Homeসবুজ বিতর্ককয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-সরকার উন্নত প্রযুক্তির কথা বলে ধাপ্পাবাজি করছে

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-সরকার উন্নত প্রযুক্তির কথা বলে ধাপ্পাবাজি করছে

ঢাকা,১৯ আগস্ট  : কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত এক আলোচনা সভা থেকে সরকারের বিরুদ্ধে ধাপ্পাবাজির অভিযোগ তোলা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘সরকার উন্নত প্রযুক্তির কথা বলে ধাপ্পাবাজি করছে। সুপারক্রিটিকাল প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও কয়লার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশ তো বাঁচবে না। বন ধ্বংস হবে, নদী যাবে, দেশ যাবে।’ একইসঙ্গে নিজেরা বাঁচতে, পরিবেশ বাঁচাতে নবায়ণযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও জোর দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘পৃথিবীকে বাসযোগ্য করতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে।’

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির গোলটেবিল মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিভিন্ন জনের বক্তব্যে এসব বিষয় উঠে আসে।

‘নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ব্যবহার-উপযোগী পরিবর্তন- বর্তমান অবস্থা!’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ
পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

সংগঠনটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রেনডিস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. সাজিদ কামাল। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পাওয়ার সেলের সাবেক মহা-পরিচালক প্রকৌশলী বি ডি রহমতউল্ল্যাহ, বাপার সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আব্দুল মতিন, ইডকলের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজমুল হক ফয়সাল, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রহিমা আফরোজের কর্মকর্তা কাজি আহমেদ ফারুকসহ জ্বালানী বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, গবেষক, পরিবেশবিদ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

ড. সাজিদ কামাল তার বক্তব্যে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির নানা সম্ভাবনার দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য একটি অত্যাশ্চার্য ভূমি। এখানে সৌর, বাতাস পানিসহ সব উপাদান সহজলভ্য।’

সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমরা পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড করছি। কয়লা, যাকে বলা হচ্ছে ডার্টি অ্যানার্জি তার ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। পরিবেশ-প্রতিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফল পাচ্ছি। প্রকৃতিও আমাদের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে। বিশ্বব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে। সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) হয়েছে। এখন সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট (এসডিজি) নিয়ে কথা হচ্ছে। এতে ক্লিন অ্যানার্জির ওপর জোড় দেয়া হচ্ছে। আামাদেরও এ বিষয়ে এগোতে হবে। নবায়ণযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে হবে।’

বি ডি রহমতউল্ল্যাহ বলেন, ‘এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ে না। তারা নিজেদের সুবিধার জন্য ফসিল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুতের বাইরে আসতে চায় না। সরকার পলিসি করে কিন্তু তার বাস্তবায়ন করে না। সরকার পরিবেশকে ধ্বংস করতেই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যবহার বাড়িয়ে চলছে। বিশেষ আইনে ভারতকে হাজার হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ দেয়া হচ্ছে, যেখানে ভারতেই এ ধরনের প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলন হচ্ছে। সরকার উন্নত প্রযুক্তির কথা বলে ধাপ্পাবাজি করছে। সুপারক্রিটিকাল প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও কয়লার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশ তো বাঁচবে না। বন ধ্বংস হবে, নদী যাবে, দেশ যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বলা হয় উন্নয়নবিরোধী। এটা ভুল। আমরা চাই উন্নয়ন হোক। বিদ্যুৎ লাগবে। তবে তা অবশ্যই পরিবেশকে ক্ষতি করে নয়।’

অন্যান্য বক্তারা বলেন, দেশ সোলার হোম সিস্টেমে সফল হয়েছে। দেশে ৩০ লাখ সোলার হোম সিস্টেম হয়েছে। অন্যান্য উৎসের দিকেও নজর দিতে হবে। বিকল্প জ্বালানির সকল সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয়ে সরকারকে আরও উদ্যোগী হতে হবে।

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.