Homeসবুজ জীবনপরিবেশ-প্রতিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্য কি বাসায় ঢুকছে?

পরিবেশ-প্রতিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্য কি বাসায় ঢুকছে?

প্রতিদিনের জীবনে কত কিছুই না আমরা ব্যবহার করি। কসমেটিক থেকে শুরু করে প্লাস্টিক আর খাদ্যদ্রব্য।নিজের অজোন্তেই কিছু বিপদজনক পণ্য প্রতিনিয়ত ঢুকে পড়ছে আমাদের গৃহস্থালীতে, আমাদের শরীরে। এমন কিছু বিষাক্ত পণ্যের সাথে কি আপনার বসবাস? মিলিয়ে নিন দেখি!

toxic_chemicals

অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল সোপ: বাজারে ট্রাইক্লোসন ও ট্রাইক্লোরোকার্বন সমৃদ্ধ সাবান বিকোয় ভালো। এগুলো প্রচলিত সাবান কিংবা গুঁড়োর চেয়ে খুব একটা ভালো পরিষ্কার করে না, তবে মানবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়। এছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক ব্যাকটেরিয়ার উত্পাদনও বৃদ্ধি করে। উপরন্তু পুরোপুরি ধ্বংস না হয়ে এগুলো নদী-নালা ও খাল-বিলের পানিকে দূষিত করে, যা পরে জলজপ্রাণী ও মানবজীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর পরিবর্তে শুধু সাধারণ সাবান অথবা অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

 আগাছা পরিষ্কার করে এমন সার: অনেক পণ্যের মোড়কে ‘উইড অ্যান্ড ফিড’ লেখা থাকে। এগুলো এড়িয়ে চলতে পারেন। কেননা পণ্যগুলো কারসিনোজেনিক এজেন্ট ওরেঞ্জ কেমিক্যাল সমৃদ্ধ। একে ২,৪-ডি বলে।

এসব কেমিক্যালের বিস্তার পরিবেশ-প্রতিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের সারের পরিবর্তে হাত দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করুন।

বিসফেনল এ (বিপিএ): খাবার ও পানীয় কনটেনারের ভেতরের আবরণে বিসফেনল এ (বিপিএ) ব্যবহার করা হয়। এক জরিপে দেখা গেছে, ৯০ শতাংশ আমেরিকান খাবার খেতে এ বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্রহণ করে থাকে। এ উপাদান হরমোনকে ভেঙে ফেলে। শুধু তা-ই নয়, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে পদার্থটি। তাছাড়া ব্র্রেস্ট ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সারসহ স্থূলতা বাড়িয়ে দেয়। হূদরোগের অন্যতম কারণ হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছে বিসফেনল। তবে এরই মধ্যে শিশুদের ফিডার এবং অন্যান্য কনটেনারে এর ব্যবহার রোধে সচেতনতা তৈরি হয়েছে।

 পরিষ্কারক দ্রব্য: পণ্যের মোড়কে দেয়া উপাদানের তালিকা দেখে ডিশওয়াশ কিংবা জামাকাপড় পরিষ্কারের পণ্য কিনুন। সবসময় কম কেমিক্যালযুক্ত পদার্থ পছন্দের তালিকায় রাখুন। পণ্যের মোড়কে ‘বিপজ্জনক’, ‘বিষাক্ত, ‘বিষ’, ‘খাওয়া ও ঘ্রাণ নেয়া বিপজ্জনক’ লেখা থাকলে শুধু শুধু সেগুলো কেন বয়ে বাড়ি আনবেন?

 অগ্নি নির্বাপক: ইউরোপ-আমেরিকায় ২০০৫ সালের আগে উত্পাদিত সব ফোমের ফার্নিচার যেমন সোফা, ম্যাট্রেস, কার্পেট এবং শিশুদের খেলনায় আগুন ও ধোঁয়া নির্বাপক কেমিক্যাল ব্যবহার করা হতো। উপাদানগুলো মানবদেহে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। পুরুষের বন্ধ্যত্ব বাড়ায় এবং বুদ্ধিমত্তা কমিয়ে দেয়। এছাড়া ব্যবহূত আসবাব এবং ফার্নিচার থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থ ধুলোর সঙ্গে মিশে নিঃশ্বাসের সঙ্গে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে, যা শরীরের জন্য ভীষণ হুমকির।

সবুজপাতা গো-গ্রীন ডেস্ক

No comments

leave a comment