Homeসবুজ জ্বালানীনেপালের জলবিদ্যুৎ:’৫০-৫০’ বিনিয়োগ প্রস্তাব

নেপালের জলবিদ্যুৎ:’৫০-৫০’ বিনিয়োগ প্রস্তাব

ঢাকা: ৫ আগষ্ট: নেপালের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগের উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ঢাকা পৌছেছেন নেপালের জ্বালানী মন্ত্রী রাধা কুমারী গয়ানী। কাল বুধবার এ বিষয়ে জ্বালানী প্রতিমন্ত্রীর সাথে এক সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। বিদ্যুৎ বিভাগের মন্তব্য , এ বিদ্যুৎ আনতে বৈদেশিক সাহায্যের উপর খুব বেশি নির্ভর করতে চায় না সরকার। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু দাবী করেছেন এই বিদ্যুতের লাইন টানতে গ্রীড লাইন হতে হবে ভারতের উপর দিয়ে, তাতে ভারতের বিরোধিতা নেই বলে মনে করে বাংলাদেশ।

chitra18হিমালয় কন্যা নেপাল জুড়ে অগনিত ছোট বড় পানির স্রোত নেমে এসেছে নিচের দিকে। শুধু সেসব নদ-নদীতে বাধ দিয়ে প্রায় ৮৪ হাজার মেগা্ওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব বলে দাবী জ্বালানী বিশেষজ্ঞদের। সেটি একটি বিলাসী পরিকল্পনা হলেও সাধারণ উপায়ে তার অন্তত অর্ধেক বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু তাদের সম্ভাবনার কতভাগ তারা উৎপাদন করে তা শুনলে অবাক হতে হয়, মাত্র ১০০০ মেগায়াটের মত তারা উৎপাদন করছে।

আরো বিচিত্র বিষয় হলো এই উৎপাদনের মাত্রা শীত কালে যখন বরফের পানি গলে না তখন তিন ভাগের অর্ধেকে নেমে আসে। তাই শীতকালে তাদের লোর্ডশেডিং বিপর্যয়ে পড়ে নেপাল। আমাদের দেশে যেটি দেখা মেলে গরম কালে, শীত কালে তুলনামূলক বিদ্যুতের অনুপস্থিতি কম চোখে পড়ে।

সচারাচর দৈনিক ১২ ঘন্টা লোডশেডিং এর দেশ নেপাল হন্যে হয়ে খুজছে বিদ্যুৎ উৎপানের সকল সাম্ভাব্য বিনিয়োগ। বাংলাদেশ সরকার ভাবছে, সেখানে সামান্য বিনিয়োগে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরনে উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে,যাতে ২ দেশই লাভবান হতে পারে।

‘আমরা ওখানে বিনিয়োগের ও প্রস্তাব দিয়েছি। ৫০-৫০ শেয়ারে তারা বিনিয়োগে যেতে চায়, তাদের যে প্রস্তাব তা অনুযায়ী যা বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে তার অর্ধেক তারা  ভোগ করবে, অর্ধেক বাংলাদেশ ব্যবহার করবে’ -যমুনা টিভির সাথে এক সাক্ষাৎকারে এমন তথ্য জানান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

বুধবার বেলা ১১ টায় বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সাথে মিসেস রাধা গয়ালীর বৈঠক হবে। বেলা ৩টায় যে সংবাদ ব্রিফিং এ সেখানে হয়তো এ বিষয়ে আরো স্পষ্ট ধারণা পা্ওয়া যাবে।

bapui45656

‘একটা সমঝোতা স্মারক সাক্ষর করতে চাচ্ছি আপাতত আমরা। একটা স্টিয়ারিং কমিটি হবে তারা বিবেচনা করবে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ভাগাভাগি টা কি প্রক্রিয়ায় হবে।সেই সাথে নিজেদের পারষ্পারিক লাভের ক্ষতিয়ান টা কেমন হবে সেটাই যাচাই করা হবে আগে’-বলছিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীতবে এখানে খরচের বিষয়টি-ই সবচে বড়। জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ১ মেগা্ওয়াট বিদ্যুটৎ উৎপাদনের প্রাথমিক খরচ ১ কোটি টাকারও বেশি। সাথে আছে দীর্ঘ গ্রিড লাইন তৈরীর মত বিশাল কর্মযজ্ঞ।

এত টাকার সংস্থান কোথা থেকে হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘আমরা ঋন নিয়ে এ ধরনের বড় বিনিয়োগে যাব না। ঋনের ধারণা থেকে সরে আসতে চাই। এটা দেশীয় বিনিয়োগ হতে পারে, ব্যাক্তি কেন্দ্রিক বিনিয়োগ হতে পারে আবার বিশ্ব মার্কেট থেকেও বিনিয়োগ আসতে পারে, সুতরাং ঋন বা সরকারী বিনিয়োগে ঐ প্রকল্প হবে এমনটা আশা করছি না’।

 ভারতের ভুখন্ড ব্যবহারে ও ভারতের আগের মত আপত্তি নেই বলেও জানান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।

 মাহফুজ মিশু

সংবাদ কর্মী, যমুনা টেলিভিশন।

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.