HomeNo Categoryবনায়নের দিনবদল: রাস্তার ধারে ফলগাছ

বনায়নের দিনবদল: রাস্তার ধারে ফলগাছ

ঢাকা, ৬ জুলাই:নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও কিছু মানুষ শহরের রাস্তার ধারে দেশীয় ফলজ,বনজ গাছ লাগিয়েছে। তাদের লাগনো গাছের ফুল,ফল মানুষ, পশু,পাখি খায়। শহরের যে দু একটা পাখি দেখা যায় পাখিগুলো সে গাছগুলোতে ঘর বাধে। বিগত কয়েকদিনে এই রকম ২৬ প্রজাতির দেশীয় ফল আর ১৮ প্রজাতির ঔষধী ও বনজ গাছের দেখা মিলল ঢাকার রাস্তায়। খাদ্যের অভাবে ক্রমশ শহর থেকে হারাতে বসেছে কাঠবিড়াল, বেজি আর নানা বর্ণের পাখি। শহরের বুকে পাখির আশ্রয়স্থল হয় ফলজ গাছে। কোটি মানুষের পাশাপাশি কিছু কাঠ বিড়ালি, বেজি এখনো টিকে আছে ব্যস্ত অফিস পাড়াগুলোতে। শহরের বুকে যতই বাড়িয়ে দেওয়া যাবে এই প্রাণীগুলোর বাঁচার সুযোগ। শহরটা ততই বাসযোগ্য হবে আপনার আমার জন্য। আবারও দেশীয় ফলজ, বনজ গাছে ভরে উঠুক ঢাকা শহরের অফিস পাড়া, কানা গলি, পাড়ার মোড়, স্কুল, কলেজ চত্ত্বর, তোমার বাড়ি আর আমার বাড়ি মাঝে খানের এক ফালি জমিটা।

10462657_820608377952075_3976084627891659885_n (1)

গত কয়েকদিনে এই রকম ২৬ প্রজাতির দেশীয় ফল আর ১৮ প্রজাতির ঔষধী ও বনজ গাছের দেখা মিলল ঢাকার রাস্তায়।

আমি আর আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে বসবাসের অযোগ্য শহরে বসবাস করছি। আসুন আমার শহর বাসযোগ্য করতে আমি কী পারি তাই নিয়ে ভাবি। একটু হাত লাগাই নিজের স্বার্থে শহরটাকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে। আমরা বিশ্বাস করি আপনার ভালবাসা, আন্তিকতা, দক্ষতা, জ্ঞানের সম্মিলনেই এই শহর বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। আসুন শহরটা বাসযোগ্য করে তুলি।

 ঢাকা শহরের রাস্তার পাশে গাছ মানেই এক সময় ছিল বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির ফলের গাছ। যুগ পাল্টিয়ে একটা অসভ্য যুগের সূচনা হল। মানুষ শুধু দ্রুতবধনশীল বিদেশী কাঠের গাছ আর সৌন্দযবধনশীল গাছ লাগায়। তাদের যুক্তি একটাই ফলের গাছ লাগালে মানুষজন ফল খেয়ে ফেলবে। ফলে শহরের রাস্তার ধারে এখন আর তেমন একটা ফলের গাছ দেখা যায় না। কাঠ গাছের লাভের হিসেব ছিল সহজ। সরকারের কোষাগারে টাকা জমা হবে। কিন্তু কত টাকা এখন পযন্ত সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে তার হিসেব আমার জানা নেই। কিন্তু দেশীয় ফলজ,বনজ গাছের ফল,ফুল যেসব পশু, পাখি কিংবা কীট পতঙ্গের আহার জোগাত তারা এখন শহর ছাড়া হয়ে গেছে। শহরে রাস্তার ধারের গাছগুলোকে এখন মানুষ তেমন একটা আপন ভাবে না। কারণ গাছগুলোর ফুল কিংবা ফল কোনটাই নগরবাসীকে আপন করে নেওয়া যোগ্যতা রাখেনি।

ঢাকার রাস্তায় যদি ফলের গাছ লাগাই তবে গাছের ফল, ফুল নিরাপদ  থাকবে তো ?  এই প্রশ্নের উত্তরে বলি নাইবা থাকুক নিরাপদ। যাদের জন্য গাছ তারা তো উপভোগ করতে পারবে। একটা পাখি যখন দেখি এই বটের ফল মুখে নিয়ে উড়াল দিল তখন প্রাণ জুড়ায়। মনে হয় গাছটা লাগিয়ে ছিলাম শুধু এই দৃশ্যটা দেখার জন্যই। তাতেই সার্থকতা। নিজের মনের তৃপ্তির আর প্রকৃতির প্রতি ভালবাসায় তারা গাছ লাগান ঢাকার রাস্তায়।

এ উদ্যোগকে কেন আন্দোলনে পরিনত করা দরকার: বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল, সুপারি, নারকেল বাগানের পরিসর ক্রমশ সংকীর্ণতর হতে হতে প্রায় শূন্যের কোঠায় এসে পৌঁছেছে। ইট,  কাঠের আমাদের এই শহরের বৃক্ষে এসব ফলজ গাছের যেন জন্য কোন স্থান নেই।

আর সামাজিক বনায়ন প্রকল্পে, সরকারের ৮০ ভাগ বনায়ন হচ্ছে ভুলনীতিতে। বনায়নের নামে লাগানো হচ্ছে হাইগ্রোথের বিদেশী গাছ। এর মাধ্যমে জীববৈচিত্র রা করা যাবেনা। ৯৭ ভাগ পাখি বাসা বাধে এবং খাবার খায় দেশি গাছে। তাই মনোপলি বাগান করে জীববৈচিত্র রা করা যাবেনা। এগুলোর মধ্যে অনেক এমন প্রজাতি রয়েছে যা পরিবেশের জন্য তিকর ও পানিখেকো বলে পরিচিত, এ গাছ বাতাসে নাইট্রোজেন ছেড়ে দেয়। বিদেশি ইউক্যালিপটাস গাছে মশা-মাছিসহ কোনো কীটপতঙ্গ বসে না। যার ফলে এসব গাছ পাখির খাদ্য ও প্রাণীকুলের আবাসের ওপর খারাপ ফল বয়ে আনে। আকাশমনি গাছের ফুলের পরাগরেণু বাতাসে ছড়িয়ে অ্যাজমাসহ ফুসফুসের নানা রোগ ছড়ায়। পরিবেশের ভারসাম্য রায় ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী গাছ নির্বাচন করা উচিত। আমাদের ভূমিতে আমদানি করা রাক্ষুসে প্রজাতির এসব বিদেশী বৃক্ষের কারণে জীববৈচিত্রের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া জীববৈচিত্র্য তিগ্রস্থ হওয়ায় অধিবাসীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন, অর্থনৈতিক উন্নয়নও তিগ্রস্থ হচ্ছে।

দেশীয় জাতের পরিবেশসম্মত বিভিন্ন প্রজাতির গাছের সৃজিত বনায়নে যেমন দেশীয় পীকুল ও প্রাণীকুল রা পাবে।  তেমনি হারিয়ে যাওয়ার তালিকা থেকে রা করতে পারব আমাদের দেশীয় গাছকে। গাছ আমাদের প্রকৃতির সবচেয়ে অকৃত্রিম ও নির্বিবাদী বন্ধু।  এই বন্ধুকে আমাদেরই লালন করতে হবে এবং সেটা আমাদেরই স্বার্থে। আসুন স্থানীয় প্রজাতির বৃক্ষের বনায়ন করি নিজের ও জীব বৈত্রিতের সুরক্ষা নিশ্চিত করি।

লেখা ও ছবি: সৈয়দ সাইফুল আলম শোভন

পরিবেশ কর্মী

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.