশ নাকি জমা হয় সাগরের ৭০০ মিটার নীচের পানিতে – বিশ বছর আগেও সাগরের পানির এই স্তরে জমা হত মাত্র ২০ শতাংশ অতিরিক্ত তাপ৷

যেভাবেই দেখা যাক, পরিস্থিতি শঙ্কা সৃষ্টি করতে বাধ্য৷ কুমেরুর বরফ সুমেরুর চেয়ে বেশি স্থিতিশীল বলে ধারণা ছিল, কিন্তু বিগত কয়েক দশকে দক্ষিণ মেরুর তুষার – বিশেষ করে পশ্চিমাংশের – গলতে শুরু করেছে এবং ক্রমেই আরো দ্রুতহারে গলছে৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন, কুমেরু আর গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলা থেকে বিশ বছর আগে সাগরের পানি যতটা বাড়ছিল, আজ তার তিনগুণ বেশি বাড়ছে৷ সর্বশেষ ভবিষ্যদ্বাণী হল, সাগরের পানির তাপমাত্রা যদি আজকের তুলনায় দুই ডিগ্রি বাড়ে, তাহলে দক্ষিণ মেরুর পশ্চিমাংশের সব বরফ গলে যাবে৷ পূর্বাংশের বরফও নাকি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে আর পুরোপুরি মুক্ত নয়৷

তাহলে সমাধান? পুরোপুরি কার্বন নির্গমন বন্ধ করা, যা কিনা সম্ভব নয়৷ তাহলে? শহর ছাড়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে মানুষজনকে, বিশেষ করে উপকূলের শহর৷ কিন্তু কোথায় যাবে তারা? বাস্তুত্যাগ আর অভিবাসনের সেই কাহিনি কি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে যায়নি?- ডিডব্লিউ

Post Tags
No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.