Homeসবুজ বিতর্কজলবায়ু অর্থ-ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়ছে: সংবাদ সম্মেলনে টিআই,বি প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান

জলবায়ু অর্থ-ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়ছে: সংবাদ সম্মেলনে টিআই,বি প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান

ঢাকা : জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশ (এ্যানেক্স-১) গুলোর প্রতিশ্রুত ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স ফান্ড যার অর্থব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়ছে। স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতার নিরিখে ঐ সব প্রকল্প পরিচালনায় ত্রুটি তৈরি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ এর প্রধান নির্বাহী ড. ইফতেখারুজ্জামান।

আজ সিরডাপ মিলয়নায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেসব ঝুঁকির নানা দিক তুলে ধরে সংস্থাটির প্রধান জানান, কেবল মাত্র স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলেই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ জনগোষ্ঠী এর সুবিধা পেতে পারে,নতুবা দাতা দেশগুলো এ তহবিল ছাড়ে উদাসীনতা দেখাতে পারে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালক,টিআই,বি

ড. ইফতেখারুজ্জামান
নির্বাহী পরিচালক,টিআই,বি

ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, জলবায়ু কষাঘাত থেকে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রতি বছর ১ বিলিয়ন ডলার বা সমপরিমান অর্থ পাবার কথা বাংলাদেশের। ইতোমধ্যে কিছু অর্থ ছাড় হতে শুরু করেছে এবং কিছু প্রকল্পও  হাতে নেয়া হয়েছে। সেসব প্রকল্পে নিয়মানুযায়ী বিশ্বব্যাংক বা এলজিইডির কর্মকর্তারা ১ বারও সরেজমিন পরিদর্শনে যাননি বলে অভিযোগ এসেছে স্থানীয়দের মধ্যে  । পটুয়াখালীর বাউফলের একটি প্রকল্পের উদাহারণ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে কয়েক দফা অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

১. সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে স্কুল কমিটির সদস্যদের সম্পৃক্ত করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

২. বিশ্বব্যাংক বা এলজিইডির কর্মকর্তারা মাঠে যাননি।

৩. তৃতীয় পক্ষকে সম্পৃক্ত করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না।

ড. ইফতেখারুজ্জামন জানান, সরকারের নিজস্ব জলবায়ু তহবিল ট্রাস্টের টাকা ছাড়াও উন্নত দেশগুলোর ক্ষতিপূরণের এই ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স ফান্ডের মাধ্যমে যেহেতু বড় অংকের টাকার নানান প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে, সেখানে বড় বড় অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এসব অনিয়মের ব্যাপারে সোচ্চার না হলে এই প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড় বা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখাতে পারে দাতা দেশগুলো।

চার দফা সুপারিশ করা হয় টিআইবির পক্ষ থেকে:

১. প্রকল্পের বরাদ্দ আর ব্যায় সর্ম্পকিত যাবতীয় তথ্য জনসমক্ষে উন্মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

২. প্রকল্প গ্রহণের আগে এর প্রকৃত ঝুঁকি আর স্থানীয়দের মতামত বিবেচনায় নিতে হবে।

৩. ঘূর্নিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের সাথে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে নিবিড়ভাবে সর্ম্পক্ত করা,যাতে তারা এর কাজের ব্যাপারে সন্তোষ/অসন্তোষ প্রকাশ করতে পারে।

৪. জলবায়ু তহবিল ব্যবহারের সকল স্তরে সহজে অভিযোগ গ্রহণ আর তার দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থার সুযোগ থাকতে হবে।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,মাঠ পর্যায়ের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কোন কোন ক্ষেত্রে প্রকৃত ঝুঁকির চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাবে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হচ্ছে।

 

মাসুম খান,সাংবাদিক

 

No comments

leave a comment