Homeসবুজ কৃষিবিটি বেগুন:৬ গবেষনাগারে পরিক্ষিত নিরাপদ খাদ্য!

বিটি বেগুন:৬ গবেষনাগারে পরিক্ষিত নিরাপদ খাদ্য!

 “পৃথিবীর ৬টি সনামধন্য গবেষনাগারে এই বিটি বেগুনের গুনাগুন আর সাম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে যে প্রতিবেদন পা্ওয়া গেছে তার একটিতেও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক কোন পদার্থ পা্ওয়া যায়নি”- কৃষি গবেষনা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ড. মো: রফিকুল ইসলাম মন্ডল  

ঢাকা, ৯ জুলাই:  বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৮০ লক্ষ কৃষক বেগুনের চাষ করে। এই ৮০ লক্ষ কৃষকের মধ্যে মাত্র ২০ জন এবার পরিক্ষামূলকভাবে জেনেটিক্যালী মডিফাইড বা জিন-পরিবর্তনকৃত বিশেষ এক বেগুনের চাষ করেছে দেশের ৫টি ভিন্ন ভিন্ন এলাকায়।

 ২০ টি বেগুন ক্ষেত এর মধ্যে ১১ টিতে ফলন লাভজনক, আর বাকী ৯টিতে চারা মারা যাবার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে বিটি বেগুনের চাষ অনুমতি পায়নি স্থানীয় এনজিও আর খামারীদের বিক্ষোভের মুখে। বাংলাদেশে সরকারীভাবে এই বিটি বেগুন চাষের প্রণেদনা দেয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে এই বেগুন চাষের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করছে কতিপয় সংস্থা এবং ব্যক্তি।

তাদের যুক্তি হলো এটা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক এক খাবারে পরিনত হবে ভবিষ্যতে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইড এর পরামর্শক দল এবং সরকারী কৃষি কৃর্তৃপক্ষ বিএআরআই খুব জোর দিয়ে জানালো পৃথিবীর ৬টি সনামধন্য গবেষনাগারে এই বিটি বেগুনের গুনাগুন আর সাম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে যে প্রতিবেদন পা্ওয়া গেছে তার একটিতেও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক কোন পদার্থ পা্ওয়া যায়নি।

বক্তব্য রাখছেন, ইউ এস এইডের একজন কৃষি গবেষক

বক্তব্য রাখছেন, ইউ এস এইডের একজন কৃষি গবেষক

তাদের অভিযোগ, রুপকথা গল্পের মত বিটি বেগুন সম্পর্কে মানুষকে বিভ্রান্তি দেয়া হচ্ছে। কেননা, বিটি বেগুন আমেরিকা সহ পৃথিবীর অনণ্য দেশ হর হামেশা খেয়ে যাচ্ছে। বিটি বেগুন সর্ম্পকে প্রচলিত ধারনা আর বাস্তবের সতত্য বা ধারণা প্রদানের জন্য বাংলাদেশের প্রায় সকল সংবাদ প্রতিষ্ঠানের কৃষি ও পরিবেশ সাংবাদিক আর সরকারের কৃষি গবেষনা প্রতিষ্ঠানের সাথে জিএম খাদ্যের পৃষ্ঠপোষক ইউএসএইডের একটি ত্রিমুখী ধারণাবিনিময় সভার আয়োজনে বেশিরভাগ গবেষকরা বিটি বেগুন সর্ম্পকে প্রচলিত নেতিবাচক প্রচারণার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

 তারা বিটি বেগুন সর্ম্পকে বাজারে মুখরোচক গল্প-মিথ গুলি তুলে ধরে এর ব্যাখ্যা দেন। তাদের যুক্তি সনাতণ পদ্ধতির যে চাষ, তাতে অন্তত ৭০ ভাগ ক্ষেতের বেগুনে পোকার আক্রমন হয়। কৃষক ক্ষতির সম্মুক্ষীন হয়। এটা একমাত্র বিটি বেগুন চাষের মধ্য দিয়ে লাভজনক ফসল উৎপাদন সম্ভব। জীব বৈচিত্র রক্ষায় এই বেগুন চাষের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে তারা জোড়ালো যুক্তি তুলে ধরেন। সনাতন পদ্ধতির চাষে, পোকার আক্রমন রোধে খুব-ই বিস্তৃত পরিসরে কীটনাশক ব্যাবহার করেন কৃষকেরা।

 তাতে বেগুনের পোকার সাথে সাথে অন্য সব পোকামাকড় যেগুলি মাটির গুনাগুণ রক্ষায় টিকে থাকার দরকার,তাদেরও প্রানহানী হয় জীব বৈচিত্রে ধ্বস নামছে। এর থেকে পরিত্রানের উপায় হিসেবে উন্নত বিশ্ব ক্রমশ-ই জেনেটিক্যালী মডিফাইড খাদ্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

এছাড়া যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে তাদের খাদ্য চাহিদা মেটাতে উন্নত এবং আধুনিক ফলন ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। সেই উন্নত এবং আধুনিক ফলনের খাদ্য যদি নিরাপদ, বিষমুক্ত এবং কৃষকের জন্য লাভবান হয় তাহলে তা নিয়ে বিতর্ক অমূলক।

 প্রসঙ্গত বিটি বেগন চাষের অনুমোদনকে চ্যালেন্জ করে একটি রীট এখন্ও বাংলাদেশের সর্বচ্চ আদালতের রায়ের অপেক্ষায়।

 উপস্থিত কয়েক কৃষি সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে কৃষি গবেষনা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ড. মো: রফিকুল ইসলাম মন্ডল  জানান, বিটি বেগুনের জাতসমূহ নতুন জাতের নয়, এগুলো প্রচলিত জাত যা কৃষক পছন্দ করে, শুধু পার্থক্য হচ্ছে এরা একটি জীন বহন করে যা এদের বেগুনের ক্ষতিকর ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা দেয়, বিটি প্রোটিন মানুষ এবং অন্যান্য প্রানীর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না, প্রাকৃতিক জীববৈচিত্রকে মাথায় রেখে বিজ্ঞানীরা বলেন যে অন্য ফসল যেমন তুলার সাথে বিটি বেগুন চাষ করলে জীববৈচিত্র হ্রাস পায় না বরং বৃদ্ধি পায়, পেশাগত জিএমও এবং ইউরোপ ভিত্তিক এনজিওগুলোর কারণে ভারত ও ফিলিপাইনে বিটি বেগুন উদ্ধাবিত হয়নি।

গতকাল রাজধানীর গুলশানে লেক ক্যাস্টেল হোটেলে বিটি বেগুন সম্পর্কে ধারণা ও সত্যতায় সাংবাদিকদের সাথে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তরা এসব কথা তুলে ধরেন।  বিটি বেগুনের সম্পর্কে ধারণা ও সত্যতা সম্পর্কিত পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন এগ্রিকালচারাল বায়োটেকনোলোজি সাপোর্ট প্রজেক্টের পরিচালক ড. ফ্রাঙ্ক শতকোশকি, বিটি বেগুনের বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউডের বায়োটেকনোলোজী বিভাগের প্রধান  দিলআফরোজা খানম।

রফিকুল ইসলাম রবি

শিক্ষার্থী, শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.