Homeসবুজ অর্থনীতিহরতাল অবরোধে চিংড়ি শিল্পেও নেমেছে ধস

হরতাল অবরোধে চিংড়ি শিল্পেও নেমেছে ধস

সাতক্ষীরা,৩ ফেব্রুয়ারী: হরতাল অবরোধে অন্যান্য শিল্পের মতো ধস নেমেছে চিংড়ি শিল্পেও। দাম কমে যাওয়ায় মাথায় হাত উঠেছে সাতক্ষীরার চিংড়ি চাষীদের । মাছ বিক্রি করে খরচের অর্ধেকও তুলতে পারছেন না তারা। বিদেশি বাজার মন্দার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মত ঘের মালিকদের।

সরকারি হিসাবে সাতক্ষীরায় ছোট বড় মিলিয়ে ৬১ হাজার চিংড়ি ঘের রয়েছে। এ বছর জেলায় চিংড়ির উৎপাদন প্রায় ২২ হাজার ৬০৭ মেট্রিক টন। তবে দাম না পেয়ে চাষীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

???????????????????????????????

অন্যদিকে, যারা মাছ হিমায়িত করতে চায় তারাও হরতাল অবোরধে কারণে পারছে না। গত বছর কেজি প্রতি বাগদা বিক্রি হত ১২শ থেকে ১৩শ টাকা। আর এ বছর প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে মাত্র তিন থেকে চারশ টাকা। তাও অনেক সময় ক্রেতাদের কাছে বাকিতে বিক্রি করতে হচ্ছে।

জেলা চিংড়ি চাষী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ঘের মালিক ড. আবুল কালাম বাবলা জানান, দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চল সাতক্ষীরা জেলা। এ জেলাকে মানুষ সমৃদ্ধশালী জেলা বলে। কারণ সাতক্ষীরাতে আছে মৎস সম্পদ বিশেষ করে চিংড়ি সম্পদ দেশের মধ্যে যে সমস্ত জায়গায় চিংড়ি উংপাদন হয় বিশেষ করে খুলনা সাতক্ষীরা বাগেরহাট কক্সবাজার, তারমধ্যে সিংহভাগ চিংড়ি সাতক্ষীরা জেলাতে উৎপাদন করা হয় এবং এর রপ্তানিকৃত আয় সরাসরি সরকারের রাজস্বখাতে যোগ হচ্ছে। যা দেশের উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে।

সাতক্ষীরায় গত ২০১৪ সালে আমরা দেখেছি চিংড়ির দামছিল ১ হাজার থেকে ১৩শ টাকা। বর্তমানে সেই চিংড়ির দাম নামতে নামতে ৫শ থেকে ৪শ বা ৩শ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। এমনকি চাহিদা থাকা সত্ত্বেও হরতাল অবরোধের কারণে চিংড়ি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। কারণ হিসেবে দেখা গেছে বিশ্ববাজারে চিংড়ি চাহিদা থাকলেও নানা কারণে চিংড়ির দাম কমে গেছে। এভাবে যদি চিংড়ির উপর আঘাত আসে ও চিংড়ি চাষ ব্যহত হয় তাহলে এ জেলার সব সম্ভাবনা চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে। চাষীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

images হাজার হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ চিংড়ি শিল্পের সঙ্গে জড়িত আছে। এ শিল্প না বাঁচলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষগুলো বেকার হয়ে যাবে। যে কারণে বিদেশে মাছ রপ্তানি হচ্ছে না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখে চাষীদের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা করে সরকার তাহলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। সেইসঙ্গে সাতক্ষীরা কয়েক হাজার শ্রমিক বেকারত্ব থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়া সাতক্ষীরার মাছ ব্যবসায়ীরা লাগাতার হরতাল অবোরধের কারণে জেলার বাইরে তাদের মাছ বিক্রি করতে পারছে না। সে জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

আরও কয়েকজন ঘের মালিক জানান, পানির দামে মাছ বিক্রি করায় সর্বশান্ত হয়ে যাচ্ছি। ঘের বেচে দিলেও এ ক্ষতি পোষাতে পারবো না। যে টাকা খরচ করে মাছ চাষ করি তার অর্ধেক দামও পাচ্ছি না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। চিংড়ি চাষ বন্ধ হয়ে গেলে এরপর কী করবো ভেবে পাচ্ছি না।

কয়েক জন মাছ ব্যবসায়ী জানান, হরতাল অবরোধ এভাবে চলতে থাকলে আমরা চিংড়ি ব্যবসায়ীরা পথে বসে যাবো। ব্যাংক থেকে ঋণ ও কর্মচারীর বেতন পরিশোধ করতে পারবো না। কারণ বিদেশে তো মাছ পাঠানো যাচ্ছে না। আবার দেশের অন্য কোনো জেলায়ও বিক্রয় করতে পারছি না। ব্যাংক ঋণ নিয়ে আমাদের এ ব্যবসা করতে হয়। হরতাল অবোরধের কারণে মাছ বিক্রি করতে না পারলে দেউলিয়া হয়ে যাবো।

কয়েক জন কর্মচারী বলেন, আমরা বুঝতে পারছি মালিক মহাজনের লস (লোকসান) হচ্ছে। তারপরও আমাদের বেতন ঠিকমতো দিচ্ছে কিন্তু এভাবে কত দিন দিবে। মাছ বিক্রি না হলে এরপর আমাদের কাজ থাকবে না। আমরা তখন কী করবো। সংসার চলবে কীভাবে।

সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু জানান, পানির দামে মাছ বিক্রি করায় সর্বশান্ত হচ্ছে চিংড়ি চাষীরা। বর্তমান সংকট সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

জেলা মৎস কর্মকর্তা আব্দুল অদুদ জানান, রাশিয়া ডিসেম্বর থেকে কোনো মাছ কিনছে না আবার ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের মুদ্রার দরপতন ঘটায় এবং মাছ কেনার জন্য নতুন নিয়ম করায় নতুন ও পুরাতন নিয়মের ঝামেলা থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুত আশার আলো দেখতে পাবে চাষীরা।তারা বিদেশি বাজারের এ সংকট কাটিয়ে তুলতে হরতাল-অবরোধ বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সবুজপাতা প্রতিবেদক

No comments

Sorry, the comment form is closed at this time.