Homeসবুজ জীবনছুটির গন্তব্য যদি হয় বান্দরবান

ছুটির গন্তব্য যদি হয় বান্দরবান

বান্দরবান, ৩০ সেপ্টেমম্বর:মোহনীয় সৌন্দর্যের আধার পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবন। একবার ঘুরে এলে যেখানে আবারো যেতে মন চায়। আকাশ আর-মেঘ যেখানে ভ্রমন পিপাসু মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। অবারিত সবুজ প্রান্তর যেখানে মিশে যায় মেঘের ভেলায়। মেঘের সাথে পাহাড়ের যেখানে আজন্ম বন্ধুত্ব। প্রকৃতির এমন বন্ধুত্ব যে কারো মন ভালো করে দেবে মুহুর্তেই। পরিবার অথবা বন্ধুদের নিয়ে অবকাশ যাপনে বান্দরবানের মতো আদর্শ জায়গা পাওয়া দুষ্কর। ঘুরে এসে তিন পর্বে বান্দরবান ভ্রমনের আদ্যোপান্ত তুলে ধরছেন তারিকুল হাসান আশিক ।

  স্বর্ণ মন্দির, মেঘলা, নীলাচল : চট্টগ্রাম থেকে ৯২ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে পাহাড়ী শহর বান্দরবান। এর আয়তন ৪৪৭৯ বর্গ কিলোমিটার। প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যের অবারিত সবুজের সমারোহ এবং মেঘে ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে যার আছে সে বাংলাদেশের পাহাড়ী কন্যা বান্দরবান ঘুরে আসতে পারেন। অসংখ্য মনকাড়া জায়গার নিবাস বান্দরবান। মাস খানেক ঘুরে বেড়ালেও অদেখা থেকে যাবে অনেক কিছুই তারপরেও যে জায়গা গুলো না ঘুরলেই নয় এদের মধ্যে নীলগিরি, স্বর্ণমন্দির, মেঘলা, শৈল প্রপাত, নীলাচল, চিম্বুক, সাঙ্গু নদী, তাজিলডং, কেওক্রাডং, জাদিপাই ঝরণা, বগালেক, ঋজুক জলপ্রপাত, নাফাখুম জলপ্রপাত ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য । এছাড়া বান্দরবানে কয়েকটি ঝিরি রয়েছে। যেমনঃ চিংড়ি ঝিরি, পাতাং ঝিরি, রুমানাপাড়া ঝিরি।

যাতায়াতঃ ঢাকা থেকে বান্দরবান সরাসরি নন এসি বাসে যেতে পারেন যার ভাড়া পরবে জনপ্রতি ৬২০টাকা। এস আলম, হানিফ, ইউনিক ইত্যাদি বাস ছাড়ে ফকিরাপুল, কমলাপুর, পান্থপথ, আরামবাগ সহ ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে। এছাড়াও শ্যামলী এবং সেন্টমার্টিন পরিবহনের এসি বাসে করেও সরাসরি যেতে পারেন বান্দরবান যার ভাড়া পরবে জনপ্রতি ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকা। আর যারা ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের জ্যাম এড়াতে চান তারা ট্রেনে করে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম থেকে বাসে করেও যেতে পারেন বান্দরবান। চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে পূরবী এবং পূর্বাণী নামক দুটি ডাইরেক্ট নন এসি বাস আছে যেগুলো ৩০ মিঃ পর পর বান্দরবানের উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতিঃ ৮০-১০০ টাকা।

 কোথায় থাকবেন: বান্দরবান শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে । এদের মধ্যে হোটেল ফোর স্টার (বান্দরবান সদর) সিঙ্গেল ৩০০ টাকা, ডাবল- ৬০০, ট্রিপল ৯০০ টাকা, এসি ডাবল- ১২০০ টাকা। এসি ট্রিপল ১৫০০ টাকা।

হোটেল থ্রী স্টার : এটি বান্দরবান বাস স্টপের পাশে অবস্থিত। নীলগিরির গাড়ী এই হোটেলের সামনে থেকে ছাড়া হয়। এটি ৮/১০ জন থাকতে পারে ৪ বেডের এমন একটি ফ্ল্যাট। প্রতি নন এসি ফ্ল্যাট-২৫০০ টাকা, এসি-৩০০০ টাকা। বুকিং ফোন: থ্রী স্টার এবং ফোর ষ্টার হোটেল মালিক একজন, মানিক চৌধুরী-০১৫৫৩৪২১০৮৯।

 হোটেল প্লাজা বান্দরবানঃ যার ভাড়া সিঙ্গেল ৪০০ টাকা, ডাবল- ৮৫০, এসি ডাবল- ১২০০ টাকা।

বুকিং ফোন: ০৩৬১-৬৩২৫২ হোটেল পূরবীঃ (বান্দরবান সদর) ভাড়া এসি ডিলাক্স ১৪০০ টাকা এবং নরমাল এসি রুম ডাবল ১২০০ টাকা। বুকিং ফোনঃ ০১৫৫৬৭৪২৪৩৪

স্বর্ণমন্দির : বান্দরবানের উপশহর বালাঘাটাস্থ পুল পাড়া নামক স্থানে এর অবস্থান। বান্দরবান জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ৪ কিলোমিটার। সুউচ্চ পাহাড়ের চুড়ার তৈরী সুদৃশ্য এ প্যাগোডা। এটি বুদ্ধ ধর্মালম্বীদের একটি পবিত্র তীর্থস্থান। এখানে দেশ বিদেশ থেকে অনেক বুদ্ধ ধর্মালম্বী দেখতে এবং প্রার্থনা করতে আসেন। এর অপর নাম মহাসুখ প্রার্থনা পূরক বুদ্ধধাতু চেতী। গৌতমবুদ্ধের সম-সাময়িক কালে নির্মিত বিশ্বের সেরা কয়েকটি বুদ্ধ মুর্তির মধ্যে একটি এখানে রয়েছে। প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প নির্মানাধীন রয়েছে। এই প্যাগোডাটি দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার সেরা গুলোর মধ্যে অন্যতম। এই সুউচ্চপাহাড়ের উপর দেবতা পুকুর নামে একটি পানি সম্বলিত ছোট পুকুর আছে।এই প্যাগোডা থেকে বান্দরবানের বালাঘাটা উপশহর ও এর আশপাশের সুন্দর নৈস্বর্গিকদৃশ্য দেখা যায়। এ ছাড়া বান্দরবান রেডিও ষ্টেশন, বান্দরবান চন্দ্রঘোনা যাওয়ার আকাঁবাকাঁ পথ ও দর্শনীয়। এই প্যাগোডা একটি আধুনিক ধর্মীয় স্থাপত্যের নিদর্শন। প্রতিবছর নিদ্দিষ্ট সময়ে এখানে মেলা বসে। এই প্যাগোডা বা জাদীটি স্বর্ণ মন্দির হিসেবেও পরিচিত। এ প্যাগোডাটি পুজারীদের জন্য সারাদিন খোলা থাকে আর ভিন্ন ধর্মাবলী দর্শনার্থীদের জন্য বিকেল ৫ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত খুলে দেওয়া হয় । প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ২৫ টাকা।Sarna Mandir

 অটো রিক্সা অথবা সিএনজি করে যাওয়া যায়। রিক্সা (লোকাল) ২৫-৩৫ টাকা। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত এখানে গাড়ী চলাচল করে।

 মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র : বান্দরবান শহরের প্রবেশদ্বার বান্দরবান কেরাণীহাট সড়কের পাশেই পার্বত্য জেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স অবস্থিত। পাহাড়ের খাদে বাধঁ নির্মান করে কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি করা হয়েছে । বান্দরবান শহর থেকে এর দূরত্ব ৪ কিলোমিটার। বেড়াতে আসা পর্যটকদের চিত্ত বিনোদনের জন্য এখানে রয়েছে শিশুপার্ক, নৌকা ভ্রমনের সুবিধা, ঝুলন্ত সেতুর মাধ্যমে চলাচলের ব্যবস্থা এবং সাময়িক অবস্থানের জন্য একটি রেষ্টহাউস। এছাড়া আকর্ষণীয় একটি চিড়িয়াখানা এ কমপ্লেক্সের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে বহুগুন। মেঘলায় ২টি ঝুলন্ত ব্রিজ রয়েছে। জনপ্রতি ২৫/- মূল্যে টিকেট নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হয়। প্রতি বছর শীতের মৌসুমে সারা দেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক বেড়াতে আসেন। নিরিবিলিতে স্বপরিবারে বেড়ানোর জন্য একটি আদর্শ জায়গা।Bandarban Bridge

যাতায়াত এবং থাকা-খাওয়াঃ মেঘলায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের খাবার ও রাত্রিযাপনের জন্য বান্দরবান শহরে কিছু মাঝারি মানের হোটেল রয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের জন্য খাবার ও রাত্রিযাপনের জন্য পাশেই সু-ব্যবস্থা রয়েছে । মেঘলার পাশেই রয়েছে বান্দরবান পর্যটন মোটেল ও হলিডে ইন নামে দুইটি আধুনিক মানের পর্যটন কমপ্লেক্স। এখানে এসি ও নন এসি রুমসহ রাত্রি যাপন ও উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। ফোনঃ ৬২৯১৯। বান্দরবান বাস ষ্টেশন থেকে মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স যেতে লোকাল বাসে জনপ্রতি ১০-১২ টাকা এবং সিএনজি রিজার্ভ ১০০-১২০ টাকা, এবং ল্যান্ড ক্রোজার, ল্যান্ড রোভার ও চাঁদের গাড়ী ৪৫০-৫০০/- টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে।

বান্দরবনে পর্যটন কর্পোরেশনের একটি হোটেল আছে মেঘলাতে। যার ভাড়া রুম প্রতি ৭৫০ হইতে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। বুকিং ফোন: ০৩৬১-৬২৭৪১ । এছারাও হলিডে ইন (মেঘলা) যার জেনারেল রুম ১০০০ টাকা, নন এসি ১৩০০ টাকা, এসি ১৫০০ টাকা; ফোন:০৩৬১-৬২৮৯৬

 নীলাচল : বান্দরবান জেলা শহেরর নিকটবর্তী পর্যটন কেন্দ্র। এটি জেলা সদরের প্রবেশ মুখ টাইগার পাড়ার নিকট পাশাপাশি অবস্থিত এ পর্যটন কেন্দ্র দুটি। নীলাচল জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ পর্যটন কেন্দ্রটি পরিচালিত হয় । এ পর্যটন কেন্দ্রের উচ্চতা প্রায় ১৬০০ ফুট। বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে এই পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত। এ পাহাড়ের উপর নির্মিত এ দুটি পর্যটন কেন্দ্র থেকে পার্শ্ববর্তী এলাকার দৃশ্য দেখতে খুবই মনোরম।

 যাতায়াতঃ বান্দরবান শহরের বাস ষ্টেশন থেকে জীপ, ল্যান্ড ক্রু জার, ল্যান্ড রোভার ভাড়া নিয়ে যেতে হবে অথবা বান্দরবান শহরের সাঙ্গু ব্রীজের কাছে টেক্সি ষ্টেশন থেকে সিএনজি ভাড়া নিয়ে নীলাচল ও শুভ্রনীলায় যেতে পারেন । জীপ, ল্যান্ড ক্রুজার, ল্যান্ড রোভার ৬০০-৭০০/-, সিএনজি ৩৫০/- মত নিয়ে থাকে।

রেস্ট হাউজ বুকিং: ০৩৬১-৬২৬০৫, ০১৭১৪২৩০৩৫৪, ০১৭১২৭১৮০৫১। তাছাড়া সেখানে থাকতেও পারেন যার রুম ভাড়া পরবে ২৫০০ টাকা।

স্বর্ণমন্দির, মেঘলা এবং নীলাচল এই তিনটি স্পট খুব কাছাকাছি হওয়াতে সারাদিন সি এন জি রিসার্ভ করেও ঘুরতে পারেন এগুলোতে। রিজার্ভ সি এন জি ৮০০-৯০০ টাকার মতো নিবে ।

 তারিকুল হাসান আশিক, সংবাদ কর্মী

[email protected]

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.