Homeসবুজ ভাবনাধান গমের উৎপাদন কমবে ব্যাপকভাবে:’আইপিসিসি’ ৫ম প্রতিবেদন

ধান গমের উৎপাদন কমবে ব্যাপকভাবে:’আইপিসিসি’ ৫ম প্রতিবেদন

ঢাকা. ৭ আগষ্ট: ২০৫০ সালের মধ্যে ধানের উৎপাদন  ৮%  ভাগ ও গম ৩২% ভাগ নিচে নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আর্ন্তরাষ্টীয় প্যানেল আইপিসিসি এর সদ্য প্রকাশিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে। আরো বলা হয়েছে, একুশ শতকের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা ৪-৬ ডিগ্রি বেড়ে যেতে পারে। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে বাংলাদেশ। এছাড়া বাংলাদেশের মিঠা পানির প্রবাহ ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় হ্রাস পাবে কৃষি উৎপাদন বলে জানিয়েছে জলবায়ু গবেষণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান আইপিসিসি।

অন্যদিকে আবির্ভাব ঘটবে নতুন নতুন রোগের। এর ফলে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তি যেমন কৃষক, জেলে, কাঠুরে এদের ওপর বেশ প্রভাব পড়বে। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা আরো বেড়ে যাবে।

ipcc

এর আগের প্রতিবেদনটিতে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত প্রাকৃতিক অভিঘাত ২০৫০ সাল হতেই দৃশ্যমান হবে বলে জানানো হয়েছিল। নতুন এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,ক্ষতিগ্রস্ত বা ক্ষতির সম্মুখীন দেশগুলো এ সমস্যা একা মোকাবেলার চেষ্টা খুব বেশি সফল হতে পারবে না। তবে দেশগুলো সমন্বিতভাবে সঠিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে এ সমস্যা মোকাবেলা করতে পারবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাবৃদ্ধিজনিত সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে নিচু দেশগুলোকে। এর মূল কারণ বিংশ শতাব্দীতে বিশ্বজুড়ে চালানো বেহিসাবী কার্বন নিঃসরণ। বক্তারা বলেন, দুই একদিনের আইপিসিসির ৫ম রিপোর্টটি সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, ব্যবসায়িক নেতা, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী, এনজিও, সুশীল সমাজ, তরুণ গবেষকসহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

ক্লাইমেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নলেজ নেটওয়ার্কের (সিডিকেএন) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আইপিসিসির পঞ্চম রিপোর্টের প্রধান লেখক জন চার্চ, আইপিসিসির কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান জোনাথন লিন, সিডিকেএন-এর কান্ট্রি এনগেজমেন্ট লিডার ড. এসএম মঞ্জুরুল হান্নান খান প্রমুখ। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার স্বরূপ তুলে ধরেন জোনাথন লিন এবং বাংলাদেশের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন ড. এসএম মঞ্জুরুল হান্নান খান।

লিন বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের ক্রমাগত শিল্পকারখানা বিকাশের কারণে অতিরিক্ত কার্বন নিঃস্বরণ বেড়ে যাচ্ছে। আর এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বেশি নিম্নাঞ্চলের দেশগুলোতে। মানুষ বাড়ছে কিন্তু এর প্রভাবে উৎপাদন কমে যাবে। এ ছাড়া বিশুদ্ধ বা মিঠা পানির অভাব দেখা দেবে। নিম্নাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় শহরমুখী উদ্বাস্তু বাড়বে, প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল জীবন জীবিকার ওপর প্রভাব পড়বে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৯৮৮ সালে গঠিত আইপিসিসি একটি স্বেচ্ছাশ্রমের সংগঠন। ১৯৫টি দেশ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে। সারাবিশ্বের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে এর প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। সংগঠনটির ৪র্থ প্রতিবেদনটি নোবেল জিতেছিল আর এ বছর এর ৫ম প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। হাঙ্গেরীর রাজধানী বুদাপেস্ট এ ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ২৮ তম সভায় আইপিসির এই ৫ম মূল্যায়ন রিপোর্ট প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

 

রফিকুল ইসলাম রবি, সংবাদ কর্মী

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.