Homeসবুজ কৃষিআমন ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি

আমন ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি

রাজশাহী, ১৩ সেপ্টেম্বর: চলতি বছর আমনে পার্চিং লগ, লাইন পদ্ধতিতে জেলা জুড়ে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এই বছর জেলার আমনের লক্ষ্য মাত্রার ১ তৃতীয়াংশ এই পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে।

এতে একদিকে যেমন কীটনাশক ব্যবহার না করে পোকা দমন করা হচ্ছে, অন্যদিকে ধৈঞ্চে গাছের পাতা লতা পড়ে জমিতে জৈব সার তৈরি হয়ে জমিতে উর্বরতা হচ্ছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছর জেলা জুড়ে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭২ হাজার ৩২৬ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ৬৬ হাজার ২৬২ হেক্টর জামিতে পার্চিং লগ, লাইন পদ্ধতিতে আমন চাষাবাদ হয়েছে।

তাছাড়া আগামী বছর এ পদ্ধতিতে শতভাগ জমিতে এ পদ্ধতি ব্যবহার করবেন বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে আমন ক্ষেতে মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো, ঘাসফড়িং, লেদাপোকা প্রভৃতি নানা ধরণের পোকামাকড় আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে বলে কৃষিবিদরা জানিয়েছেন।

তানোর উপজেলা মুন্ডুমালা ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শমসের আলী জানান, আমন ক্ষেতে আক্রান্ত পোকামাকড় দমনে কৃষকরা বাজার থেকে চড়ামূল্যে রাসায়নিক কীটনাশক সংগ্রহ করে প্রয়োগ করেন। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন কৃষকরা। এই উপায় থেকে কৃষকদের বাঁচাতে পোকামাকড় দমনে রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগের পরিবর্তে পার্চিং পদ্ধতির প্রতি কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে চলছেন।

তিনি আরো জানান, ক্ষেতের পোকামাকড় দমনের এই কৃষিবান্ধব একটি পদ্ধতি হচ্ছে পার্চিং পদ্ধতি। পোকামাকড় দমনে মূলত দুই ধরণের পার্চিং পদ্ধতি রয়েছে। এর একটি হচ্ছে ‘লাইভ পার্চিং’ (ক্ষেতে ধৈঞ্চে গাছ লাগানো)। অপরটি হচ্ছে ডেড পার্চিং (ফসলের ক্ষেতে গাছের ডাল কিংবা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দেয়া)।

উপজেলার মুণ্ডমালা আয়ড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল বারী জানান, তিনি এবার ১০ বিঘা জমিতে আমন চাষাবাদ করেছেন। এর মধ্যে ৮ বিঘায় পার্চিং পদ্ধতিতে আমন চাষ করে সামান্য কীটনাশক ব্যবহার করেই এর ভালো ফলাফল পাচ্ছেন।

পাঁচন্দর গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা জানান, তিনি এবার ৮ বিঘা জমিতে আমন চাষাবাদ করেছেন। এরই মধ্যে প্রথমেই তিনি আমনের বীজ তলায় ধৈঞ্চের বীজ বপন করেন। আমন বীজের সঙ্গে সঙ্গে এটিও যথাযথ ভাবে বেড়ে উঠেছে। এতে সেই ধৈঞ্চে গাছের উপর পাখি বসে পোকামাকড় খাচ্ছে। তাছাড়া ধৈঞ্চে গাছের পাতা আমন ক্ষেতের জমিতে ঝরে পড়ে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে জৈব সার।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন জেলার তানোর, গোদাগাড়ী, উপজেলার কিছু অংশ ঘুরে দেখা গেছে আমন ক্ষেতে পার্চিং অর্থাৎ ধৈঞ্চের গাছর বিঘাতে ১০ থেকে ১২ টা পর্যন্ত রয়েছে। এছাড়াও অনেক জমিতে লগ, লাইন করে রাখা হয়েছে। একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে তাদের অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়। তাই কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার তারা আমনে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছেন।

তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার জানান, এ পদ্ধতির ফলে অনেক কৃষক কম কীটনাশক ব্যবহার করে অধীক ফলন পাচ্ছেন, সেই সঙ্গে জমিতে ধৈঞ্চের পাতা লতা পড়ে জমির উর্বরতা বাড়ছে।

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.