Homeবন ও বণ্যপ্রানীবাঘ শিকার ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতরা রাজনৈতিক আশ্রয় পায়: পরিবেশমন্ত্রী

বাঘ শিকার ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতরা রাজনৈতিক আশ্রয় পায়: পরিবেশমন্ত্রী

ঢাকা, ৫ অক্টোবরঃ  সুন্দরবনে বাঘ শিকার ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতরা সামাজিকভাবে শক্তিশালী ও রাজনৈতিকভাবে আশ্রয় পায় মন্তব্য করে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, যে কারণে তাদের দমন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

গতকাল রবিবার ‘সুন্দরবনের বাঘ, শিকার প্রাণী ও আবাসিক স্থল পরিবীক্ষণ’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। বন বিভাগ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ আয়োজনে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বন ভবনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘যে দেশে ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার বাজেট হয়, সে দেশে সুন্দরবন রক্ষায় ১০০ কোটি টাকাও বরাদ্দ হয় না। অথচ আমি এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন থেকে সবাইকে বাঘ রক্ষার বিষয়টি নিয়ে বলতে শুনেছি। কিন্তু তহবিল বরাদ্দের ক্ষেত্রে বাঘ রক্ষাবিষয়ক কোনো উদ্যোগ দেখতে পাইনি।’

কর্মশালায় ক্যামেরা পদ্ধতিতে সুন্দরবনের বাঘ গণনা জরিপ ২০১৫-এর ফলাফল তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, ‘এত দিন আমরা জানতাম ৪৪০টি (২০০৪ সালের বাঘের পায়ের ছাপ গুনে জরিপ)। কিন্তু নতুন ক্যামেরা পদ্ধতি চালিয়ে আমরা দেখেছি বাঘের সংখ্যা আসলে ১০৬টি।’

কর্মশালায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘের যে নতুন সংখ্যা আমরা পেয়েছি তা আমাদের মেনে নিতে হবে। এ সংখ্যা কীভাবে বাড়ানো যায়, সেই উদ্যোগ নিয়েছি। সুন্দরবন রক্ষায় বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত আমরা শিগগিরই জানাব।’

সভাপতির বক্তব্যে প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলী বলেন, সুন্দরবনের চোরা শিকারিদের এককভাবে দমন করা বন বিভাগের পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা লাগবে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। বিজিবি সীমান্ত এলাকায় কাজ করে। র‌্যাব মাঝেমধ্যে অভিযান চালায়। কোস্টগার্ডের অস্ত্রের অভাব রয়েছে। পুলিশ বিভাগের সুন্দরবনে কাজ করার দক্ষতার অভাব আছে। এই বাহিনীগুলোর কাজের সমন্বয় হলে বাঘ রক্ষা সহজ হবে।

কর্মশালায় বন বিভাগের খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জাহিদুল কবীর, বন্য প্রাণী বিভাগের বন সংরক্ষক তপন কুমার দে, উপপ্রধান বন সংরক্ষক আকবর হোসেন, ভারতের বন্য প্রাণী কেন্দ্রের অধ্যাপক ওয়াই ভি ঢালা ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) বাংলাদেশের দেশীয় প্রতিনিধি ইশতিয়াক উদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেন।

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.