Homeসবুজ বিতর্কশীতলক্ষ্যায় বাড়ছে দূষণ- দেখার কেও নেই

শীতলক্ষ্যায় বাড়ছে দূষণ- দেখার কেও নেই

নরসিংদী,১০ মার্চঃ হাজারো পরিবারের জীবন ও জীবিকার নদী শীতলক্ষ্যা। শীতলক্ষ্যার তীর কে ঘিরেই গড়ে উঠেছে নানা ব্যবসায় বাণিজ্য। গড়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ, কাপাসিয়া ও বরমী বাজারের মতো নদী বন্দর । কিন্তু দূষণের কবলে পরে যৌবনা এই নদী মরতে বসেছে আজ । বিভিন্ন শিল্পকারখানার বর্জ্য ক্রমশই কেড়ে নিচ্ছে  শীতলক্ষ্যার প্রান । বাড়ছে দূষণ আর এ যেন দেখার কেও নেই। 

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প গ্রুপ প্রাণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, ঘোড়াশাল সার কারখানা, পলাশ সার কারখানা, দেশবন্ধু সুগার মিল, সেভেন রিংস সিমেন্ট, তাইহিও সিমেন্ট, কাজী সিমেন্ট, সেমরি ডাইং, বাংলাদেশ জুট মিল, জনতা জুট মিল, ফৌজী জুট মিল, ক্যাপিটাল পেপার মিলসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিষাক্ত বর্জ্য এই নদীতে ফেলা হচ্ছে।

Narsingdi River pic 1

নরসিংদীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যা নদীটি এক সময় ছিল ব্যবসা বাণিজ্যের মূল চালিকা শক্তি। নদী পথে যোগাযোগ ও ব্যবসা বাণিজ্যসহ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা ছিল এই নদীর। নদী পাড়ের কৃষি জমিগুলো ছিল ফসলে ভরা। নদীতে ছিল প্রচুর দেশীয় প্রজাতির মাছ।

তবে দীর্ঘদিন ধরে নদীর দুই পাড়ে অবস্থিত শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষিত হয়ে কালচে হয়ে গেছে। ফলে বিপন্ন হয়ে পড়েছে জীব বৈচিত্র। আর বেকার হয়ে পড়েছে অনেক জেলে পরিবার।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রাণ গ্রুপ শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে মাটি ভরাট করে নদী দখল করে কারখানার পরিসর বৃদ্ধি করছে। নদীর অনেকটা অংশ এরই মধ্যে দখল করে ফেলেছে তারা। এসব দখলের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন থেকে শুরু করে সন্ত্রাসী বাহিনী সহায়তা করছে। শুধু দখল নয় প্রাণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ব্যবহার না করে সরাসরি বর্জ্য ফেলছে এই নদীতে।

এছাড়া শীতলক্ষ্যা দূষণের জন্য প্রাণ গ্রুপ থেকে দফায় দফায় জরিমানাও আদায় করে পরিবেশ অধিদফতর। তারপরও বন্ধ হয়নি তাদের বর্জ্য ফেলা।

স্থানীয় বিরিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসুদ খান বলেন, ‘শীতলক্ষ্যা নদী এখন উন্নয়নের বলি। নরসিংদী ও গাজীপুরের নদী পাড়ের শিল্পকারখানার সব বর্জ্য ফেলার স্থান হচ্ছে এই নদী।’

মাঝি সমীর চন্দ্র দাস বলেন, ‘আগে এই নদীতে গোসল করা যেত। মাছ পাওয়া যেত প্রচুর। জেলেরা নদীর মাছ বিক্রি করে সংসার চালাতো। এখন নদীর পানি এতটাই দূষিত হয়েছে যে, এখানে মাছ তো দূরের কথা বিষাক্ত সাপও টেকে না।’

সান্তানপাড়া গ্রামের মিনা রানি দে ও শিপ্রা রানি বর্ধনের অভিযোগ, শিল্পপতিরা নদী ধ্বংস করছে। নদীর সঙ্গে শেষ হচ্ছে ক্ষেতের ফসল, মাছ ও এলাকার পরিবেশ। ভবিষ্যতে নদীর পারে মানুষ বসবাস করতে পারবে না।

নদী দূষণের ব্যাপারে জানতে চাইলে ক্যাপিটাল পেপার অ্যান্ড পাল্প ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) অরবিন্দ মিত্র বলেন, ‘নদী দূষণ যাতে না হয় সেজন্য আমরা বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ব্যবহার করি। তবে বিভিন্ন কারণে শতভাগ নদী দূষণ রোধ করা যায় না। আমরা চেষ্টা করছি যাতে শতভাগ নদী দূষণ মুক্ত রাখা যায়।’

এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদফতরের নরসিংদী কার্যালয়ের সিনিয়র কেমিস্ট আতাউর রহমান বলেন, ‘একাধিকবার জরিমানা আদায় ও নিষেধাজ্ঞার পরও যদি শিল্পগ্রুপগুলো শীতলক্ষ্যা নদীতে বর্জ্য নিক্ষেপ করা বন্ধ না করে তাহলে পুনরায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সূত্রঃবাংলা ট্রিবিউন

আসাদুজ্জামান রিপন, সংবাদকর্মী, নরসিংদী 

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.