Homeসবুজ জীবনপ্রকৃতির সান্নিধ্যে মিলবে মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি!

প্রকৃতির সান্নিধ্যে মিলবে মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি!

সবুজপাতা ডেস্কঃ  প্রকৃতির সান্নিধ্য পেলে মন ভালো হয়না এমন লোক পাওয়া সত্যি দুষ্কর হলেও নানা প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত শহরকেন্দ্রিক হচ্ছে মানুষ। তবে,  নাগরিক কোলাহল ছেড়ে সবুজ গাছগাছালিতে ঘেরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে বসবাস করতে পারলে মানসিক চাপ থেকে ‍দূরে থাকার পাশাপাশি বাড়বে মস্তিষ্ক সবল থাকার সম্ভাবনা। 

এরকম তথ্য উঠে এসেছে জার্মানির ইউনিভার্সিটি মেডিকল সেন্টার হ্যামবার্গ-ইপেনডর্ফ (ইউকেই)’র এক গবেষণায়।

গবেষকরা জানান, বাসস্থান প্রকৃতির কাছাকাছি থাকলে মস্তিষ্ক থাকে সুস্থ সবল। ফলে শহরবাসীদের তুলনায় তাদের মানসিক চাপ, হতাশা, অস্বস্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও কম থাকে।

গবেষণার ফলাফল থেকে আরও জানানো হয়, মফস্বল এলাকায় বসবাসকারীদের তুলনায় শহরবাসীদের হতাশা, অস্বস্তি, ‘স্কিৎযোফ্রিনিয়া’ ইত্যাদি মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

কারণ শহর শব্দ ও বায়ু দূষণে ভরপুর, জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। ফলে দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপও বেশি।

‘সাইন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়, শহরবাসীদের মস্তিষ্কের কেন্দ্রিয় নিউক্লিয়াস ‘অ্যামিগডালা’ অত্যন্ত সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে; যা মানসিক চাপ ও বিপদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অপরদিকে, গাছপালা ঘেরা অঞ্চলে বসবাসকারীদের মস্তিষ্কের ‘অ্যামিগডালা’ তুলনামূলক বেশি সুস্থ থাকে। ফলে ধারণা করা যায় তাদের মানসিক চাপের সঙ্গে মোকাবেলা করার ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি থাকে।

প্রধান গবেষক, জার্মানির ইউনিভার্সিটি মেডিকাল সেন্টার হ্যামবার্গ-ইপেনডর্ফ (ইউকেই) হাসপাতালের মনোবিজ্ঞানি সায়মন কুন বলেন, “মস্তিষ্কের স্থিতিস্থাপকতার উপরে করা গবেষণাগুলো সমর্থন করে যে পরিবেশ মস্তিষ্কের গঠন এবং কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই কোন পরিবেশ মস্তিষ্কের উপর উপকারী প্রভাব ফেলে তা নিয়ে আমরা আগ্রহী।”

তিনি আরও বলেন, “মফস্বল এলাকার বাসিন্দাদের উপর করা গবেষণায় এরইমধ্যে দেখা গেছে যে গাছপালা ঘেরা পরিবেশে থাকা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নেই শহরবাসীদের নিয়ে গবেষণা চালানোর।”

গবেষকরা জানান, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশই শহরে বসবাস করবে।

তাই তারা আশা করেন এই গবেষণাগুলো নগর পরিকল্পনায় কাজে আসবে।

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.