Homeসবুজ বিতর্ককৃষি প্রণোদনা পেলেন ইউপি সদস্য–স্বজনেরা

কৃষি প্রণোদনা পেলেন ইউপি সদস্য–স্বজনেরা

সবুজপাতা ডেস্ক,১১ ফেব্রুয়ারীঃ  ভোলায় রবি মৌসুমের কৃষি প্রণোদনা পেয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য, তাঁদের আত্মীয়স্বজন, ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও অন্য পেশার লোকজন। সরেজমিন ও জেলা-উপজেলার উন্নয়ন সভায় এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কৃষি প্রণোদনা উত্তোলন তালিকা চাইলে ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামসুল ইসলাম তথ্য দেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দেন। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলে তিনি কৃষকদের তালিকা পাইয়ে দেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ২০ শতাংশ প্রকৃত কৃষক নীতিমালা অনুসারে প্রণোদনা পেয়েছেন। বাকিরা অন্য পেশার।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ভোলার সাত উপজেলায় ১৭ হাজার ১৭৫ জন কৃষকের মধ্যে রবি কৃষি প্রণোদনার গম, ভুট্টা, ফেলন ও খেসারি বীজ ও পরিমাণমতো সার বিতরণ করা হয়েছে।

গ্রামে গ্রামে গিয়ে কৃষি প্রণোদনা উত্তোলন তালিকার নাম পড়ে শোনালে কৃষকেরা জানান, উত্তোলনকারীরা হচ্ছেন সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউপি সদস্য (সংরক্ষিত ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার) জ্যোৎস্না বেগম, তাঁর বাবা নুরুল ইসলাম, ভাই সুমন ও আলম, ননদ ফাতেমা বেগম, বোন পারুল বেগম, চরসামাইয়্যা ইউপি মেম্বার খাদিজা বেগমের স্বামী জামাল উদ্দিন ওরফে ভুট্টু মেম্বার, তাঁর বাবা আবদুর রশিদ, বেয়াই মো. জাহাঙ্গীর ও আলমগীর, বেয়াইন সুরাইয়্যা, ছেলে মো. নুরনবী, মো. সেলিম, একই ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বজলুর রহমান, তাঁর ভাই কুয়েতপ্রবাসী মো. মোতাহার হোসেন, আবুল কাশেম ও বিদেশফেরত ছেলে মো. হাসান।

আলীনগর ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সফিক হাওলাদার নিজেকে কৃষক দাবি করে বলেন, ‘আমি ১০টি কার্ড পেয়েছি। একটি নিজে রেখে নয়টি অন্যদের মধ্যে বিতরণ করেছি।’

উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চরচন্দ্র প্রসাদ গ্রামের ধান ব্যবসায়ী মো. কামাল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার পল্লিচিকিৎসক মো. আবুল হোসেন, জেলে আবদুল লতিফ মোল্লা, ফোরকান মোল্লা, শহিদুল মোল্লা, আবদুল বারেক শিকদার, কাঠ ব্যবসায়ী জলিল খানসহ প্রায় ৯০ শতাংশ অন্য পেশার মানুষ। পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের সদুরচর গ্রামের চায়ের দোকানি আবদুস সহিদ, রিকশাচালক মো. ফরিদ, সবজি ব্যাপারী মো. জাফর, কাঠমিস্ত্রি ওসমান গনি, জেলে আবদুল মোতালেব, রাজমিস্ত্রি আবুল কালাম, ইটভাটার শ্রমিক মো. ছালাউদ্দিন, প্রতিবন্ধী মো. জসিমসহ ৬০ শতাংশ অন্য পেশার লোক। আলীনগর ইউনিয়নের সাচিয়া গ্রামের মহুরি আবু সুফিয়ান, মুদি দোকানি মো. হান্নান, গ্রাম পুলিশ গিয়াস উদ্দিন, ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন, শিক্ষক মো. হাতেম, কলেজ কর্মচারী মো. ছালেম, শ্রমিক মো. তুহিনসহ ৫০ শতাংশ অন্য পেশার লোক। কৃষক না হয়েও তাঁরা প্রণোদনা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সদর উপজেলার ভেলুমিয়ার সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন ফরাজী কৃষক না হয়েও দুবার সারবীজ তুলেছেন। ইউপি সদস্য ও দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রণোদনা কার্ড বিতরণ খরচের নামে ২০০ টাকা বা তার বেশি গ্রহণ, একই পরিবারের একাধিক ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে কার্ড বিতরণের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতা তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রথমে অস্বীকার করেন। তবে উত্তোলন তালিকায় নাম দেখানোর পর কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন, এগুলো কৃষকদের মধ্যেই দেওয়া হয়েছে।

ভেলুমিয়া ইউপির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম মাল, আলীনগর ইউপির চেয়ারম্যান বশির আহমেদ, চরসামাইয়া ইউপির চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মাতব্বর চেয়ারম্যান দাবি করেন, প্রকৃত কৃষকদের মধ্যেই প্রণোদনা কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। হয়তো ২০ শতাংশ এদিক-সেদিক হতে পারে, তবে ৮০ শতাংশ প্রকৃত কৃষক প্রণোদনা পেয়েছেন।

ইউনিয়নে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র রায়, আরিফুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ইউনিয়ন কৃষি পুনর্বাসন কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান এবং সদস্যসচিব উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা। কৃষক তালিকা করার সময় সভাপতি এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের যাচাই-বাছাইয়ের কোনো সুযোগ দেন না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রামেন্দ্র বাড়ৈ বলেন, ‘কৃষি ও কৃষক পুনর্বাসনে স্বচ্ছতা আনার জন্য আমরা আরও কঠোর হব।’

জেলা প্রশাসক মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘আমি উপজেলা নির্বাহী ও কৃষি কর্মকর্তাদের বলেছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে। ভবিষ্যতে যাতে শুধু প্রকৃত কৃষকেরাই প্রণোদনা পান, তার চেষ্টা করব

Post Tags
No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.