Homeঅন্যান্য মিডিয়া থেকেনৌকাডুবি: বছর প্রতি সলিল সমাধি গড়ে ১৪৫ জন

নৌকাডুবি: বছর প্রতি সলিল সমাধি গড়ে ১৪৫ জন

ঢাকা; ৫ আগষ্ট: কেউ হিসাব রাখে না, কত জনের নৌকায় কতজন উঠলো।শুধু ডোবার পর আমরা মাথা গুনি, কতজন ভেসে উঠলো আর কত জন নিখোজ তার হিসাব টানি। এই আমাদের নদীমাতৃক বাংলাদেশের নৌ পরিবহন ব্যবস্থা।

গত ২০ বছরে (১৯৯৪-২০১৪) নৌকা ডুবি আর দূর্ঘটনায় প্রানহানী ঘটেছে প্রায় ২৯০০ মানুষের। বছরে গড়ে ১৪৫ জন।এটা সরকারী হিসাবের তথ্য। বেসরকারী হিসেবে এই সংখ্যা ২৭৫ জন। সরকারী নথিপত্রে দূর্ঘটনা ৩৯০ টির মত হলেও বেসরকারী হিসেবে দূর্ঘটনার সংখ্যা সাড়ে ছয় শতাধিক। এসব ঘটনায় ২০০টির বেশি তদন্ত কমিটি গঠন হলেও পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যে কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে মাত্র ৩টি। কেন গঠিত হয় তদন্ত কমিটি তাহলে, সে প্রশ্ন বড় হয়ে চলে এসেছে আবার সামনে।

 River Boatএই বর্ষা মৌসুমে ঈদের আগে পরে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে ৫টি,যার সব কটিতেই প্রানহানী ঘটেছে। এখন সব ব্যবস্থা মা্ওয়ার কাছে ডুবে যা্ওয়া পিনাক-৬ নামক লঞ্চ কে ঘিরে। বড় কোন ঝড় বা জলোচ্ছাস ছাড়াই কেন ডুবলো এত গুলো প্রান তা নিয়ে কথা হচ্ছে চারিদিকে।

পিনাকের মতো দোতলা লঞ্চের ধারণ ক্ষমতা হয় ১২০ থেকে ১৫০ জন। “আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, লঞ্চটি ডোবার সময়ে সেখানে যাত্রীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫০ জন।” শাজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘লঞ্চটিতে কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে দেড় শ বা ১৬০ জন যাত্রী ওঠে। যদি ওই যাত্রী নিয়ে আসত, তাহলে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটত না। কাঁঠালবাড়ি ঘাটে এসে আবার ৮০ থেকে ১০০ জন যাত্রী লঞ্চে ওঠানো হয়। এতে সব মিলিয়ে ২৫০ জনের মতো যাত্রী ছিল ওই লঞ্চে। এর মধ্যে নিখোঁজ যাত্রীর সংখ্যা ১২৫ জন, উদ্ধার হওয়া যাত্রীর সংখ্যা ১১০ জন। আমরা আগেই ধারণা করেছিলাম, ডুবে যাওয়া লঞ্চে যাত্রীর সংখ্যা ২০০ থেকে ২৫০ জন হবে।’

কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়া আসার পথে লঞ্চ পিনাক-৬ আরেকটি ঘাট থেকে বাড়তি শতাধিক যাত্রী তুলেছিল জানিয়ে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, এ ঘটনায় নিয়ম মাফিক মামলা করা হবে। ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান নৌ-পরিবহনমন্ত্রী। নৌ মন্ত্রণালয় এবং সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর গঠিত এই কমিটি দুটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

 এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হবে কিনা সেটা জানি না। সেটার আদলে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানিনা। তবে কিছু সংখ্যা আর তথ্য যা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে,সেটা দিলাম।

Pinak -6

১. দুই নম্বর সতর্কতা সংকেত ছিল। এ সংকেত দেওয়া হলে ছোট আকারের(৬৫ ফুট এর কম দৈর্ঘ্য) এমএল (মোটির লঞ্চ) ক্যাটাগরির লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকে। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই সকালে মাওয়ার উদ্দেশে কাওড়াকান্দি ঘাট ছাড়ে এমএল পিনাক-৬।

২. ফিটনেস ছিল না এমভি পিনাক ৬-এর। এপ্রিলে শেষ হয় এর ফিটনেস মেয়াদ।

৩. সর্বোচ্চ ৮৫ জন ধারণ ক্ষমতার ছোট্ট এই লঞ্চটিতে যাত্রী উঠানো হয়েছিলো ৩০০ এর অধিক।

এই সব দোষ লঞ্চের কিন্তু লঞ্চের মালিক আর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দোষ কি?

মাওয়া-কাওড়াকান্দিতে যাত্রী পারাপারে অনেক লঞ্চ চলাচল করলেও তাতে কোনো শৃঙ্খলা নেই বলে ঘাট সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। মাওয়ায় পাশাপাশি দুটি ঘাট রয়েছে- লঞ্চঘাট ও সি বোট (স্পিড বোট) ঘাট। রোটেশান পদ্ধতিতে প্রয়োজনের চেয়ে কম লঞ্চ ছেড়ে যাত্রীদেরকে অতিরিক্ত যাত্রী হিসেবে যাতায়াতে বাধ্য করেন লঞ্চ মালিকরা। তা লঞ্চ মালিক সমিতির দোষ।

যাত্রীদের জিম্মি করে লঞ্চ মালিকদের মানুষ হত্যার ব্যবসা করার হাতিয়ার রোটেশান পদ্ধতি বাতিল করা হোক।  ৮৫জন ধারণ ক্ষমতার লঞ্চে ৩০০ যাত্রী দায়িত্বশীল কতৃপক্ষ কি ভুমিকা রেখেছে তখন? সবকয়টার চাকুরী বাতিল করা হোক। ফিটনেস ছাড়া লঞ্চ চলেছে তাহলে তা কোন ভাবেই দূঘটনা নয়। ফিটনেসবিহীন লঞ্চ মানে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড

সৈয়দ সাইফুল আলম

পরিবেশ কর্মী

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.