Homeবন ও বণ্যপ্রানীপাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের ঘর-বাড়ি নির্মাণ, মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের ঘর-বাড়ি নির্মাণ, মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

সবুজপাতা ডেস্কঃ  বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেবার পর কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে এখন কেবলই ক্ষতচিহ্ন। পাহাড় আর গাছপালা কেটে রোহিঙ্গারা অস্থায়ী বসতি গড়েছিল এসব জায়গায়। এসব জায়গা থেকে তাদের সরিয়ে নেয়ার পর ন্যাড়া পাহাড়ে ফুটে উঠেছে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। এছাড়া এখনও পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংস করে  বিভিন্ন জায়গায় বসতি নির্মান করছে রোহিঙ্গারা। তাই, এই মুহূর্তে পাহাড় কাটা ও বন উজাড় রোধ করা না গেলে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন পরিবেশকর্মীরা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনরায় বৃক্ষরোপণ করা হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
 পাহাড়িভূমিতে ছোট গাছ-গাছালির ও সবুজের  সমারোহ কক্সবাজারের উখিয়ার আশপাশের এলাকাকে করেছে হাতির বিচরণ ক্ষেত্র হিসেবে। কিন্তু এখন সেসব এলাকার চিত্র সম্পুর্ণই ভিন্ন।  মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা শুরুর পর থেকে  গত ২৫ আগস্ট থেকে কক্সবাজারে ঢল নামে রোহিঙ্গাদের। আর, রোহিঙ্গারা বন ও পাহাড় কেটে যে ভাবে পেরেছে  তৈরি করছে ঘর-বাড়ি। ফলে অনেক জায়গায় এখন অস্তিত্বই নেই পাহাড়ের। সরকার নির্ধারিত জায়গায় রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার পর সেসব এলাকায় ভেসে ওঠছে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। শুধুই পাহাড়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বিপন্ন হয়েছে এখনকার জীব বৈচিত্র্য।

ওই অঞ্চলের একজন বাসিন্দা  একটি পাহাড় দেখিয়ে বলেন, এই পাহাড়ে আগে  নারিকেল গাছ.সুপারি গাছ, লেবু বাগান, অনেক ধরনের ফলের বাগান ছিলো এখন যার কিছুই নেই। তিনি বলেন,  রোহিঙ্গারা আমাদের সমস্ত গাছ-পালা কেটে ফেলেছে। পরিবেশটা একবারে শেষ,গাছের কোন চিহ্ন নেই।

রোহিঙ্গাদের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে তোলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে  দ্রুত সামাজিক বনায়নসহ পাহাড়ে নতুন করে বসতি স্থাপন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান স্থানীয় আরেকজন।

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দিপু বলেন, ‘বন বিভাগ,পরিবেশ অধিদপ্তর ও পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতার মাধ্যমেই কেবল কক্সবাজারের পরিবেশ আগের অবস্থানে  ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’


অন্যদিকে নির্ধারিত তিন হাজার আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরেও আরো আড়াই হাজার একর এলাকাও রোহিঙ্গাদের বসতি নির্মানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তরা।

কক্সবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো.আলী কবির বলেন, ‘বালু-খালী ও কতুবখালীর তিন হাজার এলাকায় রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প  করা হচ্ছে। আর ওখান থেকে তাদের সরিয়ে নেওয়ার পর আমরা সেখানে আমরা বনায়ন করবো।’

শুধু বসতি নয়, রান্না কাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানী  কাঠ সংগ্রহ করতেও রোহিঙ্গারা ধারাবাহিকভাবে বন কেটে যাচ্ছে বলেও জানান  বন কর্মকর্তা  আলী কবির।

প্রতিবেদকঃ  সুজাউদ্দিন রুবেল, সময় সংবাদ, কক্সবাজার।

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.