Homeসবুজ নির্মাণমেট্রোরেল সুবিধা ২০১৯ সালের মধ্যেই-প্রধানমন্ত্রী

মেট্রোরেল সুবিধা ২০১৯ সালের মধ্যেই-প্রধানমন্ত্রী

“মেট্রোরেল প্রতি ঘন্টায় ৮০,০০০ যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। ফলে মেট্রোরেল স্থাপিত হলে রাস্তায় যাত্রী এবং পরিবহন উভয়ের ওপরই চাপ কমবে।”এ মন্তব্য করেন যোগাযোগ বিশেষঙ্গ ড: এস এম সালেহউদ্দিন।

ঢাকা, ৬ জুলাই: ‘২০১৯ সালের মধ্যে ঢাকাবাসী মেট্রোরেলের সুবিধা পাবে’ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।রোববার সকালে যোগাযোগমন্ত্রণালয় পরিদর্শন করতে এসে এ কথা জানান তিনি।ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় ২০.১ কিলোমিটারব্যাপী মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এর-ই মধ্যে কাজ শুরু করেছে সরকার।

এর আগে ২০১৩ সালে ৩১ অক্টোবর মেট্রোরেল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গাজীপুরে ভা্ওয়ালে লাইন-৬ এর রুটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে মুলত দেশবাসী মেট্রোরেল সর্ম্পকিত স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। গেল মাসে জাপান সফরে এর অর্থায়ন নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে বক্তব্য যোগাযোগ মন্ত্রনালয় সংশ্লিষ্টদের। আগামী মাসে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা আছে জাপানী প্রধানমন্ত্রীর।  ইতিমধ্যে মিরপুর এলাকার রাস্তা সম্প্রসারণ করা হয়েছে, মেট্রোরেল প্রকল্পের রুট নির্মানের জন্য পিলার বসানোর পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে।

metro rail

বিবিসি বাংলা সার্ভিস জানায়, গত বছরের ২০  ফেব্রুয়ারি,বুধবারজাপান সরকারের দাতা সংস্থা জাইকার সঙ্গে  এলক্ষে এক ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশের সরকার। প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো নির্মান প্রকল্প।চুক্তি অনুযায়ী, জাইকা প্রকল্পের ৮৫ শতাংশ ব্যয় অর্থাৎ ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা দেবে কয়েকধাপে। এর মধ্যে প্রথমধাপে জাইকার কাছ থেকে পাওয়া যাবে ১০১৮ কোটি টাকা।প্রকল্প সংশ্লিষ্টেদের মতে ২০.১ কিলোমিটারব্যপী এই রেলপথে ১৬টি ষ্টেশন থাকবে।

বলা হচ্ছে, ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসনে মেট্রোরেল ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞদের মতে ঢাকার বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও যানবাহনের চাপ সামলাতে মেট্রোরেলের মত গণপরিবহনই হতে পারে একটি কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা। “মেট্রোরেল প্রতি ঘন্টায় ৮০,০০০ যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। ফলে মেট্রোরেল স্থাপিত হলে রাস্তায় যাত্রী এবং পরিবহন উভয়ের ওপরই চাপ কমবে।”এ মন্তব্য করেন যোগাযোগ বিশেষঙ্গ ড: এস এম সালেহউদ্দিন।

 তিনি আরো বলেন, কোনো শহরে ১ কোটির ওপর জনসংখ্যা থাকলেই মেট্রোরেলের মতো গণপরিবহন বৃদ্ধি করা উচিত, তাতে যাত্রী পরিবহনের চাপ সামলানো সহজ হতে পারে। “মেট্রোরেল প্রতি ঘন্টায় ৮০,০০০ যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। ফলে মেট্রোরেল স্থাপিত হলে রাস্তায় যাত্রী এবং পরিবহন উভয়ের ওপরই চাপ কমবে।”

 মেট্রো রেলপথ উত্তরা থেকে পল্লবী হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত স্থাপন করা হবে। তবে, শুরুতে থাকা ডিজাইনে রুটটি বিজয় সরনি হয়ে মতিঝিল যাবার কথা ছিল।পরে, বিমান বাহিনীর আপত্তির মুখে তা পরিবর্তন করা হয়। নতুন ডিজাইনে তা সংসদ ভবন সংলগ্ন খামারবাড়ি হয়ে যাবে। আর এতে আপত্তি তুলছেন ঢাকার পরিবেশবিদ ও স্থপতিদের একটি অংশ।স্থপতি ইকবাল হাবিব মনে করেন, এতে সংসদ ভবনের সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা দুটোই হুমকির মুখে পড়বে।“যদি এই রুটটি পরিবর্তন না করা হয়, তবে দেশের সচেতন জনগন ও পরিকল্পনাবিদরা সেটি মানবেন না।”

তবে ২০২১ সাল নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ হবার কথা থাকলেও মেট্রো রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হবে ২০১৯ সালে।আর যথাসময়ে চালু হলে মেট্রোরেল দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.