Homeসবুজ বিতর্কগঙ্গা নদীতে নতুন করে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি বাপার

গঙ্গা নদীতে নতুন করে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি বাপার

ঢাকা,২১ অক্টোবরঃ নতুন করে গঙ্গা নদীতে ১৬টি বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী নদীগুলোর সকল প্রকার অবকাঠামো অপসারণের দাবি জানিয়েছে বাপা সহ অন্যান্য পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি হল রুমে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) ও পিপলস সার্ক ওয়াটার ফোরাম বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, “অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সুবিধা প্রাপ্তির লক্ষ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এলাহাবাদ থেকে হলদিয়ার ১৬শ কিলোমিটার দীর্ঘ গঙ্গা-হুগলির ওপর প্রতি একশ কিলোমিটার পর পর মোট ১৬টি বাঁধ নির্মাণ করতে যাচ্ছে। ওই বাঁধগুলো নির্মিত হলে গঙ্গার পানি প্রবাহে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। যার প্রভাব আমাদের দেশেও পড়বে।”গঙ্গা চুক্তি ১৯৯৬ সাল থেকে বলবৎ থাকার পরও প্রতি শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশ তার ন্যায্য হিস্যার পানি পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. মো.আব্দুল মতিন আরও বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের নদী, প্রকৃতি, অর্থনীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে গঙ্গাসহ সকল অভিন্ন ও অভ্যন্তরীণ নদী জলাশয় সংরক্ষণ করা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু এ কাজটিতে মনে হচ্ছে তেমন আগ্রহ নেই।”

ড. এস আই খান বলেন, “ফারাক্কা বাঁধ এবং অন্যান্য বাঁধ তৈরির জন্য, আগে বাংলাদেশ যে পরিমাণ পানি পেত এখন তার ১০ ভাগের ১ ভাগও পায় কি না তাতে সন্দেহ আছে। গঙ্গা নদীর ওপর প্রায় ৪শ টির মত ছোট-বড় বাঁধ রয়েছে। নতুন করে যদি ১৬টি বাঁধ নির্মাণ হয় তাহলে নদী আর নদী থাকবে না।”

নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন নিয়ে সমস্যা থাকার পরও দক্ষিণ এশিয়ার কোনও দেশ জাতিসংঘ প্রণীত আন্তর্জাতিক পানি প্রবাহ আইনে স্বাক্ষর করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশে প্রায় ৫ লাখ নলকূপ রয়েছে এবং প্রতি বছর ৫ মিলিমিটার করে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। এভাবে নদীর পানি কমতে থাকলে বাংলাদেশের নিচের স্তরের পানি দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাপা’র নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক এ এম মুয়াজ্জেম হোসেন, বেনের সদস্য ড. মাহমুদুর রহমান।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.