Homeসবুজ উদ্যোগপরিবেশবান্ধব কারখানায় সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক – গভর্নর

পরিবেশবান্ধব কারখানায় সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক – গভর্নর

ঢাকা, ২৬ এপ্রিলঃ পরিবেশবান্ধব নিট গার্মেন্টস কারখানা করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান।
 
শনিবার (২৫ এপ্রিল) নারায়নগঞ্জে অবস্থিত দেশের প্রথম পরিবেশবান্ধব নিট গার্মেন্টস কারখানা প্লামি ফ্যাশনস পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানান।

 
গভর্নর বলেন, পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক একমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেখানে গ্রিন ব্যাংকিং নামে আলাদা বিভাগ রয়েছে। গ্রিন ব্যাংকিংর আওতায় পরিবেশবান্ধব খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে তহবিল গঠন করা হয়েছে।

 
তিনি বলেন, প্লামি ফ্যাশনস এমন একটি কারখানা যেখানে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক শক্তি ব্যবহার করা হয়। কারখানার ৫২ শতাংশই খোলামেলা। সূর্যের আলো ব্যবহার করে কারখানার অধিকাংশ স্থান আলোকিত করা হয়।
 
আর যেখানে লাইট ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে এলইডি লাইট ব্যবহার করা হয়েছে। এই লাইটে সাধারণ লাইটের মাত্র ৭ শতাংশ বিদ্যুৎ (এনার্জি) ব্যয় হয়। এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব কারখানা।
 
এ ধরনের আরও কারখানা করা গেলে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত করা সম্ভব। আর এটি করতে পারলে বাহিরের দেশে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা বাড়বে। পোশাক খাতে আমাদের যে বদনাম হয়েছে তাও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। পোশাকের দামও বেশি পাওয়া যাবে– বলেন ড. আতিউর।
 
গভর্নর আরও বলেন, প্লামি ফ্যাশনস দেশে প্রথম নিটওয়্যার খাতে পরিবেশবান্ধব কারখানা তৈরি করেছে। এ কারখানা করতে অর্থায়ন করেছে আইএফআইসি ব্যাংক। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যদি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব কারখানা করতে এগিয়ে আসে তাহলে আমাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
 
প্লামি ফ্যাশনসর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক বলেন, গভর্নরের নির্দেশে মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে আইএফআইস ব্যাংক আমাদের ঋণ দেওয়ার কথা জানায়। এভাবে এতো দ্রুত সহায়তা পাবো তা ভাবিনি।

 
তিনি বলেন, প্লাটিনাম সনদ পেতে অধিকাংশ শর্ত আমরা পূরণ করেছি। বাকি শর্তগুলোও পূরণ করতে পারবো। আশা করি আগামী এক মাসের মধ্যে ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসবিসি) আমাদের প্লাটিনাম সনদ দেবে। যা নিটওয়্যার খাতে সারাবিশ্বের মধ্যে প্রথম।
 
তিনি জানান, ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াম তাপমাত্রার পরিবেশে এক হাজার ২শ শ্রমিক কারখানাতে কাজ করেন। যাদের ৮০ শতাংশই নারী। কারখানায় কাজ করতে আসা শ্রমিকদের জন্য বাই-সাইকেল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে শ্রমিকরা সাইকেল চালিয়ে কারখানায় আসতে উৎসাহিত হন।

 
তাছাড়া কারখানার ভেতরের পরিবেশও শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ। কারখানার অধিকাংশ জায়গা খোলামেলা। আমার থেকে অনেক বড় ব্যবসায়ী আছেন যারা ইচ্ছা করলেই এ ধরনের কারখানা করতে পারেন। বাংলাদেশে এ ধরনের আরও ১০০ কারখানা হওয়া কোনো ব্যাপার না– বলেন ফজলুল হক।
 
আইএফআইসি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহ আলম সারওয়ার বলেন, এটি  আইএফআইসি ব্যাংকের প্রথম পরিবেশবান্ধব খাতে বিনিয়োগ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কাজে আমাদের সহায়তা অব্যহত থাকবে।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.