Homeসবুজ জীবনলাখো মানুষ পানিবন্দি, দুর্ভোগ বাড়ছেই

লাখো মানুষ পানিবন্দি, দুর্ভোগ বাড়ছেই

বাগেরহাট, ১১ জুলাই: গত তিন দিনের ভারী বর্ষণে বাগেরহাট সদর ও মংলা বন্দর এলাকার অধিকাংশ সড়ক, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা ও সরকারি খালগুলো দখলের ফলে উপকূলের এই জেলার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বন্যার্তরা।

মংলা পৌর শহরের মধ্যে তিনটি খালে স্লুইস গেট নির্মাণ ও ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি জমে দেখা দিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। নিম্নাঞ্চলসহ অনেক আবাসিক এলাকার বাসাবাড়ির মধ্যে হাটু থেকে কোমর পানি থৈ থৈ করছে। পৌর কর্তৃপক্ষ বর্ষা মওসুমের আগে পানি নিস্কাশনে কার্যকরী ব্যবস্থা না নেয়ায় এখন স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শহরের কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি অফিসের নিচতলা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

এছাড়া নয়টি উপজেলার কয়েক হাজার পুকুর ও চিংড়ি খামার থেকে শুরু করে তলিয়ে গেছে বসতঘরও। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা, সরকারি খালগুলো ভরাট ও দখল হওয়াতে বৃষ্টির পানি নামতে পরছে না বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে পানগুছি নদীর তীরবর্তী মোড়েলগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলা সদর প্লাবিত হয়েছে। অবিরাম বর্ষণে নিম্নাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সিডর ও আইলা বিধ্বস্ত শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।

473,3560,0,1463,96,1024,996,998,1077,40908,0

মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হয়ে তিন দিনের ভারী বর্ষণে বাগেরহাট শহরের মিঠাপুকুর পাড়, শালতলা, সাধনার মোড়, কাজী নজরুল ইসলাম রোড, রাহাতের মোড়, পুরাতন কোর্ট, মডেল থানা চত্বর, শহীদ অজিয়র রোড, আলিয়া মাদরাসা রোড, ভিআইপি রোড এমনকি খোদ পৌরসভার সামনের রেলরোড হাটু পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব সড়কের দুই পাশের অধিকাংশ দোকানপাট তলিয়ে গেছে। এছাড় শহরের খারদ্বার, বাসাবাটি, নাগেরবাজার, সরুই আমরাপাড়া, মুনিগঞ্জ, মালোপাড়া, হাড়িখালী, গোবরদিয়া, খানজাহান পল্লীসহ শহর রক্ষা বাঁধের অধিকাংশ আবাসিক এলাকার নীচতলায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, মংলা শহরের কুমারখালী, ঠাকুর রানী ও কাইনমারী খালে স্লুইস গেট নির্মাণ করায় খাল তিনটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে বৃষ্টির পানি জমে পৌর এলাকা তলিয়ে গেছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ কাজের কারণে অধিকাংশ ড্রেন বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না। শহরতলীর শেলাবুনিয়া, কুমারখালী, মিয়া পাড়া, জয় বাংলা, চরকানা, সিগনাল টাওয়ার, কবরস্থানসহ অধিকাংশ আবাসিক এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে থাকায় পথচারীসহ যানবাহনগুলো অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

আবাসিক এলাকার বাসা-বাড়ি, পুকুর, বাড়ির ওঠানসহ সবকিছু পানিতে ডুবে রয়েছে। অনেক বাসা-বাড়ির রান্না করার জায়গা পর্যন্ত বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। এই অবস্থায় গৃহপালিত পশু ও হাঁস-মুরগী নিয়ে পরিবারগুলোর ভোগান্তির শেষ নেই। জমে থাকা পানি স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নেয়ায় মারাত্বক পরিবেশ দূষণ ঘটছে।

পানিবন্দি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাগেরহাট পৌর শহরসহ জেলা সদরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে ঘেছে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা ও সরকারি খালগুলো দখল করায় বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না।

বাগেরহাট পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র তালুকদার এ বাকী বাংলামেইলকে জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তারা পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পানি নিষ্কাশনে কাজ করে যাচ্ছেন।

এদিকে, টানা বৃষ্টিপাত ও জলবদ্ধতার কারণে খেটে খাওয়া দরিদ্র লোকজন কাজে যেতে না পারায় তাদের মাঝে চাল বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

এ ব্যাপারে মংলা পৌর মেয়র জুলফিকার আলী  জানান, পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ বসিয়ে ও ড্রেন কেটে জলাবদ্ধ এলাকা থেকে পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিন দিনের ভারী বর্ষণে জেলার তিনটি পৌরসভাসহ নয়টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পুকুর, চিংড়ি খামারসহ আমনের বীজ তলা, পানের বরাজ পানিতে তলিয়ে গেছে। সবকটি উপজেলা প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। তালিকা পেলেই ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেয়া হবে।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.