Homeসবুজ কৃষিকেজিতে কৃষকের লোকসান ৬ টাকা !

কেজিতে কৃষকের লোকসান ৬ টাকা !

নীলফামারী, ১৬মেঃ বোরোর ভরা মওসুমে নীলফামারীর কৃষকেরা ধান নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠানো তো দূরের কথা গুণতে হচ্ছে লোকসান। প্রতি কেজি ধানে কৃষকের লোকসান হচ্ছে প্রায় ছয় টাকা।

চলতি বোরো মওসুমে নীলফামারী জেলায় ৮২ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করেছে কৃষকেরা। ফলনও হয়েছে আশাতীত। উৎপাদন হয়েছে তিন লাখ ৫১ হাজার ২৩৮ টন চাল। ব্রি-২৮ জাতের ধানের বিঘা প্রতি গড় ফলন হয়েছে ১৮ মণ। উচ্চ ফলনশীলসহ বিভিন্ন জাতের ধানে বিঘা প্রতি গড় ফলন হয়েছে ২৫ মণ।

এদিকে, গত মওসুমে হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর সর্বস্ব বিনিয়োগ করেও আলুর দাম পায়নি কৃষকেরা। বাজারে দাম ও ক্রেতা না থাকায় অনেক কৃষক জমি থেকে আলু উত্তোলনও করেননি। আবার কেউ কেউ পুঁজি উঠাতে খুলনা, ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহরে আলু নিয়ে গিয়েও বিক্রি করতে পারেননি। সেখানেই আলু ফেলে দিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন তারা। অনেককেই জমি বিক্রি করে পরিবহন খরচ মেটাতে হয়েছে।

নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ধানের ফলন বাড়াতে কৃষক ক্ষেতের পরিচর্যায় অনেক বেশী শ্রম বিনিয়োগ করে। এছাড়াও বীজ, জমি তৈরি, চারা রোপন, আগাছা নিড়ানী, কীটনাষক প্রয়োগ, কর্তন ও মাড়াইয়ে প্রতি কেজি ধান উৎপাদনে ব্যয় হয় প্রায় ১৮ টাকা। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতি কেজি ধান বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে সাড়ে ১২ টাকায়। অর্থাৎ কেজি প্রতি কৃষকের লোকমান হচ্ছে ছয় টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মোঃ গোলাম ইদ্রিস বলেন, নীলফামারী একটি খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা। এখানকার কৃষক অত্যন্ত সচেতন ও পরিশ্রমী। জমিও উর্বর। ধান কাটা-মাড়াইয়ের শুরুতে সরকারি উদ্যোগে উৎপাদনের সঙ্গে সমন্বয় করে ধান কেনা হলে কৃষককে  লোকসান গুণতে হবে না।

সবুজপাতা প্রতিবেদক

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.